প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মৃত্যুর মিছিল কমেছে কিন্তু থামেনি

বিপ্লব কুমার পোদ্দার: লক্ষ লক্ষ মৃত্যুর মিছিল নিয়ে পৃথিবী আজ বেসামাল করোনা যুদ্ধে। তবে থেমে থাকেনি মানুষ রুপী অমানুষের কর্মকান্ড। পৃথিবীর হাতেগোনা কয়েকটি দেশ ছাড়া কম বেশি সবাই ব‌্যার্থ। এমনকি যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রও ব‌্যার্থ হয়েছে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে। আর তার মূল্য দিতে হয়েছে দেশে দে‌শে মানুষকে আত্মাহুতি দিয়ে। আবার এনিয়ে কিছু কিছু রাষ্ট্র প্রধান প্রতিদিন এক প্রেস ব্রিফিং এর চাকরি নিয়েছেন তার ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে। আর এই সুযোগে বিরোধী দলকে নিস্তব্ধ করে দেয়ার এর অপচেষ্টার অ‌ভিযোগও উঠ‌ছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট তো এটা হাতিয়ার করে সম্ভব হলে আগামী নির্বাচন ও জিততে চান, সেটা হয়তো সময় বিচার করবে।

তবে একথা ঠিক, চীন এই মহামারীর জন্য দায়দায়িত্ব এড়াতে পারে না। তারা যদি উহানের মধ্যে করোনাকে আটকাতে পারলো তবে কেন বাকি পদক্ষেপ গ্রহণ করলোনা? এটা কি অনিচ্ছাকৃত ভুল নাকি ইচ্ছাকৃত ভুল করে নতুন কোনো ব্যবসা বাণিজ্য বের করে কোনো নতুন ফন্দি? কারণ দেখা যাচ্ছে তারা বি‌ভিন্ন দেশের পু‌জিবাজা‌রে দাম প‌ড়ে যাওয়া শেয়ার কিনে নিচ্ছে। যেটা অর্থনৈতিক ভারসাম্যের জন্য মোটেই ভালো নয়। আমি করোনা মহামারীর জন্য চীনের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

করোনা যুদ্ধে বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী যেভাবে লড়াই করছেন তার স্বল্প সম্পদ নিয়ে তা কিন্তু কম কিছু নয়।তবে দুঃখ লাগে কেন আরো আগে থেকে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো না, কারণ মে মাস কিন্তু আমাদের দেশের জন্য ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে, তাই সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে এই বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য। আরো বেশি কষ্ট হয় যখন দেখি হাতে গোনা কয়েজন ছাড়া তেমন কোনো এম পি , মন্ত্রী বা নেতাদের উপস্থিতি দৃশ‌্যমান নয়। আবার খোকন সাহার নিথর দেহ সি‌ড়ি‌তে প‌ড়ে থাকার ঘটনা প্রমান করে দেশে এখনো সব মানুষ হারিয়ে যায়নি, বেঁচে আছে খোরশেদের মতো লোক অথবা নিজামুদ্দিনের মতো লোক। এছাড়া কিছু ভালো অফিসার বেরিয়ে এসেছেন সে হন প্রশাসন বা পুলিশ বাহিনী বা যেকোনো শ্রেণীর হোক। এমনকি সৈকত যে দলেরই হোকনা কেন, সে তার বিলাসী জীবন রেখে যেভাবে ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাড়িয়েছে সেটাই প্রমান করো এটাই বাংলাদেশ যেখানে কোনো জাত বা ধর্ম কোনো বিষয় হতে পারেনা।

আমি যতটা না চিন্তিত এই মহামারী নিয়ে , আমি তার চেয়ে অনেক বেশি চিন্তিত আগামীদিনের অর্থনীতি নিয়ে। চীন হয়তো তার দায়িত্ব হীনতায় অনেক ব্যবসা বাণিজ্য হারাবে পৃথিবী ব্যাপী যেটা শুরু করতে পারে নতুন এক অর্থনীতির পরিমন্ডল। তবে বাংলাদেশ যদি এই প্রতিযোগিতায় দাঁড়াতে চায় তবে তাকে নতুন কিছু করে দেখতে হবে, যেটা পারেন একমাত্র বর্তমান প্রধান মন্ত্রী। আজ দরকার বাংলাদেশে জাতীয় সরকার , যেখানে থাকবে যোগ্য লোকের অবস্থান, থাকবে না বর্তমান এই সুযোগসন্ধানী রাজনীতি ব্যাবসায়ী। যদি মনে করেন আমার এই দাবিতে ভেবে দেখতে পারেন। আর একটি অনুরোধ রইলো, তাহলো আপনার ভাগ্য কিন্তু তেমন ভালো নয়, যেমন যেকোনো খারাপ কিছুর দায় দায়িত্ব আপনার ঘরে এসে পরে যদিও সেটা হওয়া উচিত নয়। তাই ডাক্তার জাফরউল্লাহ সাহেবের বিষয়টা আপনি নিজেই দেখুন,
ভালো কাজের প্রশংসাও কিন্তু আপনি পাচ্ছেন যেমন, আপনি সাবেক প্রধান মন্ত্রীকে মুক্তি দিয়েছেন, দেখলেন তো পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে কি ধরণের স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাই ভালো কিছু করলে , উদারতা দেখলে তার মৃত্যু হয়না, হয় স্মরণীয় ।

যোগ্য লোক সঠিক জায়গায় থাকলে আগামী দিনের জন্য বেগ পেতে হবে না। আর একটা অনুরোধ করছি বিবেচনার জন্য , তাহলো বিদেশে পাচার হওয়া টাকা দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসার সুযোগ করে দেয়া ।সেটা হতে পারে তারা সরকারি ব্যাঙ্ক এ দশ বছরের জন্য বিনা সুদে টাকা রাখা এবং ব্যাঙ্ক সেই মূলধনটা বিভিন্ন শিল্পে এবং কাঁচামাল রপ্তানিতে ঋণ দিবে ।আর সুযোগ হিসেবে তাদের আর কোনো বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে না। একইসাথে অর্থ পাচারের বিষয় প্রচারণা বাড়াতে হবে , সেমিনার করতে হবে, কারণ অধিকাংশ লুকিয়ে পাচার হওয়া টাকা না তারা ভোগ করতে পারে অথবা তাদের সন্তানরা ভোগ করতে পারে।তাই চুরি বা পাচার করে অন্য দেশকে ধনী বানাবার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব আছে বলে মনে হয় না।
ভারতের ওষুধ সামগ্রী প্রদানকে অভিনন্দন জানাচ্ছি একই সাথে আগামীতে আর কোনো সেনাবাহিনী পাঠাবার মতো কোনো প্ল্যান থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করছি। এমনকি আপনাদের দেশে বাঙালির উপর যে অন্যায্য ব্যবহার চলছে সেটাও বন্ধ করুন। মমতা ব‌্যানার্জীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে পাঠিয়ে কোনো উপকার হবে না, তার আগে ত্রিপুরার বিপ্লব দেবের কেলেঙ্কারির তদন্ত সহ বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

শিংলাজী বাংলাদেশে এসে অনেক বড় কাজ করে গেছেন, কিন্তু সবটাই বিফলে। আন‌তে পারলেন না মোদীজিকে বাংলাদেশে। ধর্মের কল বাতাসে নাড়েঠ আপনি যেভাবে বাস্তবিক বিরোধী দলের সাথে মিটিং না করে দৃষ্টতা দেখিয়ে‌ছে সেটার তারা সুযোগ নিতে পারবেনা , কারণ সেই ধরণের যোগ্য নেতৃত্ব এখন আর ওই দলে নেই। আর যা আছে তাদের একটু ব্যাবসা অথবা আপনাদের ওখানে গেলে একটু ওই ধরণের আদর যত্ন করলে সব তারা আপনাদের এই ব্যবহারের কথা ধুয়ে মুছে ফেলবে। আপনার দেশের ভিতর পানির সমস্যা নিয়ে আমি ব্যাথিত, কিন্তু আমি আপনাদের জল চাইনি , আমরা চাইছি আমাদের ন্যায্য হিস‌্যা।যেভাবে আপনারা চীনের কাছ থেকে যে যুক্তিতে জল চাইছেন সেই একই যুক্তিতে আমরাও আপনাদের কাছ থেকে পানি চাইছি। বন্যা থেকে মুক্তি বাদে আর কোনো ভাবে বাঁধ তৈরী করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এটা টা যদি মনে রাখেন ভালো হয়। আপনারা আমাদের মুক্তি যুদ্ধের অংশীদার , আমরাও আপনাদের অর্থনীতির এবং নিরাপত্তার অংশীদার।

এবার আসা যাক জাতিসংঘের শক্তিশালী অনুরোধ প্রসঙ্গে। আপনাদের এই শক্তিশালী অনুরোধ এবার বার্মা , ভারতসহ অন্য দেশে করুন আর বাংলাদেশ থেকে রোহিংগা ফেরত নিয়ে বার্মায় তাদের সম্মানজনক ভাবে প্রতিষ্ঠিত করুন তবেই আপনাদের জাতি সংঘের মূল নীতি প্রতিষ্ঠিত হবে।

মেডিকেল পরিবারের যারা করোনা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি রইলো আমার আমরণ শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা। বাঙালি মুক্তিপাক সকল ষড়যন্ত্র থেকে, মুক্তি পাক সকল নির্যাতিত মানুষ পৃথিবীব্যাপী।

লেখক: বিপ্লব কুমার পোদ্দার,লন্ড‌নে বসবাসরত আইনজী‌বি ও সমাজকর্মী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত