প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বিপিএসএমটিএ’র মামলা; মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগে ধীরগতি

ওমর ফারুক : [২] করোনাভাইরাস শনাক্তকরণসহ রোগ নির্ণয়ে কাজ করেন মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা। অথচ এই মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ১১ বছর ধরে নিয়োগ নেই। বাংলাদেশ এখনও কোভিড-১৯ রোগের নমুনা পরীক্ষায় প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে পিছিয়ে আছে৷ বর্তমানে বিভিন্ন পর্যায়ের হাসপাতালে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদ রয়েছে ৭ হাজার ৯২০টি। কিন্তু আছেন ৫ হাজার ১৮৪ জন। ২ হাজার ৭৩৬টি পদে কোনো লোকবল নেই। যা প্রতি ১০ হাজার মানুষের বিপরীতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কাজ করছে ০.৩২ জন। আর ল্যাব টেকনোলজিস্টের দুই হাজার ১৮২টি পদের মধ্যে এক হাজার ৪১৭ জন কর্মরত আছেন৷ নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজটি করেন ল্যাব টেকনোলজিস্টরাই। ফলে বর্তমানে করোনাভাইরাসের এই সংক্রমণের মধ্যে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে মোট ১৭টি ল্যাবরেটরিতে দিনে সাড়ে চার হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করার সক্ষমতা থাকলেও করা সম্ভব হচ্ছে না পর্যাপ্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের অভাবে।

[৩] গত মাসে স্বাস্থ্য অধিদফতর সারাদেশের সকল জেলা, উপজেলা ও সদর হাসপাতাল গুলো থেকে কর্মরত ও শুন্যপদের মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের হিসেব চাওয়া হয়। স্ব স্ব জেলা সিভিল সার্জন তিন দিনের মধ্যে তা পূরণ করে স্বাস্থ্য অধিদফতরে প্রেরণ করেন। অথচ ১ মাস পেরিয়ে গেলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এখনো পর্যন্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগের ব্যাপারে কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি। ২০১৩ সালের মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের দায়ের করা মামলার সমাধান হলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ৮ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৩১ অক্টোবর ২০১৯ সালে মামলা দায়ের করে বেকার অ্যান্ড প্রাইভেট সার্ভিসেস মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএমটিএ)। যার কারণে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ আরো পিছিয়ে গেল।

[৪] বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদ (বিএমটিপি) এর সাধারণ সম্পাদক জনাব মো. আশিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে যে পরিস্থিতি তাতে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কাজটি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কারণ একটাই; আর তা হলো, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট একেবারেই কম। ২০০৮ সালের পর এ পদে কোনো নিয়োগ হয়নি। এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিপিএসএমটিএ’র মামলার কারণে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সাথে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটা দূরত্ব সৃষ্টি হইছে। যার কারণে নিয়োগ আসতে এত কালক্ষেপণ। আজ যদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিপিএসএমটিএ’র মামলাটা না হতো তাহলে মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা ২০১৩ সালের নিয়োগ সহ করোনা মহামারিতে বিশাল একটা সার্কুলার পেত। গত ৮ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রশাসন-১ অধিশাখার উপসচিব খন্দকার জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ১২০০ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের ছাড়পত্র দিলেও তার এক সপ্তাহ পার হলেও স্বাস্থ্য অধিদফতর মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি। শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ১৮৩ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে নিয়োগ দেওয়া হয়। আরো ১০১৭ জন সহ সকল শুন্যপদে নিয়োগ দিতে তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরকে আহ্বান জানান।

[৫] তিনি আরো বলেন, মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের প্রারম্ভিক বেতন স্কেল ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার ফাইলটি এখনো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। অথচ দেশের সকল ডিপ্লোমা সনদধারী সরকারি কর্মকর্তারা ১০ম গ্রেডে উন্নীত হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে শুধু মেডিকেল টেকনোলজিস্টরাই পিছিয়ে পরে আছে। এই করোনা মহামারিতে যদি মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয় তাহলে মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা আরো উজ্জিবিত হয়ে করোনাভাইরাস মোকাবিলার যুদ্ধে উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করে করোনা মুক্ত দেশ গড়বে। সম্পাদনা : খালিদ আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত