প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশই একমাত্র আজব দেশ যেখানে হাসপাতালের বাইরে, অফিসে, মন্ত্রণালয়ে ডাক্তারদের বিশেষ পোশাক ব্যবহৃত হয়

মুনশি জাকির হোসেন : শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে কতোজন আওয়ামী লীগার উদ্বিগ্নতা দেখিয়েছে? প্রিন্স চার্লস কিংবা বরিস জনসন যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হতো তাহলে বাংলার কামেলদের বোঝানো যেতো না যে, শেখ হাসিনা কতোটা ঝুঁকির মধ্যে আছে। এখানেই মূলত চাটা লীগ, কাউয়া লীগ, মোস্তাক লীগ চেনার ফিল্টার বিদ্যমান। করোনা মহামারীতে আমি, আপনি কেউই নিরাপদ নই, আমাদের সবাই কমবেশি এই ভাইরাস বহন করছে, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি তারা টিকে যাচ্ছে। ৬০ বছরের বেশি যাদের বয়স তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এখানেই মৃত্যু ঝুঁকি বেশি, সেটি আমার/আপনার পিতা-মাতা, আত্মীয়/পরিবার পরিজন সবার জন্যই সমভাবে প্রযোজ্য। তবে শেখ হাসিনার নিরাপত্তা কেন জরুরি সেটা এর আগেও বলা হয়েছে, অনেক যুক্তি/তথ্য দিয়েই সেটি বলা হয়েছে। বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যতিক্রম বিভিন্ন কারণে, এই দেশে ছাগল দিয়েই হালচাষ করানো সম্ভব। এ এক সব অসম্ভবকে সম্ভব করার উর্বর জমিন। এই দেশের/এই সরকারের/মতান্তরে এই আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, নেতা, এমপিগুলোকে নিয়ে কীভাবে শেখ হাসিনা সরকার পরিচালনা করছেন, দেশ চালাচ্ছেন সেটি একটি নবম আশ্চর্যজনক ঘটনা, এই করোনা ইস্যুতে সেটি আবারও প্রমাণিত। বাংলাদেশই একমাত্র আজব দেশ যেখানে হাসপাতালের বাইরে, অফিসে, মন্ত্রণালয়ে ডাক্তারদের বিশেষ পোশাক ব্যবহৃত হয়। অথচ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই করোনা ইস্যুতে হাসপাতালের মধ্যেও সবাই এ সব পোশাক ব্যবহার করে না। শুধু সুনির্দিষ্ট ইউনিট/ওয়ার্ড ছাড়া এই রকম পোশাক ব্যবহারের নজির কেউই দেখাতে পারবে না, যেটি বাংলাদেশের আমলারা নির্লজ্জের মতো দেখিয়েছে, এটি হয় মূর্খতা না হায় নিচু জাতের পরিচয়।
অন্যান্য সব ভাইরাসের মতোই করোনাও প্রাকৃতিকভাবেই নিস্তেজ হয়ে পড়বে, তবে মানুষের মৃত্যুর থেকেও আর্থিক বিপর্যয় বেশি প্রভাব রাখবে। এই অর্থনৈতিক মন্দা হবে বিশ্বব্যাপী, দীর্ঘস্থায়ী, এর প্রভাব বিশ্বের সব দেশেই পড়বে। অস্ট্রেলিয়ার কয়লা খনির শ্রমিকরা চাকরি হারিয়েছে চীনের প্রোডাকশন লাইন বন্ধ হওয়ার কারণে। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উন্নত বিশ্বের লকডাউনের কারণে। বিশ্বের এয়ারলাইন্স ব্যবসা, পর্যটন খাত ইতোমধ্যেই ধ্বংস হয়েছে, জাপানের কার উৎপাদনের বিপর্যয় এসেছে, আফ্রিকার দেশে কৃষি অর্থনীতি বিপর্যয়ে পড়েছে, কারণ ইউরোপে রপ্তানি নেই। একই সমস্যা ল্যাটিন আমেরিকার জন্যও। কববঢ় ফরংঃধহপব ঢ়যুংরপধষষু, ঝঃধু পষড়ংব সবহঃধষষু, নু যবধৎঃ ধহফ নু ংড়ঁষং। এটি ছাড়া করার তেমন কিছুই নেই। নিজের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া, ভিটামিন ‘সি’ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ব্রিটিশ নার্সরা। তাদের মতে এটিই নাকি বর্তমান সময়ের সেরা কর্তব্য। বাংলাদেশের একটি কাঠমোল্লা/ধর্মান্ধ গোত্রের বিরুদ্ধে আমরা তীব্র আক্রমণাত্মক, এটি অনেক পুরনো। তাদেরই একটি অংশ আছে ভারতের গোমূত্র ভাই। কেন তাদের বিরুদ্ধে কথা বলি, কেন সবাইকেই বলি এই দ্বিপদী ছাগলের জাত নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়, এই করোনা বিপর্যয় সেটি আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। কতো বড় আহাম্মক, মূর্খ হলে হাজার হাজার মানুষের জমায়েত করতে পারে যেখানে সবাইকে দুই মিটার দূরত্ব রেখে চলার পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। করোনা পরবর্তী বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা কতোটা বিস্তৃত হবে, রাষ্ট্র থেকে সরকার, সরকার থেকে করপোরেট, করপোরেট থেকে ব্যক্তিগত, সর্বত্র এই অর্থনৈতিক মন্দার ফলশ্রুতিতে সামাজিক অস্থিরতা অনিবার্য। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত