প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাত ১২টার পর বন্ধ নির্বাচনী প্রচারণা, বাড়ছে উত্তেজনা এবং শঙ্কা

মাজহারুল ইসলাম : এরপর প্রার্থীরা আর প্রচারণা চালাতে পারবেন না। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা ২০১০ এর ৭৪ বিধি অনুসারে, ভোটগ্রহণ শুরুর ৩২ ঘণ্টা আগে এবং ভোটগ্রহণের দিন দিবাগতরাত ১২টার পর থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা নির্বাচনী এলাকায় কোনও ব্যক্তি জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান এবং কোনো মিছিল বা শোভাযাত্রা করতে পারবেন না। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় ৩০ জানুয়ারি ভোর ৬টা থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারীদের আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও সঙ্গে নিয়ে চলা নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে, উৎসবমুখর পরিবেশ, ভোটারদের কাছে যাওয়া, উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি অবস্থান, হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ঘটেছে এই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। তবে ভোটের সময় যতোই ঘনিয়ে আসছে উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ ততোই উত্তেজনাপূর্ণ হওয়ার আশঙ্কা করছেন প্রার্থী, কর্মী এবং সমর্থকরা।

আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘন, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর ওপর, বাড়িতে হামলা, মুখোমুখি অবস্থান, অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে উৎসবমুখর নির্বাচনী প্রচারণা কখনো কখনো ছড়িয়েছে উত্তাপ ও উত্তেজনা। আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীদের প্রচারণায় বাঁধার অভিযোগ না করলেও বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থীর ওপর হামলা, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীসহ কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থীর ওপর এবং বাড়িতে হামলা, কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার, ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাঁধা দেয়া, এজেন্টদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন, কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ারও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির প্রার্থীরা।

মেয়র পদে ১৩জন প্রার্থী থাকলেও মূলত লড়াই হবে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে। উত্তরে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম এবং ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির তাবিথ আউয়াল। আর দক্ষিণে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস এবং ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। এছাড়াও উত্তরে ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা ফজলে বারী মাসউদ, দক্ষিণে আলহাজ্ব আব্দুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন বেশ কয়েকজন প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ৪ প্রার্থী গত ২০দিন ধরে রাজধানীর রাজপথ, থেকে শুরু করে অলি-গলিতে ভোট চেয়েছেন। ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে, শুনছেন নাগরিক ও এলাকাবাসীর নানা সমস্যা। নির্বাচনী ইশতেহারে প্রত্যেক প্রার্থীই রাজধানীর দূষণ, যানজট, দুর্নীতি, অনিয়ম, , পানির সমস্যা সমাধান, খাল উদ্ধার, নাগরিক সমস্যার সমাধানের অঙ্গীকার করেছেন। আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থীও বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, বিগত এক দশক ধরে সরকার যে উন্নয়ন করেছেন, সেই ধারা অব্যাহত রাখতে ভোটাররা নৌকা প্রতীকে ভোট দিবেন।

নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী প্রার্থীরা ক্ষমতার অপব্যবহার, অব্যাহত আচরণ বিধি লঙ্ঘন, প্রচারাভিযানে হামলা, দলীয় নেতা কর্মীদের উল্টো মামলা, গ্রেপ্তার, পোস্টার লাগাতে বাঁধা দান, পোস্টার ছিড়ে ফেলোসহ নানা অভিযোগ করেছেন দক্ষিণ সিটিতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, বারবার নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করার পরও কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। বরাবরের মতোই নির্বাচন কমিশন নির্বিকার। নির্বাচনের নুন্যতম লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনও ঠিক হয়নি। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বিগত সকল নির্বাচনের মতোই তামাশা ও প্রহসনে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইশরাক। নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার হওয়ায় নিঃশব্দ কারচুপির আশঙ্কা করছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা। তবে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে নিজে ভোট দিতে পারলে তারা বিজয়ী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত