প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রুম্পা হত্যা মামলায় প্রেমিক সৈকত ৪ দিনের রিমান্ডে

সুজন কৈরী : রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যু নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে না তিনি আত্মহত্যা করেছেন, সেই রহস্য ভেদে থানা পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে গোয়েন্দা বিভাগ ও সিআইডি।
রুম্পার মৃত্যুর ঘটনায় রোববার তৃতীয় দিনের মতো উত্তাল স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন রুম্পার সহপাঠীরা। এতে অংশ নেন শিক্ষক ও রুম্পার পরিবারের সদস্যরা। রুম্পাকে হত্যার অভিযোগ এনে তারা সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান।

এদিকে কথিত প্রেমিক সৈকতকে রুম্পার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে ডিবি পুলিশ। গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-দক্ষিণ) এডিসি রাজিব আল মাসুদ বলেন, ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত ৪ দিনের অনুমতি দিয়েছেন।

এর আগে শনিবার রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে সৈকতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৈকতের সঙ্গে রুম্পার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। তাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপে কথোপকথন হতো। মোবাইল ফোনে খুব কমই কথা হতো। কিন্তু একপর্যায়ে গত তিন চার মাস আগে সম্পর্ক আর রাখা সম্ভব নয় বলে রুম্পাকে জানিয়ে দেন সৈকত। কিন্তু রুম্পা সৈকতের প্রতি খুবই দুর্বল ছিলেন। তার সঙ্গেই সম্পর্ক রাখতে চাইতেন। সৈকতকে নিয়ে খুব স্বপ্ন দেখতেন রুম্পা। আবেগও ছিলো খুব বেশি। ঘটনার দিন সৈকতের সঙ্গে দেখা করার জন্য ভালো জামাও পড়েন রুম্পা। ওই জামা পড়েই তিনি ক্যাম্পাসে যান। কিন্তু সৈকত রুম্পার যাওয়ার বিষয়টি জানতেন না। ক্যাম্পাসে রুম্পাকে দেখে সৈকতও অবাক হন। ওই সময় সৈকত সম্পর্ক না রাখার বিষয়টি আবারো রুম্পাকে জানান।

অপরদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্পর্ক না রাখার বিষয়ে রুম্পাকে অনুরোধ জানালে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিনও স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসের একটি অনুষ্ঠানে যোগদানের পর বাইরে সৈকতের সঙ্গে রুম্পার দেখা হয়। সেখানে সম্পর্কের বিষয়ে আবারো কথা হয়। তবে সৈকত সম্পর্ক না রাখার জন্য আবারো রুম্পাকে অনুরোধ করেন। ফলে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য চরম আকার ধারণ করে। গোয়েন্দারা সন্দেহ করছেন, এরই প্রেক্ষিতে ঘটনার দিন রাতে সৈকত তার সহযোগীসহ রুম্পাকে হত্যা করে লাশ সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের ৬৪/৪ নম্বর বাড়ির সামনের ছাদ থেকে ফেলে দেয়। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত