প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুতে তারকাদের প্রতিক্রিয়া

ইমরুল শাহেদ : সঙ্গীতের কিংবদন্তি এন্ড্রু কিশোর লিম্ফোমা ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ দশ মাস যুদ্ধের পর ৬ জুলাই সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় রাজশাহীতে তার বোনের হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই জনপ্রিয় শিল্পীর মৃত্যুতে সামাজিক, রাজিৈতক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। সঙ্গীত পরিচালক আলম খানের গানের মাধ্যমে তিনি সঙ্গীতাঙ্গনে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন।

তার ক্যারিয়ারের শেষ গানও তিনি গেয়েছেন আলম খানের এক সময়ের প্রধান সহকারী ও পরে সঙ্গীত পরিচালক হওয়া ফরিদ আহমেদের সুরে। এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুতে আলম খান বলেন, ‘এন্ড্রু’র মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। প্রথম সিনেমার গান করার পর থেকে আমাদের কত স্মৃতি, সবই চোখের সামনে ভেসে উঠছে। কিন্তু মুখ ফুটে কিছুই বের হচ্ছে না।’ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গায়িকা রুনা লায়লা ফেসবুকে এক শোক বার্তায় বলেন, ‘ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সংগীত অঙ্গনের এক বলিষ্ঠ মানুষকে বিদায় জানাচ্ছি। যাকে মেলোডিয়াস কণ্ঠ ও হৃদয়ে ঝড় তোলা গান অমর করে রাখবে।

আগামী প্রজন্মকে তিনি অনুপ্রেরণা দিয়ে যাবেন।’ অভিনেতা শাকিব খান তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী, প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গন একজন লেজেন্ডকে হারালো। এ ক্ষতি কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।’ তিনি আরো লেখেন, ‘যেখানেই থাকবেন ভালো থাকবেন রোমান্টিক গানের মাস্টার ভয়েস। এমন গুণীজনের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।’ অভিনেত্রী জয়া ফেসবুকে লেখেন, এন্ড্রু কিশোর আমাদের দেশের সংগীত জগতের একটি অধ্যায়ের নাম। তার ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়েছেন দয়াল আমারে’, ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যিখানে’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’- প্রভৃতি গান আমাদের মনে গেঁথে থাকবে চিরদিন।’ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র প্রায় প্রতিটি পর্বে নতুন নতুন গান নিয়ে হাজির হতে দেখা যেত এন্ড্রু কিশোরকে।

অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক হানিফ সংকেত লিখেকেছন, ‘এন্ড্রু কিশোর আর নেই, প্রিয় বন্ধুর মৃত্যু সংবাদটি নিজের হাতে এত তাড়াতাড়ি লিখতে হবে কখনো কল্পনাও করিনি। এই মুহূর্তে কানে বাজছে রাজশাহী থেকে বলা কিশোরের শেষ কথাগুলো- ‘দোয়া করিস বন্ধু, কষ্টটা যেনো কম হয়, আর হয়তো কথা বলতে পারবো না।’ গায়ক আসিফ আকবর স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘১৯৯৮ সালের প্রথমবার এন্ড্রু দাদার সঙ্গে আমার সরাসরি দেখা হয়। উনি শ্রæতি রেকর্ডিং স্টুডিও-১ গান রেকর্ডিং করছিলেন, আমি ছিলাম শ্রæতি স্টুডিও-২ -এ। দাদা আমাকে আগে থেকেই চিনতেন। রেকর্ডিং শেষে বললেন, তুমি অনেক দূর যাবা। লেগে থাক।’ আসিফ বলেন, ‘দাদা সবসময় আমাকে রাগ কমাতে বলতেন। তার চলে যাওয়ায় ইন্ডাস্ট্রিতে খুব বড় ধরনের এক ক্ষতি হয়ে গেল।

যেটা আর পূরণ হবে না। এখন আমাদের উচিৎ তাকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা। তার কাজ ও স্মৃতি সংরক্ষণ করা।’ এন্ড্রু কিশোরের মৃত্যুতে স্মৃতির ডালা খুলে দিয়েছেন অনেক শিল্পীই। এরমধ্যে একেবারে আলাদা কিছু তথ্য দিলেন এই প্রজন্মের অন্যতম শিল্পী সানিয়া সুলতানা লিজা। তিনি জানান এন্ড্রু কিশোরের রান্নার খবর। আফসোস করেই বলেন, ‘দাদার হাতের মজার রান্না আর খাওয়া হবে না।’ লিজার ভাষ্যে, ‘দাদা আর আমরা কয়েকজন মিলে একটি সবজির বাগান করেছিলাম। দাদার হাতে লাগানো গাছে টমেটো, লাউ আর শসা ধরেছে! এসব দেখে দাদা আর আমার সে কী আনন্দ! তারপর সেই বাগানের সবজি দাদা নিজেই তুললেন। নিজ হাতে মাছ দিয়ে রান্না করলেন। আমরা সবাই খুব মজা করে খেলাম।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত