প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দেশ ও মানবতার সেবায় সর্বদা অনন্য ভূমিকা রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: পুলিশ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম

সুজন কৈরী : [২] মো. জাহাঙ্গীর আলম। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পিওএম-পশ্চিম বিভাগে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হিসেবে কর্মরত ও ত্রিমাত্রিক-৩০ বিসিএস অফিসার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত এ সদস্য ৩০তম বিসিএস-এর মাধ্যমে ২০১২ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে আট বছর ধরে দায়িত্বরত এ কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ সম্পর্কে উপলদ্ধি এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোভিড-১৯ এর মহামারি মোকাবিলায় পুলিশের রয়েছে প্রশংসনীয় ভূমিকা।

[৩] দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে বর্তমান সমাজের চিত্রই ফুটে উঠেছে অকুতোভয় সম্মুখযোদ্ধা পুলিশের প্রতিটি সদস্যের পেশাগত দায়িত্ব পালনসহ সামাজিক ও মানবিক সকল কার্যক্রমের মাধ্যমে। জনতার পাশে পুলিশের এরকম প্রশংসনীয় ভূমিকা ও মানবিক নানামুখী উদ্যোগ সমাজে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জল করেছে। পুলিশের প্রতিটি সদস্য শক্তি ও সাহস নিয়ে দেশের এই পরিস্থিতিতে জনসেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

[৪] তিনি বলেন, ২০১২ সালের ৩ জুন, ৩০তম বিসিএস (পুলিশ) এর মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করি। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তোলা রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের বাঙালি পুলিশ সদস্যরা থ্রি নট থ্রি রাইফেল হাতে বুকে অসীম সাহস নিয়ে নিজেদের জীবন বাজি রেখে গড়ে তুলেছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধ।

[৫] দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে করোনা মহামারি মোকাবেলায় সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে পুলিশের প্রত্যেক সদস্য কোনো প্রকার প্রশিক্ষণ ছাড়াই এবং সুরক্ষা সামগ্রীর অপেক্ষা না করে অসীম সাহস বুকে নিয়ে আবারও পেশাগত দায়িত্ব পালন ও মানবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন নানামুখি মানবিক ও সামাজিক সকল কার্যক্রমের মাধ্যমে। পুলিশ সদস্য হিসেবে এই সম্মুখযোদ্ধাদের একজন হতে পেরে আমি নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করছি। বাংলাদেশ পুলিশের একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে ৯ম বর্ষে পদার্পন এবং অকুতোভয় সম্মুখযোদ্ধা পুলিশ সদস্যদের পেশাগত, সামাজিক ও মানবিক সকল কার্যক্রমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে দেশ ও মানবতার সেবায় সর্বদা অনন্য ভূমিকা রাখতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

[৬] রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীতে এক বছর মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণে প্রাপ্ত জ্ঞান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। সেইসঙ্গে ৩০ বিসিএস বিভিন্ন ক্যাডার বন্ধুদের পারস্পরিক সহযোগিতা, পেশাগত সমন্বয় ও সু-সম্পর্ক কাজে উৎসাহ সৃষ্টি ও বন্ধুত্বের জায়গাটি সুদৃঢ় করেছে।

[৭] বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের সুপরামর্শ ও অনুপ্রেরণা দেশ প্রেমে আমাদের উদ্বুদ্ধ করছে, কর্মস্পৃহা ও মনোবল বৃদ্ধি করছে। এছাড়াও অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলা ‘অংশীদারিত্ব-পেশাদারিত্ব-সমৃদ্ধি’ ভাবনা নিয়ে ‘ত্রিমাত্রিক-৩০ বিসিএস অফিসার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ এর কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলা ও সামাজিক সব কার্যক্রমে ৩০তম বিসিএস বন্ধুদের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা আমাদের উজ্জীবিত করেছে।

[৮] বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য হিসেবে রাষ্ট্র ও জনগণের কাছে আমার দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা আমাকে পরিশীলিতভাবে কাজ করার উৎসাহ যোগিয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকার প্রধানসহ পুলিশের যুগোপযোগী পদক্ষেপ ও উৎসাহ সৃষ্টি, পুলিশকে আধুনিক ও সৃষ্টিশীল করছে প্রতিনিয়ত। ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার’ যা কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় অকুতোভয় সম্মুখযোদ্ধা পুলিশ সদস্যরা পেশাগত, মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশ ও জনগণকে নিরাপদ রাখতে নিজেদের জীবন বাজি রেখে জনসেবায় উজ্জল দৃষ্টান্ত রেখেছেন এবং সর্বমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

[৯] করোনায় জনতার পাশে পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা ও স্বীকৃতি, পুলিশের প্রতিটি সদস্যের মনোবল বৃদ্ধি করেছে এবং তাদেরকে নতুন উদ্যমে কাজ করার উৎসাহ সৃষ্টিসহ উজ্জীবিত করছে প্রতিনিয়ত। পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষমতা অনুযায়ী সুরক্ষা সামগ্রী দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে নিয়মিতভাবে। এছাড়াও বর্তমান সরকার প্রধান ও আইজিপির নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, ইমপাল্স হাসপাতাল ও বিভিন্ন ফিল্ড হাসপাতাল, আধুনিক ও মানসম্পন্ন আইশোলেসন এবং কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিক করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।

[১০] আমি মনে করি, বর্তমানে দেশের এই পরিস্থিতিতে ও বাস্তবতার আলোকে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য টেকসই কর্মউদ্দীপনা কর্মপরিকল্পনা এবং পুলিশ সদস্যদের কর্মক্ষেত্রে টেকসই স্বাস্থ্য ও পারিবারিক নিরাপত্তাসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি সময়ের দারি রাখে। এছাড়াও জনসচেতনতা এবং সামাজিক নিরাপত্তায় যুগোপযোগী, আধুনিক সমন্বিত প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোগত ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা-টেকসই উন্নয়নের প্রধান প্রভাবক হতে পারে।

সর্বশেষ