প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিটি নির্বাচনে বিএনপির পাশে নেই ২০ দলীয় জোটের শরিকরা

বাংলা ট্রিবিউন : ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের ২০ দলীয় জোটের শরিকরা আনুষ্ঠানিক সমর্থন দিলেও নির্বাচনি প্রচারণায় দলটির পাশে নেই তারা। শরিক দলের নেতারা বলছেন, ২৭ ডিসেম্বর সর্বশেষ ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে বিএনপির প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে—আরেকটি বৈঠক করে জোট নেতাদের প্রচারণার শিডিউল ঠিক করা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিএনপি সেই বৈঠক করতে পারেনি। এ কারণেই শরিক দলের নেতারাও বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না।

শরিক দলের নেতাদের অভিযোগ, বিএনপি মেয়র প্রার্থী ঠিক করার আগে শরিকদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেনি। বিএনপি আগে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। এরপর জোটের বৈঠক ডেকে সমর্থন নিয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। এই নেতারা আরও বলেন, এখন বিএনপি না বললে তারাও নিজ উদ্যোগে দলটির প্রার্থীদের প্রচারণায় অংশ নেবেন না।

এদিকে, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি নির্বাচনি পথসভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতারা বলছেন, এতে বোঝা যায় বিএনপির কাছে ২০ দলীয় জোটের চেয়ে ঐক্যফ্রন্টের গুরুত্ব বেশি। এ কারণেই সিটি নির্বাচন নিয়ে এই জোটভুক্ত শরিক দলগুলোর কোনও আগ্রহ নেই বলেও তারা জানান।

জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলা ইসহাক বলেন, ‘২০ দলীয় জোট তো বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছে। এখন তারা না ডাকলে আমরা কীভাবে প্রচারণায় যাবো? আর দেশে কি নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার সুযোগ আছে?’

এক প্রশ্নের জবাবে ২০ দলীয় জোটের আরেক শরিক দল কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ‘২০ দলীয় জোটের বৈঠক হলেও তো আপনারা জানতেন। তবে, আগামী মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের নেতৃত্বে আমরা ঢাকা দক্ষিণ সিটির নির্বাচনি প্রচারণায় নামতে পারবো।’

ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে একদিন প্রচারণায় অংশ নিয়েছি। তবে, জোটগতভাবে এখনও প্রচারণা শুরু হয়নি।’

এর আগে, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে প্রচারণা প্রসঙ্গে গত ১৭ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘গত সংসদ নির্বাচনের পর ২০ দলীয় জোট এবং আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম বর্তমান সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচনে অংশ নেবো না। কারণ, এই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন পুরোটাই সরকারের আজ্ঞাবহ। নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশন ছাড়া নির্বাচনে অংশ নিয়ে কোনও লাভ নেই। জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ এটা পর্যালোচনা করে দেখেছে, বর্তমানে পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। যে কারণে আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি না। আমাদের আগের সিদ্ধান্তই বহাল আছে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘সিটি নির্বাচন নিয়ে আমাদের সেক্রেটারি জেনারেল বক্তব্য দিয়েছেন। এর বাইরে আমার কোনও কথা নেই।’

তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের শীর্ষ এক নেতা বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা সিটি নির্বাচনে মেয়র কিংবা কাউন্সিলর কোনও পর্যায়ে আমরা অংশ নিচ্ছি না। যেখানে আমরাই নির্বাচন করছি না, সেখানে আরেক দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নামার কোনও যুক্তিও নেই।’

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২৭ ডিসেম্বর ২০ দলীয় জোটের যে বৈঠকে বিএনপি প্রার্থীদের জোটের পক্ষ থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছিল, সেখানেও জামায়াতের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

শরিক দলের নেতারা বলছেন, বিএনপি নেতারাও বুঝতে পেরেছেন এ নির্বাচনে তাদের জয়ের কোনও সম্ভাবনা নেই। এ কারণে তাদের মেয়র প্রার্থীরাও তেমন অর্থও খরচ করছে না। দায়সারাভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন আমাদের নিয়ে প্রচারণায় নামতে গেলেও তো ন্যূনতম খরচ করতে হবে। সেই খরচ করারও তাদের আগ্রহ নেই। আর নিজ খরচে প্রচারণায় যাওয়ারও আগ্রহ আমাদের নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি শরিক দলের শীর্ষ এক নেতা বলেন, ‘বিএনপির এক কাউন্সিলর প্রার্থীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে একদিন আমি প্রচারণায় অংশ নিয়েছি। কোথাও প্রচারণায় গেলে তো মিনিমাম খরচ আছে। সেটা আমি নিজ থেকে করেছি। এখন ১০ জন নেতাকর্মী নিয়ে মাঠে নামলে তাদের সকালের নাশতা, দুপুরে খাবারসহ আনুষঙ্গিক খরচ কে দেবে?’

শরিক দলগুলোর এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘২-৩ দিনের মধ্যে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক হবে। সেখানে জোটের শীর্ষ নেতারা কে কোথায় প্রচারণার অংশ নেবেন ঠিক করা হবে। তারপর সবাই একসঙ্গে প্রচারণায় অংশ নেবেন।’ এখন কোনও কোনও এলাকায় অংশ নিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত