প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অর্থনৈতিক প্রণোদনায় সাধারণ মানুষের জন্য কী আছে?

আলী রীয়াজ : কোরোনাভাইরাসের কারণে সারা পৃথিবীর অর্থনীতি এখন সংকটের মুখে। বৈশ্বিক মহামন্দার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। অনুমান করা হচ্ছে এই অবস্থা মোকাবেলা করতে দরকার হবে ১০ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থনীতির এই সংকট যে কেবল বিশেষ কোনো সেক্টরের উপরে প্রভাব ফেলবে তা নয়। বরঞ্চ এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন প্রত্যেকটি দেশের সাধারণ মানুষ, দরিদ্র-কর্মজীবী মানুষেরা। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় তাদের জন্য নেমে এসেছে অভিশাপ। এই অবস্থা মোকাবেলায় ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দেশ স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সরকারগুলোর ঘোষিত লক্ষ্য হচ্ছে একাদিক্রমে শিল্প ও রপ্তানি খাত রক্ষা এবং সাধারণ নাগরিকদের সাহায্য করা।
বাংলাদেশে আমরা প্রায়শই মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের সঙ্গে তুলনা শুনে থাকি। বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশ হয় ইতোমধ্যেই সিঙ্গাপুর হয়ে উঠেছে কিংবা হবে, একই রকম ধারণা দেওয়া হয় মালয়েশিয়া সম্পর্কে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান আলোচিত হয় বিভিন্ন কারণে। অর্থনৈতিকভাবে পাকিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে আছে। এই পটভূমিকায় সম্প্রতি এ সব দেশের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করেছি সাধারণ নাগরিকদের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়ার ঘোষিত প্যাকেজ জিডিপির যথাক্রমে ১১ এবং ১৭ শতাংশ।
সিঙ্গাপুরের প্যাকেজ হচ্ছে মোট ৩৮.৬ বিলিয়ণ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে জব সাপোর্ট স্কিম। এর আওতায় সরকার কর্মচারীদের মজুরির ২৫ শতাংশ দেবেন, এতে করে প্রত্যেককে ৩২২৫ ডলার পর্যন্ত দেওয়া হবে, নয় মাস। ফুড সার্ভিস সেক্টরে যারা আছেন তাদের মজুরির ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দেওয়া হবে। বিমান পরিবহন এবং পর্যটন খাতের ক্ষেত্রে এটি ৭৫ শতাংশ। যারা সেলফ-এমপ্লোয়েড তাদের আগামী নয় মাস প্রতি মাসে সিঙ্গাপুরের ডলারে পাবেন ১১০০ ডলার। এই জন্য ব্যয় হবে ১.২ বিলিয়ন ডলার। যার যার আয়ের উপরে নির্ভর করে প্রতিটি হাউজহোল্ড পাবে ৩০০ থেকে ৯০০ ডলার। স্বল্প আয়ের মানুষ গ্রোসারি বা কাঁচা বাজারের জন্য ভাউচার পাবেন। এগুলো হচ্ছে বিভিন্ন শিল্পের জন্য দেওয়া বড় আকারের সাহায্য এবং কর রেয়াত, কম সুদের ঋণ ইত্যাদি ব্যবস্থার বাইরে সরাসরি নাগরিকদের জন্য।
মালয়েশিয়ার সরকার যে প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন তার মোট ব্যয় হচ্ছে মার্কিন ডলারে ৫৭.৩ বিলিয়ন। এর অর্ধেকÑ মালয়েশিয়ার অর্থে যা ১২৮ বিলিয়ন রিঙ্গিতÑ রাখা হয়েছে মালয়েশিয়ার নাগরিকদের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য ইত্যাদির জন্য। যারা প্রাইভেট গাড়িচালক তাদের প্রত্যেকের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে এককালীন ৫০০ রিঙ্গিত। স্বাস্থ্য কর্মীরা প্রতিমাসে যে বিশেষ অ্যালাউন্স পান তা ৪০০ রিঙ্গিত ছিলো তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬০০ রিঙ্গিত, এটা যতোদিন মহামারী শেষ না হচ্ছে ততোদিন পাবেন। যে সব পরিবারের আয় ৪০০০ রিঙ্গিতের নিচে তারা ২৬৬ রিঙ্গিত পাবেন, দুই ভাগে। ন্যাশনাল কেয়ারিং এইড স্কিমের আওয়াত যারা স্বল্প আয়ের (বি৪০ এবং এম৪০ গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত) তাদের এককালীন অর্থ দেওয়া হবে, যার জন্য ব্যয় হবে ১০ বিলিয়ন রিঙ্গিত। পুলিশ এবং ইমিগ্রেশন কর্মচারীরা পাবেন প্রতিমাসে অতিরিক্ত ২০০ রিঙ্গিত। ছয় মাসের জন্য বিদ্যুৎ বিল হ্রাস করা হয়েছে, পাবলিক হাউজিংয়ের ভাড়া তুলে দেওয়া হয়েছে, পেনশনভোগীদের জন্য আলাদা সুবিধা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত।
পাকিস্তানের ঘোষিত প্যাকেজে দেশের শ্রমিক বা লেবারদের জন্য ২০০ বিলিয়ন রুপি বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকার প্রাইভেট কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছে যেন তারা কর্মচারীদের লে-অফ না করে। স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৫০ বিলিয়ন রুপি, যা চার মাসে বিতরণ করা হবে। প্রত্যেক পরিবার পাবে ৩০০০ রুপি। সবাই যাতে খাবার এবং অন্যান্য জিনিস পান সে জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানগুলোকে সাহায্য করতে বরাদ্দ করা হয়েছে ৫০ বিলিয়ন রুপি। কৃষকদের সাহায্যের উদ্দেশ্যে সরকারিভাবে গম সংগ্রহের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২৮০ বিলিয়ন রুপি। খাদ্যদ্রব্য যেমন গম, ডাল, এবং চিনির উপরে কর হয় তুলে দেওয়া হবে বা কমানো হবে। পেট্রোলিয়াম, ডিজেল এবং কেরোসিনের দাম ১৫ রুপি কমানো হয়েছে, এতে সরকার ব্যয় করবে ৭৫ বিলিয়ন রুপি। ৩০০ ইউনিটের নিচে যারা বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন তারা তাদের বিল আগামী তিন মাসে কিস্তিতে দিতে পারবেন। এতে সুবিধা পাবেন ৮১ শতাংশ মানুষ। ৫০ বিলিয়ন রুপি বরাদ্দ করা হয়েছে স্বাস্থ্য খাতের কর্মীদের সুরক্ষা সামগ্রীর জন্য।
এবার আপনারা বাংলাদেশের ঘোষিত স্টিমুলাস প্যাকেজটা পড়ে দেখতে পারেন।
অর্থনৈতিক প্রণোদনায় সাধারন মানুষের জন্যে কী আছে?
করোনাভাইরাসের কারণে সারা পৃথিবীর অর্থনীতি এখন সংকটের মুখে। বৈশ্বিক মহামন্দার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। অনুমান করা হচ্ছে এই অবস্থা মোকাবেলা করতে দরকার হবে ১০ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থনীতির এই সংকট যে কেবল বিশেষ কোনো সেক্টরের উপরে প্রভাব ফেলবে তা নয়। বরঞ্চ এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন প্রত্যেকটি দেশের সাধারণ মানুষ, দরিদ্র-কর্মজীবী মানুষেরা। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় তাদের জন্য নেমে এসেছে অভিশাপ। এই অবস্থা মোকাবেলায় ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দেশ স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। সরকারগুলোর ঘোষিত লক্ষ্য হচ্ছে একাদিক্রমে শিল্প ও রপ্তানি খাত রক্ষা এবং সাধারণ নাগরিকদের সাহায্য করা। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত