প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] গর্জনিয়াতে প্রধান মন্ত্রীর উপহার নিয়ে নয়-ছয়

হাবিবুর রহমান : [২] নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জনজীবন যখন বিপর্যস্ত হওয়ার উপক্রম, ঠিক সেই সময়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫০ লাখ পরিবারের জন্য ২৫০০ টাকা করে মোট ১হাজার ২৫০ কোটি টাকার বরাদ্ধ ঘোষণা দিয়েছেন।

[৩] সরকারের ধারনা প্রতি পরিবারের ৪জন সদস্য ধরে নগদের মাধ্যমে এই সহায়তার সুবিধা পাবে প্রায় দুই কোটি মানুষ। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক এই সহায়তা দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন,উপজেলা প্রশাসন,ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য,শিক্ষক এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে উক্ত কমিটির মাধ্যমে তালিকা প্রণয়ন করার কথা।

[৪] অভিযোগ আছে, রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেই নিয়ম নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মেম্বার এবং নিজের চামচাদের মাধ্যমে এই তালিকা প্রণয়ন করেন। শুরু থেকে এই তালিকা নিয়ে এলাকার জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

[৫] জানা গেছে, গর্জনিয়ার বেশ কিছু ওয়ার্ডে এই তালিকা নিয়ে চরমভাবে দূর্ণীতি হয়েছে। নিম্ন এবং মধ্যবিত্তদের পরিবর্তে এই তালিকায় স্থান পেয়েছে সমাজের অনেক বিত্তবানদের নাম। যেটি জানাজানি হওয়ার পরে পুনঃতদন্তের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রায় ২শ জনের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে বাধ্য হন। কিন্তু ভিতরেও রয়ে গেছে ভিন্ন ধরণের দূর্ণীতি।

[৬] যেটির প্রমান মিলেছে শনিবার ওই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বিতর্কিত মেম্বার আব্দুল জব্বার তালিকা দেখে। সে থোয়াংগেরকাটা স্টেশনে দোকানে টাঙ্গিয়ে দেন এই তালিকা। এই তালিকা দেখে তালিকায় স্থান পাওয়া বেশ কয়জনে অভিযোগ করেন, সিরিয়ালঃ৮০২-নুরু জাহান, ৮০৩-নাজিম উদ্দিন, ৮০৭-মোঃইসমাইল রাশেদ, ৮০৯-মহিদুল আলম, ৮১১-জহিরুল হক এবং সিরিয়ালবিহীন জেবুন্নিচ্ছার নাম, বাবার নাম, NID নাম্বার ঠিক থাকলেও তাদের নামের পাশের মোবাইল নাম্বার গুলো কার সেই বিষয়ে তারা জ্ঞাত নয়।

[৭] তারা দাবি করেন তালিকায় নামের পাশে দেওয়া মোবাইল নাম্বারগুলো তাদের নয়। অথচ নগদের মাধ্যমে এই মোবাইল নাম্বারগুলোতেই টাকাগুলো আসার কথা। কিন্তু এসব নাম দিয়ে এই টাকাগুলো কারা নিচ্ছে?। স্থানীয়দের ধারনা, এই তালিকায় এমন আরো অনেক নামই থাকতে পারে। সচেতন মহল জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছেন।

[৮] এব্যাপারে আবদুল জব্বার মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করা হলে, অভিযোগের দায় স্বীকার করে বলেন, এসব প্রধান শিক্ষক শামসুল আলমের ভুলের কারনে হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোন, ০১৮৬৩১১৩৩৫৫ নাম্বারে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ