প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইউটিউব, ফেসবুক ছাড়া আপনি কখনো টের পেতেন না মুফতি ইব্রাহিম অথবা তারেক মনোওয়ার নামের ভ- হুজুরেরা কি পরিমাণ মিথ্যা কথা বলেন

 

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি : ইউটিউব, ফেসবুক ছাড়া আপনি কখনো টের পেতেন না মুফতি ইব্রাহিম অথবা তারেক মনোওয়ার নামের ভ- হুজুরেরা কি পরিমাণ মিথ্যা কথা বলেন। বিল গেটস হচ্ছেন টিকটিকি, জন্মনিয়ন্ত্রণ হারাম, টিকা দেয়া হারাম, সন্তান প্রসবে ডাক্তার নার্সের সহায়তা কেন লাগবেÑ ইত্যাদি আবর্জনা কতো লোক ধর্মের লেবাসে বিশ্বাস করে সেটা জানতে পারতেন না। শিক্ষার জন্য চীনে যাওয়া আর ভোটের জন্য হাটহাজারী যাওয়া যে এক, ইউটিউব ফেসবুক ছাড়া বুঝতে পারতেন না। ২০১৩ সালে নারীদের ‘তেঁতুল’ বলার পর শেখ হাসিনা শফী হুজুরকে নিয়ে বলেছিলেন, তিনি কি মায়ের পেট থেকে জন্মাননি? সেই শেখ হাসিনাই কেমন করে ২০১৯ সালে শফী হুজুরের কাছ থেকে উপাধি নিলেন ‘কওমি জননী’ তা বুঝতে পারতেন না। জানতেন সেই শফী হুজুরই সরকারের থেকে কয়েক কোটি টাকা আর রাষ্ট্রীয় সুবিধা পান। তিনি ক’দিন আগে স্কুল-কলেজকে জেনার কারখানা বলেছেন, গার্মেন্টসে কাজ করা মেয়েদের বলেছেন জেনাকারী।

অথচ বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস এই গার্মেন্টসে কাজ করা মেয়েরা। শফী হুজুর খোঁজ নিয়ে দেখেন আপনার মাথার টুপি আর পরনের পাঞ্জাবিও ওই তার ভাষায় ‘জেনাকারী’ মেয়েদেরই হাতে তৈরি। ইউটিউব ফেসবুক ছাড়া বুঝতে পারতেন না যে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে শুরু করে ডাক্তার বা বিজ্ঞানীকেও বিশ্বাস করা যায় না। তনু ধর্ষণ মামলায় মিথ্যাবাদী কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নয় আইনের সম্মিলিত চক্র যাদের একজন ডাক্তার কামদা প্রসাদ সাহা এবং ডাক্তার শারমিন সুলতানার লেখা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পড়ে মাথা ঘুরিয়েছিলো, যেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিজে আলামত ধ্বংস করে লিখেছিলোÑ তার শরীরে রেপের আলামত পাওয়া যায়নি।

মিথ্যাবাদী দুই ডাক্তার নিজেও জানতেন ১০ দিন পর ডিএনএ’র আলামত উধাও হয়ে যায়। লাশ মাটির নিচে দশদিন রেখে প্রাথমিক রিপোর্টে তারা লিখেছিলেন তারা গলায়, ঘাড়ে দাগ পাননি, স্পার্ম সেল পাননি, এপিথেলিয়াল সেল পাননি। তা বাদে তারা করেছিলেন টক্সিন টেস্ট, রক্তে বিষ পাওয়া যায়নি, মানে কেউ তনুরে মারেন, কেস ডিসমিস। ইউটিউব ফেসবুক ছাড়া বুঝতে পারতাম না এইটা এমন দেশ যে দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে হুজুর, ডাক্তার থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে বিশ্বাস করা যায় না। ভোটের জন্য, ভ-ামি টিকিয়ে রাখার জন্য দিনের পর দিন কতো প্রকারের মিথ্যা বলে সফল হওয়া যায় তা ইউটিউব ফেসবুক ছাড়া বুঝতে পারতাম না। ইউটিউব ফেসবুক ছাড়া বুঝতে পারতেন না কীভাবে ভ-ামি রাষ্ট্রের মদদে টিকে থাকে, কীভাবে জনগণের ঘামের টাকা শফী হুজুরদের ভ-ামি টিকিয়ে রাখায় ব্যবহার করা হয়। এতো কিছু বুঝে কী হবে জানতে চাইলে যেন হাসিমুখে বলতে পারিÑ এই মিথ্যাবাদীদের দেশে এখনো একটা সত্য জানার মাধ্যম টিকে আছে। তাই-ইবা কম কিসের? ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত