প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লকডাউন সরকারি কোষাগারের অর্থ বিনিয়োগ করে কার্যকর রাখতে হয়, এই সামর্থ্য এবং নীতি বর্তমান সরকারের নেই

আব্দুল হাই সঞ্জু : করোনা মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলো যেসব উদ্যোগ নিচ্ছে, বাংলাদেশও একই ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। কেউ যাতে অভিযোগ করতে না পারে, অন্য দেশগুলো ‘এই করছে, সেই করছে, বাংলাদেশ তো তা করছে না’। তফাৎ শুধু এক জায়গায়, যা করা উচিত বাংলাদেশ তা যেমন করছে, যা করা উচিত নয় তাও করছে। ফলে মানুষ বিভ্রান্ত এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। আবার উন্নত বিশ্বের মতো অনেক কিছু করলেও বাংলাদেশ কিছু কিছু পদক্ষেপের নাম বদলে দিচ্ছে। যেমন : ‘লকডাউন’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত না করে বর্তমান অবস্থাকে সরকার নাম দিয়েছে ‘সাধারণ ছুটি’ ‘ইদের ছুটি’ ইত্যাদি। এর কারণ নিয়ে বিশ্লেষণ হচ্ছেনা। এখানে সরকারের একটা চালাকি কিম্বা দুর্বলতা লুকায়িত আছে। সেটি হল লকডাউন হিসাবে সংজ্ঞায়িত করলে সরকারকে এই খাতে অনেক বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। লকডাউন সরকারি কোষাগারের অর্থ বিনিয়োগ করে কার্যকর রাখতে হয়। এই সামর্থ্য এবং নীতি বর্তমান সরকারের নেই।

 

এজন্য ‘ছুটি’ হিসেবে সংজ্ঞায়িক করে বেকারত্ব ও অনুৎপাদনশীলতার এই সময়ের ব্যয়ভার বহনের বোঝা সরকার নাগরিকদের ওপরই ছেড়ে দিল। এদিকে, দল বেঁধে গাদাগাদি করে লাইন ধরে করোনা টেস্টের নিয়ম চালু করে তীব্র সমালোচিত হয়ে শেষ পর্যন্ত এপয়েন্টমেন্টের নিয়ম চালু করেছে সরকার। উন্নত বিশ্বে শুরু থেকেই এপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিক ছিল। কমনসেন্স কাজে লাগালে বাংলাদেশও শুরু থেকে একই কাজ করতে পারত। কারণ, করোনা বিষয়ক উপদেশের জন্য শুরু থেকেই সরকার হটলাইন চালু করেছিল। তখন যদি একই সাথে ওই একই পরিসেবার সাথে এপয়েন্টমেন্ট করার সুযোগ করে দেওয়া হতো তাহলে এই লেজেগোবরে অবস্থা হতো না। আরেকটা ডেভেলপমেন্ট হল ‘মুভমেন্ট পাস’। উন্নত বিশ্ব যেখানে করোনা রোগী/সুস্থ লোকদের চলাচল মনিটর করার জন্য কন্টাক্ট ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস করছে, সেখানে বাংলাদেশ চালু করেছে ‘মুভমেন্ট পাস’। দুইটা কিন্তু ভিন্ন জিনিস।

 

মুভমেন্ট পাস হচ্ছে, সরকারি ছুটিতে (লকডাউনে নয়) বাইরে যাওয়ার অনুমতি গ্রহণ করা। এটা ভালো উদ্যোগ। পুলিশের জন্য রাস্তা-ঘাটে মানুষদের দৌড়ের উপর রাখতে সুবিধা হবে (অবশ্য, পাস না থাকলে ঘুষ দাবি না করলেই হয়)। ‘চোরের মনে পুলিশ পুলিশ’ অনুভূতি না থাকলে আমি-কোথায় যাচ্ছি, কেন-যাচ্ছি তা পুলিশ জানলে আমার সমস্যা হওয়ার কথা না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, সরকার এই সেবাটি গ্রহণ করছে মোবাইল কোম্পানিগুলোর সাথে যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। মোবাইল কোম্পানিগুলো নাগরিকদের এই ডাটা কি নিজেদের কাছে রেখে দেবে? বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করবে? নাকি এই ডাটা তারা ধ্বংস করতে বাধ্য থাকবে? করোনা রোগী/সুস্থ লোকদের কন্টাক্ট ট্রেসিং না করে মুভমেন্ট পাস চালুর নামে জমজমাট ডাটা ব্যবসা হবে না তো? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত