প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে সর্বস্ব হারালেন প্রবাসী

আমাদের সময় : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে সাতশ ডলারসহ প্রায় তিন লাখ টাকার মালামাল খোয়ালেন রাসেল ওরফে মাখন দাস (৩০) নামে এক সিঙ্গাপুর প্রবাসী। আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে ভাড়া করা মাইক্রোবাসে অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েন তিনি।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রাসেলের স্ত্রী সিন্ধু রাণী জানান, রাসেলের বাবার নাম সুমেন দাস। গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ। সিঙ্গাপুর থেকে বুধবার গভীররাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন রাসেল। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে গ্রামের উদ্দেশে বিমানবন্দর এলাকা থেকে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করেন তিনি। ভাড়া করা মাইক্রোবাসেই অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা তার কাছে থাকা সাতশ ডলারসহ দুই থেকে তিন লাখ টাকার মালামাল নিয়ে সটকে পড়েন। সকালে সায়েদুল ইসলাম নামে এক সেনা সদস্য টিকাটুলী এলাকায় রাসেলকে আজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তিনিই সকাল পৌনে ৭টার দিকে রাসেলকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ক্যাম্প ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া জানান, প্রবাসী রাসেল ঢামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন। তিনি শঙ্কামুক্ত নন।

এদিকে রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে বিদেশ ফেরত এক নারীসহ আরও চার জন ঢামেকে ভর্তি হয়েছেন। জর্ডান থেকে আসা নাসিমা আক্তারকে (২০) সায়েদাবাদ রেল গেট বলাকা বাস কাউন্টারের সামনে বাস থেকে অচেতন অবস্থায় যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতোয়ার উদ্ধার করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে ঢামেকে ভর্তি করা হয়। বাসে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে ছিলেন ওই নারী।

অসুস্থ নাসিমা জানান, তিনি দুই বছর জর্ডান ছিলেন। বৃহষ্পতিবার বাংলাদেশে আসেন। বিমানবন্দর থেকে বলাকা পরিবহন যোগে সায়েদাবাদ যাচ্ছিলেন তিনি। বাসে পাশের লোক থেকে তিনি জুস খান। তার কাছে থাকা নগদ চল্লিশ হাজার টাকা, দুটি কানের দুল, দুটি মোবাইলসহ সর্বস্ব খুইয়েছেন। তবে তার পাসপোর্টটি নেয়নি দুর্বৃত্তরা। নাসিমা বি-বাড়িয়া উপজেলার চৌদ্দপুর গ্রামের আবদুস ছাত্তারের মেয়ে।

অন্যদিকে, গুলিস্তান এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পৃথক ভাবে আরও দুজনকে অচেতন অবস্থায় ঢামেকে ভর্তি করা হয়।

পল্টন থানার আহাদ পুলিশ বক্সের এএসআই সবুজ কান্তি দাস জিপিও ইমপেরিয়াল হোটেলের সামনে থেকে মো. মোশাররফ হোসেন (২৮) নামে এক যুবককে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। তার কাছে ন্যাশনাল আইডি কার্ড ছাড়া কিছুই পাওয়া যায়নি।

এর আগে পল্টন থানার এসআই জসিম পল্টন এলাকা থেকে নুরে আমিন (৩৫) নামে একজনকে দুপুরে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করান। এ ঘটনার বিস্তারিত জানাকে পারেননি ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে, গুলিস্তান উৎসব পরিবহনের কাউন্টার থেকে গোলাম মোস্তফা (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে তার ছোট ভাই গোলাম রাব্বানী উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তার বাসা দক্ষিণখান হাজী ক্যাম্পের পাশে। তিনি রাজউক ভবন নারায়ণগঞ্জ শাখার নকশা সেকশনে কর্মরত।

রাব্বানী বলেন, ‘ভাই তার কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জ থেকে আসার পথে বাসে হালুয়া খেয়েছিলেন। পরে লোকজনের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসি। তার কাছে কি পরিমাণ টাকা ছিল তা জানতে পারিনি। ’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত