প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সবাই কেমন আনিস স্যারের ‘চলে যাওয়া’ নিয়ে কথা বলছেন, বলুক না, স্যারকে যেতে দিলে তো!

সওগাত আলী সাগর : আমানত হল থেকে বেরিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়াতেই দেখি সবাই কেমন যেন ত্রস্তব্যস্ত হয়ে রেলস্টেশনের দিকে যাচ্ছে। দলে দলে ছাত্ররা যাচ্ছে কোথায়? হঠাৎ নুরুচ্ছফা ভাইকে দেখে জানতে চাই, কোথায় যান? সবসময় হাস্যরসে মেতে থাকা নুরুচ্ছফা ভাই (আমানত হল ছাত্রলীগের সেই সময়কার নেতা, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে তার রুমে গিয়ে উঠেছিলাম) গম্ভীরভাবে কী যেন একটা ইশারা করলেন। তার পিছু পিছু হাঁটতে শুরু করি। খানিকটা গিয়ে টের পাই সবাই আসলে রেলস্টেশনে যাচ্ছে না, টিচার্স ক্যাম্পাসের দিকে যাচ্ছে।

 

টিচার্স ক্যাম্পাসে একটি বাসার সামনে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর জমায়েত, কেউ দাঁড়িয়ে আছে, কেউ বসে আছে, কেউ বাসাটার সামনে রাস্তায় শুয়ে পড়েছে। কারও কারও হাতে সাদা কাগজে হাতে লেখা পোস্টার, যাবেন না আনিস স্যার। ততোক্ষণে জেনে যাই, এটা ড. আনিসুজ্জামানের বাসা। তিনি ঢাকায় চলে যাবেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আর থাকছেন না। স্যার যেন ঢাকা চলে না যান, সে জন্য তার বাসার সামনে অবস্থান নিয়েছে ছাত্রছাত্রীরা। না কেবল যে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরাই সেখানে আছে তা নয়, আমার মতো অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও এসে অবস্থান নিয়েছে আনিস স্যারকে ধরে রাখতে। অন্য অনেকের সঙ্গে আমি রাস্তায়ও বসে যাই।

 

বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়, রাত গভীর হয়। ছাত্রদের জটলাটা বাড়তেই থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লোকজন, অন্যান্য শিক্ষকরাও সেখানে এসে জড়ো হন। শিক্ষার্থীদের কিছুতেই সরানো যায় না। গুঞ্জন থেকে টের পাওয়া যায়, স্যারও সম্ভবত তার সিদ্ধান্ত পাল্টাতে চাচ্ছেন না। অনেক রাতে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বারান্দায় এসে ঘোষণা দেন, স্যার মত পাল্টিয়েছেন, তিনি যাচ্ছেন না। তুমুল হর্ষধ্বনিতে দেলোয়ার স্যারের ঘোষণাকে স্বাগত জানায় শিক্ষার্থীরা, চোখেমুখে বিজয়ের অভিব্যক্তি নিয়ে হলে ফিরে সবাই, সেই বিজয় আনিস স্যারকে ধরে রাখতে পারার বিজয়। এতোগুলো বছর পর সবাই কেমন আনিস স্যারের ‘চলে যাওয়া’ নিয়ে কথা বলছে। বলুক না, স্যারকে যেতে দিলে তো। সবাই মিলে তার বাসার সামনে অবস্থান নেবো না আমরা। সমস্বরে সবাই মিলে বলবো, যাবেন না আনিস স্যার। এতো মানুষের ভালোবাসা উপেক্ষা করার শক্তি কি স্যারের হবে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত