শিরোনাম
◈ হরমুজ প্রণালী নিয়ে পাল্টাপাল্টি ব্ক্তব্য, কোন পথে সমাধান ◈ গভীর রাতে লাইভ: সংসদ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ (ভিডিও) ◈ ৬০ হাজার টন ডিজেল আসছে মালয়েশিয়া থেকে ◈ বৈশাখে ইলিশ আকাশছোঁয়া, সবজিতেও আগুন: মধ্যবিত্তের পান্তা-ইলিশ এখন স্বপ্ন ◈ সাতটি আইডি দিয়ে ছড়ানো হয় ভিডিও, হামলার নেতৃত্বে ছিলেন রাজনৈতিক দলের নেতা ◈ মাত্র এক ইঞ্চি দূরে থাকা চুক্তি শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যায়: আরাগচি ◈ সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজি: সাবেক যুবদল নেতা মঈনসহ গ্রেপ্তার ৭ ◈ প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবনে থাকছে সুড়ঙ্গ ও টানেল যা বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে পরিবারকে সুরক্ষা দেবে ◈ ইরানে নতুন করে হামলার চিন্তা ট্রাম্পের, দাবি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ◈ আবারও রিয়াল মাদ্রিদে ফিরছেন টনি ক্রুস

প্রকাশিত : ০৫ জুন, ২০২০, ১১:০১ দুপুর
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২০, ১১:০১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] এন-৯৫ মাস্ক কেলেংকারিসহ স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে দুদক

আবুল বাশার নূরু : [২] স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি বন্ধের জন্য সাঁড়াশি অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেই সঙ্গে করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন সময় কেনা সুরক্ষা সামগ্রীর ক্রয়সংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়েও কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি।

[৩] করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এন-৯৫ মাস্ক ও পিপিই (পারসোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট) ক্রয়সংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। যার জন্য এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকেও আমলে আনা হচ্ছে। এর পাশাপাশি এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদনও সংগ্রহ করবে দুদক। বাংলানিউজ

[৫] ডিবিসি জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ভুয়া এন নাইনটি ফাইভ মাস্ক সরবরাহ করে চিকিৎসক-নার্সদের ঝুঁকিতে ফেলেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড।

[৬] গোয়েন্দা প্রতিবেদনসহ একাধিক মাধ্যমে এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এ অভিযোগ অনুসন্ধানে আগামী রবি বা সোমবার অনুসন্ধান টিম গঠন করতে পারে সংস্থাটি।

[৭] আমেরিকার তৈরি এন-নাইনটি ফাইভ মাস্কের মতো করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা আর কোনো মাস্ক দিতে পারে না। দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় এই এন নাইনটি ফাইভ মাস্ক দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জেএমআই পায় মাস্ক সরবরাহের কাজ।

[৮] সরবরাহ পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ঔষধাগার রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালসহ কয়েকটি হাসপাতালে ওই মাস্ক পাঠায়। কিন্তু চিকিৎসকরা এগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিলেও তার বিষয়বস্তু নিয়ে কথা বলতে চান না তদন্ত কমিটির প্রধান।

[৯] এমন অবস্থায় এন নাইনটি ফাইভ মাস্ক কেনাকেটায় দুর্নীতির গোয়েন্দা তথ্য আসে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকে। আরও কিছু মাধ্যমেও কেনাকাটায় দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েছে সংস্থাটি।

[১০] এন নাইনটি ফাইভ মাস্ক কিনতে সরকার একশো কোটি টাকা বরাদ্দ করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএমআই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ভুয়া এন নাইনটি ফাইভ মাস্ক সরবরাহ করেছে বলে গোয়েন্দা ও অন্যান্য সূত্রে জানতে পেরেছে দুদক। এছাড়া, সরবরাহ করা মাস্ক মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় তৈরি করা হয় এবং মহামারীর সুযোগে ভুয়া মাস্ক তৈরি করে এন নাইনটি ফাইভের প্যাকেটে চালিয়ে দেয়া হয়। দুদক বলছে, দুর্নীতির প্রমাণ মিললে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

[১১] বাংলানিউজ জানায়, এছাড়া কমিশনের অভিযোগকেন্দ্র হটলাইন ১০৬ এ স্বাস্থ্যখাতের বেশ কিছু কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেগুলোর বিষয়েও কমিশনের গোয়েন্দা ইউনিটকে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ কমিশন সার্বিক এসব কেনাকাটার বিষয়গুলো অনুসরণ করছে। এর বাইরেও বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

[১২] এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, মাস্ক বা পিপিইর মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী যা চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীদের জীবনের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত। সে সব অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে এবং দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশন গঠিত প্রাতিষ্ঠানিক টিমও কাজ করেছে।

[১৩] এর আগে ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে দুর্নীতির ১১টি খাত চিহ্নিত করে, তা প্রতিহতের জন্য মন্ত্রণালয়ে ২৫ দফা সুপারিশ করে দুদক। প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্রয়, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিৎসা দেওয়া, চিকিৎসায় ব্যবহৃত ইকুপমেন্ট ব্যবহার, ওষুধ সরবরাহসহ বিভিন্ন দুর্নীতির উৎস চিহ্নিত করা হয়। এসব উৎস বন্ধে দুদকের করা সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- তথ্য বহুল সিটিজেন চার্টার প্রদর্শন, মালামাল রিসিভ কমিটিতে বিশেষজ্ঞ সংস্থার সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে ইজিপি টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বেসরকারি হাসপাতাল স্থাপন ও অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজস্ব স্থায়ী চিকিৎসক বা কর্মচারী ও কার্যনির্বাহী কমিটি ইত্যাদি রয়েছে কি-না এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়া, কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলির নীতিমালা প্রণয়ন, চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রে ওষুধের নাম না লিখে জেনেরিক নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা; ইন্টার্নশিপ এক বছর থেকে বাড়িয়ে দুই বছর করা এবং বর্ধিত এক বছর উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে থাকা বাধ্যতামূলক করা, চিকিৎসকদের (সরকারি/বেসরকারি) পদোন্নতির জন্য সরকারি চাকুরেদের ক্ষেত্রে পিএসসি এবং বেসরকারিদের ক্ষেত্রে মহাপরিচালক (স্বাস্থ্য) এবং পিএসসির প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে সুপারিশ দেওয়া যেতে পারে।
[৭] দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, গত বছর কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক টিমের একটি প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, এ প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হলে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতি-অনিয়ম প্রতিরোধ করা সহজ হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়