প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বড় দুই রাজনৈতিক দল মুখোমুখি অবস্থানে, গরম হয়ে উঠতে পারে রাজনৈতিক ময়দান

মাজহারুল ইসলাম : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আজ রাজধানীসহ দেশের সকল জেলা সদরে বিএনপি বিক্ষোভ করবে বলে গতকাল ঘোষণা দিয়েছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এদিকে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও। বিএনপির আন্দোলন সংগ্রাম মোকাবেলায় তারাও প্রস্তুতি নিচ্ছে। যে কোনো অরাজকতা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে ইতোমধ্যে হুশিয়ারি দেয়া হয়েছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে। আর তাই আবারও গরম হয়ে উঠতে পারে রাজনৈতিক ময়দান। এতে করে মুখোমুখি হতে পারে দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

শনিবার কর্মসূচি ঘোষণার পর ফখরুল বলেছিলেন, স্বাধীনতার প্রায় ৪৯ বছর পরও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আমরা পাইনি। যারা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলো দুর্ভাগ্যজনকভাবে বার বার তাদের হাতে গণতন্ত্র নিহত হয়েছে। ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবারও দেখছি ক্ষমতার জোরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও যন্ত্র ব্যবহার করে জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই ক্ষমতায় বসে আছে তারা। অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আসুন এই বিজয়ের মাসে আমরা শপথ গ্রহণ করি, যেকোনো মূল্যে আমরা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আমরা রক্ষা করবো। তবে এর জন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বিএনপির সূত্রে জানা যায়, ১২ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার জামিনের রায়ের শুনানির পরই আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। খালেদা জিয়ার জামিনের রায় নেতিবাচক হলে সরকার পতনে এক দফায় যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত আছে হাইকমান্ডের। তাই চূড়ান্ত আন্দোলনের আগে ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে সক্রিয় হতে চাচ্ছে বিএনপি। তাই ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়ার মুক্তিকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালন করছে। এরপর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করার চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি। তাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের শরিকদেরও পাশে রাখতে চায় তারা।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জন্য আন্দোলন করতেই হবে। আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া এখন কারাগারে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে তার কারামুক্তির বিকল্প নেই। আমরা আশা করি আদালতে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন। তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার আদালতে তার জামিন শুনানি। যদি আদালতকে ব্যবহার করে সরকার তার জামিন আটকে দেয়, তাবে রাজপথেই এর সমাধান হবে। মানুষ তখন এ সরকার পতনের আন্দোলনকেই বেছে নিবে।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা মনে করেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বিএনপি। আর তাই এ আন্দোলন মোকাবেলায় সারা দেশে সতর্কাবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ২০১৪ সালের বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য থেকে শিক্ষা নিয়ে আওয়ামী লীগও প্রস্তুত থাকছে। আওয়ামী লীগের অপর একটি সূত্র বলছে, মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান ঘিরে বড় আন্দোলনের ছক কষতে পারে বিএনপি-জামায়াত। বিষয়টি মাথায় নিয়ে এখন থেকেই নজরদারি বৃদ্ধি ও সতর্কাবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি আন্দোলনের নামে অরাজনৈতিক কর্মসূচি দিলে দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে বলে ইতোমধ্যে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি এখন আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনে ব্যর্থ। তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। কিন্তু আন্দোলনের নামে তাদের নৈরাজ্যের চেষ্টা রুখে দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তারা আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থ। তাই তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। আন্দোলনের নামে তাদের যে কোনো নৈরাজ্যের চেষ্টা রুখে দেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান বলেছেন, আমরা তাদের যে কোনো অরাজকতা প্রতিহতে রাজপথে সতর্ক পাহারায় থাকবো। তাদের যে কোনো আন্দোলন রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করা হবে। একই প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী বলেছেন, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ের সব স্তরের নেতাকর্মী ইতোমধ্যে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। বিএনপির আন্দোলনের প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছেন, জনগণ সঙ্গে না থাকায় তারা গত ৬ বছরে আন্দোলন করতে চেয়েও পারেনি তারা। আন্দোলনের নামে অরাজকতার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের প্রতিহত করবে। সম্পাদনা : ইয়াসিন আরাফাত

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত