প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বঙ্গবন্ধু সেদিন কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদার ঘোষণা দেন, সাক্ষাৎকারে কৃষিমন্ত্রী

প্রিয়াংকা আচার্য্য : আজ কৃষিবিদ দিবস। ১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে তা কার্যকরও হয়।

কিন্তু ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তিত হলে ১৯৭৭ সালে তৎকালীন সরকার কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের পদমর্যাদা একধাপ নিচে নামিয়ে দ্বিতীয় ধাপে দেন। ৩] এই ঘটনায় বাংলাদেশ কৃষিবিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রতিবাদে প্রবল বিক্ষোভ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস টানা ৬ মাস বন্ধ রাখে। ছাত্রদের তীব্র আন্দোলনের ফলে সামরিক সরকার তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।

১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহে কৃষি বিশ^বিদ্যালয় গিয়েছিলেন। সেখানকার কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (বাকসু) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বর্তমান কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুল রাজ্জাক। সেদিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের আমন্ত্রণে বঙ্গবন্ধু বিশ^দ্যিালয়ে আসেন। সেখানে আমরা তাকে সংবর্ধনা দেই।’

বঙ্গবন্ধু অনুষ্ঠান শেষে তার ভাষণে সবুজ বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। এদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। কৃষকদের জন্য বিভিন্ন উপকরণ যেমন সার, বীজ, সেচের ব্যবস্থা করতে হবে, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। কৃষি গবেষণাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তাই কৃষিতে উন্নয়ন করতে হলে দেশের মেধাবী ছাত্রদের কৃষি নিয়ে পড়া উচিত।

‘জাতির পিতার কাছে আমাদের একটাই দাবি ছিলো। কৃষিবিদদের ক্লাস ওয়ান স্ট্যাটাস দিতে হবে ইঞ্জিনিয়ার-ডাক্তারদের মতো। তিনি আমাদের দাবি মেনে নিয়েছিলেন।’

সেদিন উপস্থিত থাকা তৎকালীন অপর ছাত্রনেতা ইঞ্জি. রহমত উল্লাহ বলেন, বঙ্গবন্ধু আগের দিন রাতে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজে ছিলেন। আমি তখন ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ছিলেন রফিকুল ইসলাম, বাকসুর সাধারণ সম্পাদক বর্তমান কৃষিমন্ত্রী ড. রাজ্জাক এবং বাকসুর ভিপি মনিরুজ্জামান খানÑএই ৪ জন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করে বিশ^বিদ্যালয়ের ভেতরে শহীদ স্মৃতি পাঠাগার উদ্বোধনের জন্য তাকে অনুরোধ করি। বঙ্গবন্ধু আমাদের অনুরোধ রেখে বিশ^বিদ্যালয়ে আসেন ও কৃষিবিদদের বহুদিনের দাবিটি মেনে নেন।

১৯৭৭ সালে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা তৎকালীন ছাত্রনেতা বর্তমান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বাদশা বলেন, বঙ্গবন্ধুর দেয়া কৃষিদিদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা তৎকালীন জিয়াউর রহমানের সরকার কেড়ে নিলে আমরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ি। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে তুমুল আন্দোলন গড়ে ওঠে। বাকসুর সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রঞ্জন কর, কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি শওকত মোমেন শাজাহান, সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ সহ সকল ছাত্রনেতারা এই আন্দোলনে অংশ নিয়ে দীর্ঘদিন লড়াই-সংগ্রামের পর আমরা এই মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হই।

২০১০ সালে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন প্রতিবছর দিনটিকে ‘কৃষিবিদ দিবস’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষিবিদ দিবস হিসেবে পালন করছে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন। সম্পাদনা : রেজা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত