প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ব্যক্তি খাতকে বাদ দিয়ে স্বপ্রণোদিত পর্যালোচনা পূর্ণাঙ্গ হবে না, এসডিজি বিষয়ে সিপিডির সম্মেলনে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: [২] ২০১৫ সালে জাতিসংঘে গৃহীত হয় বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডা টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসমূহ বা এসডিজি। বাংলাদেশও এ এজেন্ডা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে। আর এসডিজি অর্জনে কী পরিমাণ অগ্রগতি হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়ান্তে জাতিসংঘে স্বপ্রণোদিত পর্যালোচনা প্রতিবেদন বা ভিএনআর দাখিলের নিয়ম রয়েছে। ২০১৭ সালে প্রথম এ পর্যালোচনা প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল। চলতি বছর আরেকটি প্রতিবেদন দাখিল হবে। এ প্রতিবেদন চূড়ান্তকরণে বেসরকারি খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেসরকারি খাতকে বাদ দিয়ে এ ভিএনআর পূর্ণাঙ্গ হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। সূত্র : শেয়ার বিজ নিউজ

[৩]  গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে ‘ভিএনআর ২০২০ অব বাংলাদেশ: পজিশনিং নন-স্টেট অ্যাক্টর’ শিরোনামে আয়োজিত দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ মতামত উঠে আসে। উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নেতৃত্বে গঠিত এসডিজি অর্জনে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধূরীর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ইউএনডিপির আবাসিক সমন্বয়কারী সুদীপ্ত মুখার্জি, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ওরলে মারফি প্রমুখ।

[৪]  বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ এসডিজি অর্জনে গত তিন বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়, শিক্ষার হার বৃদ্ধিসহ স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অর্জন করেছে। কিন্তু এই অর্জন স্বস্তিদায়ক নয়। শিক্ষিত তরুণদের মাঝে উচ্চ বেকারত্ব, শোভন কর্মসংস্থানের অভাব, নারী-পুরুষ বৈষম্য, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এসব বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন নীতি থাকলেও সেগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ।

[৫]  শাহরিয়ার আলম বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন করতে হলে প্রতিবছর বাড়তি ৬৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে। এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে বেশিরভাগ অর্থায়ন বেসরকারি খাত হতে আসতে হবে। তিনি বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন অভীষ্ট (এমডিজি) অর্জনে বাংলাদেশ যে সাফল্য দেখিয়েছে, এসডিজি অর্জনেও তেমন সাফল্য দেখাতে সক্ষম হবে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, শোভন কর্মসংস্থানের মতো এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে নাগরিক সমাজ ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে হবে।

[৬]  রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন করতে হবে। সরকারের নীতিগুলোকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। নীতি প্রয়োগে আরও উন্নতভাবে আমলাতন্ত্রকে কাজ করতে হবে। তবে পানির উন্নয়ন দেখতে কর্মকর্তাদের উগান্ডা যাওয়ার মতো অপ্রয়োজনীয় কর্মকাণ্ড বাদ দিতে হবে।

[৭]  দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, দেশে উচ্চশিক্ষিতদের মাঝে বেকারত্বের হার স্বাভাবিক হারের তুলনায় তিনগুণ বেশি। সরকারের শিশু নীতি, স্বাস্থ্য নীতি, যুব নীতিসহ সব ধরনের নীতি রয়েছে। কিন্তু এগুলোর কার্যকর প্রয়োগ নেই। এসডিজি বাস্তবায়নে প্রথম সমস্যা হলো উন্নত প্রশাসনিক প্রয়োগের অভাব, দ্বিতীয়ত সম্পদের সীমাবদ্ধতা, তৃতীয়ত অর্থায়ন। শারীরিক প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল ধারায় নিয়ে আসতে হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জিডিপির তুলনায় এত কম ব্যয় করে আমরা স্বস্তিদায়ক মধ্য আয়ের দেশ হতে পারব না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত