প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নিয়ে মাঠে ঢাকার মেয়র প্রার্থীরা

বাংলাদেশ জার্নাল : দুই নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগও অব্যাহত আছে। সবমিলিয়ে প্রচারের ষষ্ঠ দিনেও ব্যস্ত সময় পার করেছেন দু’দলের চার মেয়র প্রার্থী। ৯০ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু-পয়ঃনিষ্কাশনসহ মৌলিক চাহিদা সমাধানের আশ্বাস দেন নৌকার প্রার্থী ফজলে নূর তাপস। পাবলিক টয়লেটের সমস্যা সমাধানের কথা বলেন বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। অন্যদিকে স্মার্ট ঢাকা ও যানজটমুক্ত আধুনিক শহর গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উত্তরের আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম এবং সড়কের নানা উন্নয়নসহ পরিবর্তনের আশ্বাস দেন বিএনপির তাবিথ আউয়াল।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, উন্নত ঢাকা গড়তে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করছি আমরা। ৩০ বছরমেয়াদি মহাপরিকল্পনা করে আমরা উন্নত ঢাকা গড়ে তুলব। সেখানে প্রত্যেকটি রাস্তাঘাটের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয় থাকবে। গুরুত্ব পাবে ডেঙ্গুসহ পয়ঃনিষ্কাশনের বিষয়গুলোও। সব নাগরিকের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করা হবে। সরস্বতী পূজা এবং সিটি ভোট একদিনে হওয়ায় হিন্দু ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চারের প্রেক্ষাপটে তাদের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। পূজার জন্য নির্বাচন পেছাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবির বিষয়ে বুধবার রাজধানীর কদমতলী-শ্যামপুর এলাকায় নির্বাচনী পথসভায় সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তাপস বলেন, তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচনী প্রচারণা করছি। আমি যেটা জেনেছি নির্বাচন কমিশন আলাপ করেছিল। কিন্তু পঞ্জিকা অনুযায়ী হয়তো একটু ভুল হয়ে গেছে। তাদের প্রতি সমবেদনা-সহমর্মিতা রয়েছে। কিন্তু এখন যেহেতু নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে, সেহেতু আমার নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যেতে হবে। আমি আশা করি, সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির অনেক জায়গায় ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। বুধবার দুপুরে ধানমন্ডি বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে তিনি সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন। ভোটে জয় পেলে তিন মাসের মধ্যে ঢাকায় পাবলিক টয়লেটের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি মেয়র নির্বাচিত হলে, তিন মাসের মধ্যে ডিএসসিসির প্রত্যেক ওয়ার্ডে জনবসতি অনুপাতে পাবলিক টয়লেট প্রতিস্থাপন করব। সেখানে নারীদের এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।’ পোস্টার লাগাতে বাধা দেয়ার পাশাপাশি কর্মীদের মারধর ও পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীই নির্বাচনী আচরণবিধি মানছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন নির্বাচনী প্রচারণার ষষ্ঠ দিন বুধবার ধানমন্ডি ১৪নং সড়কে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে দুপুর ১টায় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। পরে ধানমন্ডি ১৫ নম্বর ঝিগাতলা হয়ে হাজারীবাগ, রায়েরবাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন বিএনপি প্রার্থী ইশরাক।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ-মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেছেন, আমরা একটি পরিকল্পিত ‘স্মার্ট ঢাকা’ গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য ঘরে ঘরে উন্নয়নের মার্কা নৌকা পৌঁছে দিতে হবে। ঢাকাকে যানজটমুক্ত করার উদ্যোগ নেব। বুধবার এক নির্বাচনী সমাবেশে এ প্রতিশ্রুতি দেন আতিকুল। রাজধানীর ফার্মগেটের আল-রাজী হাসপাতালের সামনের খালি জায়গায় এ সমাবেশ হয়। মেয়র পদপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম ও দলীয় নেতাকর্মীরা এখান থেকেই শুরু করেন। এরপর ঢাকা ১২ আসনের অন্তর্ভুক্ত ২৩, ২৪, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের হলিক্রস স্কুল গলি, ছাপড়া মসজিদ, তেজকুনিপাড়া, লুকাসের মোড়, রেলগেট, নাবিস্কো, বেগুনবাড়ি ও তেজগাঁও এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ করেন আতিকুল।

বুধবার সকাল ১০টা থেকে আল-রাজী হাসপাতালের সামনে পিকআপভ্যানে সাউন্ডবক্সে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ‘থিম সং’ বাজতে থাকে। দলীয় নেতাকর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন বিরতিহীনভাবে। আর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে আসা ফার্মগেট ও তেজগাঁও এলাকার আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মী, অভিনেতা-অভিনেত্রী, খেলোয়াড়দের গাড়িতে বন্ধ হয়ে যায় ফার্মগেটের এই জায়গা। সমাবেশে মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, বাস মালিকদের সঙ্গে বসে বাসের রুট ঠিক করার কাজ করব। আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। আপনাদের নিয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সুন্দর ঢাকা শহর গড়ে তুলব।

আতিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা আমাদের আরেকটি চ্যালেঞ্জ। জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আশা করছি, পর্যায়ক্রমে ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন করতে পারব। গত নয় মাসে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। এই কঠোর অনুশীলনের পর ভবিষ্যতে তা ভালোভাবে প্রয়োগ করতে পারব। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণকে একটি আধুনিক সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থী। বুধবার দুই সিটির বিভিন্ন এলাকায় প্রচারকালে ভোটারদের কাছে তারা এমন প্রতিশ্রুতি দেন। ভোটারদের সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, নৌকা উন্নয়নের প্রতীক। বাংলাদেশে উন্নয়নের মার্কা একটা, আর তা হলো নৌকা। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে।

আমাকে যদি আপনারা নির্বাচিত করেন তাহলে সবাই মিলে সবার ঢাকা, সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ। মাদকমুক্ত ঢাকা গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, আমরা মাদকমুক্ত ঢাকা গড়তে চাই। যদি নির্বাচিত হই তবে অবশ্যই ঢাকাকে জলজট, যানজট, মাদকমুক্ত করব। এদিকে প্রতিদিন নতুন নতুন পদ্ধতিতে প্রচার-প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। এত দিন বিএনপি প্রার্থীদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হতো, এখন মাইক কেড়ে নেয়া হচ্ছে। পোস্টার না লাগাতে হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে, হামলা করা হচ্ছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় উত্তর বাড্ডায় রহমাতুল্লাহ গার্মেন্টসের সামনে থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারণা শুরুর পর তিনি এসব অভিযোগ করেন। নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রচারের আর ১২ দিন বাকি আছে। এই সময়ে যেন সব প্রার্থী সমানভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন নির্বাচন কমিশনকে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

তাবিথ আউয়াল বলেন, এই এলাকার জলবদ্ধতা ও সরু এলাকায় যানজট নিরসনে কাজ করব। নারী-শিশুসহ সবার নিরাপত্তায় কাজ করব। খোলা জায়গায় হাঁটার ব্যবস্থা করা হবে। বয়স্ক মানুষ, কর্মজীবী নারী-পুরুষ যাতে রাতে চলাচল করতে পারে সে জন্য সড়কে বাতি ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করব। দিনেরও মানুষের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে।

তাবিথ আউয়াল বলেন, ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। জনগণ ভোট দিতে পারলে বিজয় সুনিশ্চিত। তার প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির জলবায়ুবিষয়ক সহসম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহমেদ, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন। এ ছাড়া বিএনপি ও তার অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গণসংযোগে অংশ নেন। সর্বোপরি সবার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে একটি বিষয় মিলে যায়। সেটা হচ্ছে ঢাকা শহরের যানজটমুক্ত করা। কিন্তু ভোটের আগে সবার প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি কতটা সফল হবে তা সময়ই বলে দেবে। আর এ জন্য নগরবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের পর ৯০ দিন পর্যন্ত। প্রতিশ্রুতি কতটা প্রকৃতভাবে সফল হবে, তা দেখার জন্য অপেক্ষাও করতে রাজি রাজধানীর দুই সিটির ভোটাররাও।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত