প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনা ও মিডিয়া অ্যাডভোকেসি

মো. সামসুল ইসলাম : পেশাদার ও প্রশিক্ষিত সাংবাদিক বা সোশ্যাল বা মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টরা জানেন কীভাবে কোনো নির্দিষ্ট ইস্যুতে বার্তা তৈরি বা প্রচার করতে হয়। কিছু ইস্যু হয়তো থাকে জনগণের জন্য আবার কিছু নীতিনির্ধারকদের জন্য ইত্যাদি। অর্থাৎ সংবাদ, সম্পাদকীয় বা ফেসবুক পোস্ট ইত্যাদির মাধ্যমে আমি যে বার্তা দিচ্ছি তা হতে হবে সুচিন্তিতÑ এর প্রভাব বা টার্গেট অডিয়েন্স সম্পর্কে আমাকে জানতে হবে। ১৮ মার্চ আমি একটা ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলাম করোনা নিয়ে সরকারি এবং বেসরকারি অ্যাডভোকেসির একটি অন্যতম দুর্বলতা আমার চোখে পড়ছে তাহলো দরিদ্র মানুষরা কীভাবে চলবে সে বিষয়ে কোনো আলোচনা নেই। এখন যদিও আলোচনা হচ্ছে তবুও তা পর্যাপ্ত নয়। সচেতনতার জন্য বার্তা তৈরিতে একটি দেশের সার্বিক রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। আনতে হবে দেশের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের বিষয়টিও। সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারটি নিয়ে আমি কয়েকদিন আগে একটি পোস্ট দিয়েছি। আমরা আসলে আমরা, শুধু আমি নই। আমরা একসঙ্গে চলি। আমাদের গ্রামের জীবন তাই। এই জনগোষ্ঠীর জন্য বিচ্ছিন্ন থাকার বার্তা দিতে হলে তাতে থাকতে হবে নতুনত্ব। তাদের সঠিক তথ্য দিয়ে বোঝাতে হবে। নতুবা কাজ হবে না। মিরপুরের টোলারবাগে রোগী মারা যাওয়ার পর তাদের কোনো নির্দেশ দিতে হয়নি। নিজেরাই নিজস্ব মডেলে সব কিছু বন্ধ করে দিয়েছে। সুতরাং সঠিক তথ্য অপরিহার্য। খুব সোজা দাগে আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এবং অ্যাডভোকেসির দৃষ্টিভঙ্গিতে আমরা যদি করোনা ব্যবস্থাপনাকে দেখতে চাই তাহলে আমাদের একইসঙ্গে তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে।
১. করোনা নিয়ে সার্বিক সচেতনতা, যেকোনোভাবে এর বিস্তার রোধ। ২. দেশের কোটি কোটি দরিদ্র মানুষ, যারা দিন আনে দিন খায় তাদের বাঁচিয়ে রাখা। ৩. করোনা আক্রান্ত তো বটেই সেইসঙ্গে করোনাবহির্ভূত লাখ লাখ সাধারণ রোগীর স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা বজায় রাখা। এ ছাড়া আরও অনেক বিষয় থাকতে পারে। আমি সেসব বিষয়ে যেতে চাচ্ছি না। আমাদের দেশে অনেক অ্যাক্টিভিস্ট শুধু প্রথমটির উপর জোর দিয়েছেন। মানুষজনকে অযথা গালিগালাজ করে যাচ্ছেন। আমি একটা দরিদ্র মহিলার কাছে শুনলাম যে তার সঙ্গে যারা বসবাস করেন তাদের ভয়াবহ বিপর্যকর অবস্থা। খাওয়াদাওয়া কমিয়ে দিতে হয়েছে। আবার চিকিৎসাবঞ্চিত অবস্থায় মারা যাচ্ছেন অনেকে। মিডিয়াতে এখন এগুলো আসা শুরু হয়েছে।
আমি মনে করি আমাদের করোনা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কিন্তু দরিদ্রদের প্রতি মনোযোগী না হলে বা রোগীদের চিকিৎসা বন্ধ থাকলে করোনাবহির্ভূত কারণে মারা যাবে অসংখ্য মানুষ। টিভিতে দেখলাম ডাক্তাররা বলছেন এ সময় শ্বাসকষ্টের রোগী এমনিতেই বেশি থাকে। অথচ জ্বর, শ্বাসকষ্টের রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছেন না। একজন ডাক্তারও মারা না যাওয়া সত্ত্বেও ভয়ের কারণে সবাই চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই এই ধরনের ভীতি ছড়ানোর বিপদ নিয়ে সম্প্রতি আমি ফেসবুকে একটি স্যাটায়ারধর্মী লেখা লিখেছি। আলোচনা শুধু করোনা ঠেকাওকেন্দ্রিক হয়ে যাওয়াতে আমরা মানবিক দিকগুলো ভুলে যাচ্ছি। প্রশাসনের মহিলাটির আচরণ বা পুলিশের পেটানো শুধু করোনাকেন্দ্রিক অ্যাডভোকেসির কুফল। মানুষ যে বাঁচার স্বার্থে বাইরে আসতে পারে সে বার্তা তো তাদের দেওয়া হয়নি। মানুষ কবর দিতে দিচ্ছে না, হাসপাতাল বানাতে দিচ্ছে নাÑ কী এক অবস্থা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই মুহূর্তে টিভির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের উদ্যোগ নিয়েছে। ভালো উদ্যোগ। কিন্তু আমরা কি নিশ্চিত যে দেশের লাখো কোটি শিক্ষার্থী ঠিকমতো খাবার পাচ্ছে? অগ্রাধিকার নির্ণয় তো একটা বড় ব্যাপার।
সুতরাং অ্যাডভোকেসি বলুন, অগ্রাধিকার নির্ণয় বলুন, তা হতে হবে সুচিন্তিত, সমন্বিত। দেশের আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে বার্তা দিতে হবে। আমাদের দেশের উচ্চবিত্ত, সুশীল সমাজের লোকজনের সঙ্গে আমাদের দেশের জনগণের মানসিক দূরত্ব ব্যাপক। যোগাযোগের ছাত্র হিসেবে আমরা এটা বেশ ভালো বুঝি। ফেসবুকের কমেন্ট বক্স দেখলেও এটা বোঝা যায়। জনগণের সেনসেটিভিটি বিবেচনায় নিয়ে বার্তা দিতে হবে। নতুবা তা সমাজে গ্রহণযোগ্য হবে না। পাদটীকা : ফেসবুক সেলিব্রিটি হওয়ার কোনো ইচ্ছা না থাকায় বেশ কয়েক হাজার ফ্রেন্ড, ফলোয়ারসহ আমি আমার পুরনো ফেসবুক একাউন্ট অনেক আগেই ডিলিট করে দিয়েছি। মিডিয়াতে বা ফেসবুকে আমি লিখি নিতান্তই শখে। আমি পেশাদার লেখক বা সাংবাদিক নই। বর্তমান অ্যাকাউন্টে ফ্রেন্ড লিস্ট আমি খুব সংক্ষিপ্ত রাখতে চাই। কিন্তু সম্প্রতি কয়েকদিনে আমি শত শত ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাচ্ছি। এই দুর্যোগের সময় সবাইকে না করা অমানবিক দেখায়। তাই অনেককে জায়গা দিয়েছি। যারা আমার পোস্ট পড়েন না বা রিঅ্যাক্ট করেন না তারা অনুগ্রহ করে আমাকে আনফ্রেন্ড করুন। নতুবা আমাকে ছোট করতে হবে। বড় ফ্রেন্ড লিস্ট ম্যানেজ করা শক্তি ও সামর্থ্য এই মুহূর্তে আমার নেই। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত