প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কঠোর হচ্ছে সরকার

ইনকিলাব : [২] সারাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বিদেশফেরতরাই। সিভিল এভিয়েশনের হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় বিদেশ থেকে দেশে এসেছে ৭৯০৬ জন। এ পর্যন্ত বিভিন্ন পথে দেশে এসেছে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ। ছড়িয়ে পড়েছে দেশব্যাপি। এসব বিদেশফেরতই এখন করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে চলেছে।

[৩] এদেরকে বিমানবন্দরে প্রাথমিক পরীক্ষা নীরিক্ষা শেষে কমপক্ষে ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে বেশিরভাগই তা মানছেন না। এতে করে সারাদেশের করোনাভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশফেরতের সংখ্যা বেশি হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার মাদারীপুরের শিবচরকে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে। হাইকোর্ট এক আদেশে ‘হোম কোয়ারেন্টাইন’ না মানা বিদেশফেরতদের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে সোপর্দ করতে বলেছেন। সরকারের নির্দেশে ইতোমধ্যে সারাদেশে হোম কোয়ারেন্টাইন না মানা বিদেশফেরতদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে।

[৪] জানা গেছে, হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আরও কঠোর হবে সরকার। অ্যাকশনে যাবে প্রশাসন। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে করোনাভাইরাস মোকাবেলা ও প্রস্তুতি নিয়ে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় তিনটি আলাদা কমিটি গঠন এবং লকডাউন বা শাটডাউন নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। সংক্রমণ পরিস্থিতি স্টেজ-৩ ছাড়া লকডাউনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে ওই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং দপ্তরের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

[৫] জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ রোধে ‘হোম কোয়ারেন্টাইন’ নিশ্চিতে বিদেশ ফেরত সাড়ে ছয় লাখ ব্যক্তিকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। গত ২১ জানুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন পথে তারা বাংলাদেশে এসেছেন। পূর্ণাঙ্গ ঠিকানাসহ তাদের নামের তালিকা ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে পাঠানো হয়েছে।

[৬] এতে সংশ্লিষ্টদের নিজ বাড়িতে সার্বক্ষণিক অবস্থান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করতে বলা হয় ডিসিদের কাছে পাঠানো চিঠিতে। এছাড়া বিভাগীয় ও জেলা শহরে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে রাখা মানুষের জন্য নগদ টাকা, জিআর চাল ও শুকনা খাবার চেয়েছেন বিভিন্ন জেলার ডিসি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ডিসিদের চিঠিতে করোনা আইসোলেশন সেন্টারের আসবাবপত্র, চিকিৎসকদের পোশাক, মেডিসিন ও রোগীর আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রের অভাবের কথা তুলে ধরা হয়।

[৭] বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করতে কঠোর হবে সরকার। এতে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জরিমানাও করা হবে। এছাড়া জনগণের মধ্যে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার চালাবে সরকার। সংবাদ মাধ্যম, সোস্যাল মিডিয়া ও মোবাইলে এসএমএস দেয়া ছাড়াও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সারা দেশের বিভিন্ন মসজিদ-মাদরাসায় জনসচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেয়া হবে।

[৮] বৈঠক সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় জাতীয় কমিটির নিচে তিনটি কমিটি গঠন করবে সরকার। একটি কমিটি যাবতীয় স্বাস্থ্যসেবা বিষয়গুলোকে নিশ্চিত করবে। এ কমিটি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট জনবল দিয়ে গঠন করা হবে। বিভিন্ন জেলায় আইসোলেশন ইউনিট গঠন, আইসোলেশন ইউনিটগুলোর পর্যাপ্ত সরঞ্জাম এবং জনগণের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে এ কমিটি। দ্বিতীয় কমিটি হবে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা নিয়ে। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশসহ স্থানীয় সরকারগুলো সম্পৃক্ত থাকবে। বিদেশ থেকে আগতের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পরিবারের কারো আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেলে পরিবারের সেই সদস্যেরও কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করবে এ কমিটি।

[৯] হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি উঠে আসে আলোচনায়। প্রতিবেশী ও পাড়া-মহল্লার জনসাধারণের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হবে। সেই সঙ্গে নির্দেশনা অমান্যে জরিমানারও বিধানের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। আর তৃতীয় কমিটি বিদেশ থেকে আগতদের বিষয়টি দেখার পাশাপাশি ক‚টনৈতিক সেবা নিশ্চিত করবে। এ কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

লকডাউন বা শাটডাউন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। করোনাভাইরাস সংকটকে তিনটি স্টেজে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম স্টেজ হলো বিদেশ থেকে আগতদের করোনাভাইরাস আক্রান্ত। দ্বিতীয় স্টেজ হিসেবে বিদেশ থেকে আগতদের মাধ্যমে পরিবারের মানুষদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়া। আর তৃতীয় স্টেজ হলো স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে মহামারী আকারে এ রোগ ছড়িয়ে পড়া। বাংলাদেশ স্টেজ-৩-এর বেলায় লকডাউন বা শাটডাউনের মতো সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

[১০] বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, বৈঠকে কমিটি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং হোম কোয়ারেন্টাইনের বিষয়ে জোর দিয়েছে। করোনাভাইরাসের মতো সংকট মোকাবেলায় আমাদের আত্মোপলব্ধি নিশ্চিত করতে হবে। দেশের সব মানুষকে সচেতন হতে হবে। সশরীরে উপস্থিত থাকতে হয় এমন সামাজিকতা কমিয়ে দিতে হবে। এটি শুধু নিজের সুরক্ষার জন্য নয়, বরং পুরো কমিউনিটি এবং দেশের জন্য জরুরি।

এদিকে গত বুধবার রাতে এক অফিস আদেশে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন এবং গঠিত কমিটিকে সার্বিক সহায়তা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে সার্বক্ষণিক নজরদারিসহ জনসচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে সব ডিসিকে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

[১১] সূত্র জানায়, বিদেশ ফেরত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তাকেও কমপক্ষে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি সব দফতরে দর্শনার্থীর সাক্ষাৎ সীমিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেওেছন, যারা হোম কোয়ারেন্টাইন মানছেন না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমন ঘোষণার পর বিদেশফেরত ব্যক্তিদের নজরধারিতে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে প্রস্তুত রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। গতকাল এমন তথ্যই জানিয়েছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম।

[১২] গতকাল দুপুরে র‌্যাব সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, প্রকৃতপক্ষে আমরা কোনো নির্দেশনা এখনো পাইনি। তবে এমন নির্দেশনা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব। করোনা মোকাবেলায় বিদেশফেরকদের নির্দিষ্ট এলাকায় রাখার ক্ষেত্রে নির্দেশনা পেলে অবশ্যই র‌্যাব কাজ করবে।

তিনি বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নিয়ম অনেকে মানছেন না। বাইরে থেকে দেশে ফেরা সকলকেই বাধ্যতামূলকভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। আমরা নজরদারি করছি। আদেশ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

[১৩] এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, র‌্যাবের কাজই হচ্ছে মানুষের সেবা করা। এ জন্য নিজেদের সুরক্ষা আগে জরুরি। সেজন্য প্রত্যেককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বিশেষ ছুটি যেন কেউ ভোগ না করেন। কেউ ছুটিতে থাকলে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা চেক করা হচ্ছে। মাস্ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সব নিয়ম মানতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে আরও ১১ জনকে চট্টগ্রামে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্য, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত থেকে আসা মোট ১১ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ১০২ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এদিকে, নিরাপদ হোম কোয়ারেন্টাইন অমান্য করে প্রকাশ্যে চলাফেরা করার দায়ে চট্টগ্রাম জেলার আট প্রবাসীকে এক লাখ ২২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়া নিষিদ্ধ সময়ে কোচিং ব্যবসা পরিচালনার দায়ে সাতকানিয়া ও আনোয়ারা উপজেলার চার কোচিং সেন্টারকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বরিশাল : দুপুর পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ৩৮৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। বরিশালের সিভিল সার্জনের দেয়া তথ্য অনুয়ায়ী, বিদেশ ফেরত ৩ হাজার ৮’শ প্রবাসীর সন্ধান পেয়েছেন। কিন্তু গতকাল বিকেল পর্যন্ত হোম কোয়ারান্টানে থাকাদের মধ্যে বরিশালে নতুন ২১জনসহ ৭২জন, পটুয়াখালীতে নুতন ১৬জনসহ ৩৯ জন, ভোলাতে নতুন ৩৫সহ মোট ৫০জন, পিরোজপরে ৫১জন নতুনসহ মোট ৮৩ জন, বরগুনাতে ৪৫জন নতুনসহ মোট ৮০ জন ও ঝালকাঠীতে ৪৫জন নতুনসহ মোট ৬৩ জন রয়েছে। ফলে করোনাভাইরাস নিয়ে জনমনে শংকা ও সংশয় রয়েই যাচ্ছে।

চাঁদপুর : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে দুই প্রবাসীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। ইতালি থেকে আগত মো. আবদুল আজিজ কে এবং ৬নং বড়ক‚ল পূর্ব ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়ক‚ল গ্রামের যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত মো. দাউদ হোসেনকে সরকার নির্দেশিত হোম কোয়ারেন্টাইন অমান্য করায় ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। চাঁদপুরে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৭১ জন। আইসোলেশনে আছেন ১ জন।

ফরিদপুর : ফরিদপুরে বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে ৪২ জনকে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে ২৩জনকে। এদিকে ফরিদপুর স্বাস্থ্য বিভাগ ৪ হাজার ৩ জন বিদেশ ফেরতকে খুঁজতে শুরু করেছে। তাদের সকলের খোঁজ খবর এখনো স্বাস্থ্য বিভাগ জানে না।

ফেনী : ফেনীতে প্রবাস ফেরতসহ ৪৮৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েেছ বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাদ হোসেন। অপরদিকে বিদেশ ফেরত কোন ব্যক্তি যদি হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকে তাহলে আদালতরে মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানান ফেনী জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান।

গাইবান্ধা : বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ৫০ জনকে গাইবান্ধার সাতটি উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তারা নিজ নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন।

ঝালকাঠি : ঝালকাঠি জেলায় বিদেশ থেকে আসা ৫৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তবে এরা কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নয়। বিদেশ থেকে আসার কারণে নিজ বাসায় তাদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের আরো ১১৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এই নিয়ে জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩৯০ জনে। তবে অভিযোগ পাওয়া গেছে, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার আইন তেমন ভাবে মানা হচ্ছে না। অনেক গ্রামে প্রবাসিরা এসে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে বিদেশ ফেরত ৫৪০ জনের মধ্যে মাত্র ৩৫জন ব্যক্তি হোম কয়ারাইন্টানে রয়েছেন। বাকীরা ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন হাটবাজারে। তাদেরকে হোম করাইন্টানে নিতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।

লক্ষ্মীপুর র: লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা না মানায় সউদী ও কাতার ফেরত দুই জনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও রামগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার মুনতাসির জাহান।

মাদারীপুর : মাদারীপুরে বৃহস্পতিবার বিকেলে পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে ২৪৫ জন রয়েছে। যার মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে হোম কোয়ারেন্টাইনে ৪৩ জন, হাসপাতালের কোয়রেন্টাইনে ১ জন ও আইসোলেশনে রয়েছে ৪ জন।

মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারে করোনা রোধে ২১৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে ২১০ জন বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসী। কোয়ারান্টাইন লঙ্ঘনের অপরাধে এ পর্যন্ত ৫ জনকে ৭৫ হাজার টাকা অর্থদÐ আরোপ করা হয়েছে। জেলায় দু’টি ৫ তারকা মানের রিসোর্ট ও হোটেলসহ সকল পর্যটন স্থানগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও ভারতের সাথে ৩টি স্থল বন্দর রন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় বিয়ের পিড়িতে বসা বরকে ৫০ হাজার টাকা ও বিয়ের আয়োজন করায় অপর একজনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন।

নওগাঁ : নতুন করে আরো ৫জন বিদেশ ফেরতকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। বর্তমানে উপজেলায় মোট ৭জন বিদেশ ফেরত হোম কোয়ারেন্টানে রয়েছে।

পটুয়াখালী : পটুয়াখালী সদর রোড এলাকার উজ্জল জুয়েলার্স এর মালিক সজল চন্দ্র কর্মকার ভারত থেকে ফিরে হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত।

ঠাকুরগাঁও : করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করায় ঠাকুরগাঁওয়ে বিদেশ প্রত্যাগত এক নারীকে ন ৫ হাজার টাকা অর্থদÐ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন ।

ভোলা : গত ২৪ ঘণ্টায় বিদেশ ফেরত নতুন করে আরও ১৩০ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে জেলাটিকে ১৫০ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হলো। এদিকে ভোলা জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনের শর্ত ভঙ্গ করায় ০৩ জনকে মোবাইল কোর্ট এ ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ: গত ২৪ ঘণ্টায় মুন্সিগঞ্জে বিদেশ ফেরত নতুন আরও ৬৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে (নিজ নিজ বাড়িতে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে) রাখা হয়েছে। এ নিয়ে জেলার ছয় উপজেলায় পর্যবেক্ষণে থাকা প্রবাসীর সংখ্যা ১৫১ জনে দাঁড়ালো।

খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়িতে বিদেশ থেকে ফিরেছেন ২৪৪ জন। এরমধ্যে ১২ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হলেও বাকিদের কোনো খোঁজ নেই। বিদেশফেরতদের খোঁজ নিতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জে নতুন করে আরও ৩১ জনকে ‘হোম কোয়ারেন্টিনে’ রাখা হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট ৬৯ জন ‘হোম কোয়ারেন্টিনে’ রয়েছে।

দিনাজপুর : দিনাজপুরে বিরামপুর পৌর মেয়র লিয়াকত আলী সরকারসহ ৬ জন বিদেশ ফেরত ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ে ১৮ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৯০০ বিদেশফেরত যাত্রী ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত এক নারীসহ নয়জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। বাকিদের নিয়ে কোনো তথ্য বা উদ্যোগ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে নেই।

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরায় বিদেশ ফেরত আরো ৫০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ নিয়ে বিদেশ ফেরত সাতক্ষীরার ৮৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে। এদিকে, শহরের কামালনগরের হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় ভ্রাম্যমান আদালত একজনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৪ দিন পর্যন্ত বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো জুবায়ের হোসেন । অপরদিকে, শ্যামনগরের একই অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

এছাড়া সাতক্ষীরায় হোম কোয়ারেন্টাইনের শর্ত ভঙ্গ করে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করায় মাহিদুর রহমান নামে এক যুবককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বেনাপোল : ইটালি কুয়েত ও দুবাই থেকে যশোরের শার্শায় এসেছেন ৪জন। এছাড়া অনেকে বিদেশ থেকে দেশে ফিরলেও খবর জানে না স্বাস্থ্যবিভাগ।

সাভার : :করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ রোধে সাভার ও ধামরাই উপজেলায় প্রবাসীসহ ৩৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এদিকে, ঢাকার সাভারে ভারত ফেরত প্রবাসী নারী মধুমালা (৩৫) হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে পালিয়েছে।বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ।

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কল্পে বিদেশ ফেরত ২৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

বামনা(বরগুনা) : বরগুনার বামনা উপজেলায় বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত আসা ২২ জন প্রবাসীকে হোম কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে। এদিকে ডৌয়াতলা গ্রামের ইতালী ফেরত মো. সেলিম হাওলাদারের পুত্র মোঃ মাইনুদ্দিন(৩৮) হোম কোয়ারান্টাইনে না থাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা সুলতানা ঘটনাস্থানে পৌছে ভ্রম্যমান আদালতে বসিয়ে তাকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) : বগুড়া দুপচাঁচিয়া উপজেলা ভ্রাম্যমান আদালত হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ অম্যান্য করায় ফেরদৌস হোসেন (২৮) নামে সউদী থেকে দেশে ফেরা এক যুবককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দুপচাঁচিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জাকির হোসেন।

হিলি (দিনাজপুর) : হিলিতে বিদেশ ফেরত ১০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বাড়িতে অবস্থান করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

পুঠিয়া (রাজশাহী) : পুঠিয়ায় হোম কোয়ারাইন্টাইনে না থাকায় একজনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। বিদেশ ফেরত মামুনুর রশিদ (২৩) নামের এক যুবক খোলামেলা ঘোরাফেরা করায় ভ্রম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ওলিউজ্জামান।

রাজাপুর ( ঝালকাঠি) : করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করায় ঝালকাঠির রাজাপুরে বিদেশ প্রত্যাগত ৩ জনকে অর্থদন্ড প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। কোয়ারেন্টাইল ভঙ্গের অভিযোগে ৩ জনকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন।

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) : টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে হোম কোয়ারান্টাইনে না থাকায় জাকির হোসেন নামে সউদী ফেরত এক প্রবাসীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. মঈনুল হক এ অর্থদন্ড দেন।

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় হোম কোয়ারেন্টাইনের আদেশ অমান্য করায় প্রবাস ফেরত দুই ব্যক্তিকে অর্থদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আখাউড়া পৌরশহরের দূর্গাপুর এলাকার মো: রফিকুল ইসলামের পুত্র বাহরাইন ফেরত রাসেল মিয়া (৩৪) কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত