প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টাইফয়েড, কলেরা, অপুষ্টিসহ অন্যান্য রোগের চ্যালেঞ্জ এবং সমাধান নিয়ে এশীয় সম্মেলন

বাংলা ট্রিবিউন : নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে টাইফয়েড, কলেরা, অপুষ্টি এবং অন্ত্রের অন্যান্য রোগ-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এবং এসবের মোকাবিলার উপায় সম্পর্কে আলোচনার জন্য ২৮ থেকে ৩০ জানুয়ারি এশীয় সম্মেলন (অ্যাসকড) অনুষ্ঠিত হবে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা।

পঞ্চদশ অ্যাসকড-এর আয়োজন করছে আইসিডিডিআর,বি এবং এতে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন এজেন্সি এবং বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেইটস ফাউন্ডেশন।

রবিবার (২৬ জানুয়ারি) হোটেল সোনারগাঁয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘টাইফয়েড, কলেরা ও অন্যান্য আন্ত্রিক রোগের সঙ্গে পুষ্টি-সংশ্লিষ্ট ব্যাধির সম্পর্ক: মানবিক বিপর্যয়ের যুগে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ।’

আন্ত্রিক সংক্রমণ, পুষ্টি, নীতি এবং প্রচলিত অনুশীলনের সাম্প্রতিক বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করা হবে। টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন: এশিয়া ও আফ্রিকাতে ব্যবহারের সম্ভাবনা, ২০৩০ সালের মধ্যে কলেরা নির্মূলকরণ: উদ্যোগ এবং চ্যালেঞ্জ, এনভায়রনমেন্টাল এন্টারোপ্যাথি, আন্ত্রিক মাইক্রোবায়োটা এবং শৈশবকালীন অপুষ্টি, এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ এবং আন্ত্রিক সংক্রমণের চিকিৎসার ওপর এর প্রভাব-সম্মেলনে গুরুত্ব পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২৮ জানুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাহিদ মালেক ডায়রিয়া ও পুষ্টি বিষয়ক এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। সম্মেলনে ১৮টি দেশের গবেষক, স্বাস্থ্য পেশাজীবী, নীতি-নির্ধারক এবং স্বাস্থ্য কার্যক্রম ব্যবস্থাপকরা অংশ নেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আইসিডিডিআর,বি-র সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ও অ্যাসকড-এর সভাপতি ড. ফেরদৌসী কাদরী বলেন, ‘১৯৮১ সালের দিকে যে সময়ে ডায়রিয়া শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল এবং মুখে খাওয়ার স্যালাইনের কার্যকারিতা সফল প্রমাণিত হলো, তখন প্রথমবারের মতো এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, এবং তখন থেকেই অ্যাসকড বাংলাদেশসহ ভারত, থাইল্যান্ড, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।’

ডায়রিয়াজাতীয় রোগ এখনও বিশ্বব্যাপী শিশু মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ। দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকায় ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে বেশিরভাগের মৃত্যুর কারণ ডায়রিয়া।

অন্যদিকে, সারা বিশ্বে ২ দশমিক ৬৯ কোটি অপুষ্টিতে ভোগা কৃশকায় বা উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের শিশুদের অর্ধেকেরই বাস দক্ষিণ এশিয়ায়। পাশাপাশি, বিশ্বের স্থুলকায় শিশুদের মধ্যে ৫৪ লাখ এবং ৪৮ লাখ যথাক্রমে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ায় বসবাস করে (মোট স্থুলকায় শিশুর ২৬.৬ শতাংশ)। অপুষ্টির দ্বিমুখী ব্যাপকতার শিকার সমগ্র অঞ্চলটি-বলেন ড. ফেরদৌসী কাদরী।

আবার বিশ্বে প্রায় ১ দশমকি ১ থেকে ২ কোটি মানুষ টাইফয়েড জ্বরে ভোগে। দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশ টাইফয়েড জ্বর সংক্রমণের জন্য উপযোগী, যার কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ন, শহর ও গ্রামাঞ্চলের বৈসাদৃশ্য, উন্নত পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগের অভাব এবং খোলা জায়গায় মল ত্যাগের অভ্যাস।

আইসিডিডিআর,বি-র নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর জন ক্লেমেন্স বলেন, ‘ঢাকায় পঞ্চদশ অ্যাসকড অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য লাখ লাখ মানুষ যেসব বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চলেছে তা সমাধানের উদ্দেশ্যে নতুন নতুন জ্ঞান অর্জন, জ্ঞান বিনিময় এবং আমাদের গবেষণা, উদ্ভাবন ও কর্মকৌশলসমূহ আলোচনা ও মূল্যায়ন করা।’

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এবং সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, ‘এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আমরা কীভাবে আরও ভালোভাবে পানিবাহিত রোগের ব্যবস্থাপনা করা যায় তা জানতে সক্ষম হব।’

জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্রোরা, আইসিডিডিআর,বি-র উপ-নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, ও আইসিডিডিআর,বি-র সংক্রামক রোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক অ্যালেন রস সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত