প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন : কার, কী উদ্দেশ্য?

 

সুলতান মির্জা :  আওয়ালী লীগের প্রার্থীরা ভোটে দাঁড়িয়েছে নির্বাচিত হলে পাবলিকের জন্য কিছু করতে। বিএনপির প্রার্থীরা ভোটে দাঁড়িয়েছে খালেদার মুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবে। এখন প্রশ্ন হলো এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হলে কি হবে? বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হলে কি হবে? গত বছর ডেঙ্গু নগরের সমস্যা ছিলো মোটাদাগে, আগামী দিনগুলোতেও ডেঙ্গু একটা সমস্যা… গত বছর ঢাকায় যখন ডেঙ্গু সমস্যা তৈরি করেছিলো তখন ৫৪ বিভাগের নগরীতে সম্পূর্ণ সরকার এক প্রকার ঝাঁপিয়েই পড়েছিলো ডেঙ্গু তাড়াতে। সফল কতোটুকু হয়েছে না হয়েছে সেটা ভিন্ন ইস্যুজ। তবে এটা ঠিক ঢাকায় বিএনপির মেয়র থাকলে ৫৪ বিভাগ পুরোদমে কাজ করবে না। ফলাফল কি হবে? আসেন ঢাকার জলাবদ্ধতা বিষয়ে, অতি বৃষ্টি হলে সারা পৃথিবীতেই নগরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, নগরের রাস্তায় পানি জমে।

নাগরিকরা সেটা বোঝে না, গালাগালি করে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারকে। গত কয়েক বছর ধরেই আওয়ামী লীগের মেয়র থাকার ফলে আওয়ামী লীগ গালি খাচ্ছে, পানি নামাতে পারুক আর না পারুক চেষ্টা করছে, বিএনপির প্রার্থী মেয়র হলে সরকারের কি … ঠেকা লাগবে পানি নিয়ে চিন্তা করতে? সরকার চেয়ে চেয়ে ঘুমাবে… নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে। রাস্তা-ঘাট, খানা-খন্দ, সম্ভবত দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ বাংলাদেশ, যেখানে তিনদিন আগে রাস্তা মেরামত করার পরে চতুর্থ দিন মনে পড়ে এই সড়ক কেটে গর্ত করে তার ড্রেন করতে হবে কিংবা পাইপ ঢোকাতে হবে। তো এমনিতেই আউট অফ কন্ট্রোল পরিস্থিতি, এমন অবস্থায় আওয়ামী লীগের মেয়র হলে যেই গর্ত মাস দুয়েকে ভরাট হবে, বিএনপির মেয়র হলে সেই গর্ত ৮-১০ মাসে ভরাট হবে না, এই বাস্তবতা বুঝতে চাইলে নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়লাভ করিয়ে বুঝতে হবে না। এমনিভাবে ঢাকা শহরের শত শত চলমান সমস্যা রয়েছে সরকার দলীয় সমর্থিত পার্টির মেয়র হলে বরাদ্দ পায় কাজ দ্রুত হয়। অপরদিকে বিরোধীদলের মেয়র হলে সমস্যা সমস্যার জায়গায় পড়ে থাকে, বরাদ্দ চাইলে বরাদ্দ আটকে থাকে, সরকার মেয়রনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় এমপির উপরে নির্ভর হয়। দুর্ভোগ বাড়ে জনগণের।

কাজেই নগরের ভোটে নগরের ভোটারেরা যদি এই সরকারের সামনে চার বছরের কিছু কম ক্ষমতার সময় রেখে স্রেফ আন্দোলনের অংশ হিসেবে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলের কাউকে মেয়র নির্বাচিত করে তাহলে তাদের নিজেদের … মারা খাওয়ার জন্য আলাদা কোনো লোকের দরকার হবে না। বাস্তবতা বুঝতে হবে, এই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে নির্বাচিত করলেই খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই হতে হবে। আইনের বাইরে কোনো আন্দোলনে খালেদার মুক্তি সম্ভব হলে বিএনপি এখনো নয়াপল্টনে বসে চুঙ্গায় ফুঁ দিতো না। অতএব, ভোট কাকে দেবেন না দেবেন এটা আপনার … ইচ্ছা, ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের সমস্যা সমাধান কাকে দিয়ে সম্ভব সেটা চিন্তা করুন। না হলে পরে আপনার কান্না আপনাকেই কাঁদতে হবে। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত