প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছাতকে মৌসুমের আগেই তরমুজ চাষ

ইনকিলাব : সুনামগঞ্জের ছাতকে এই কাজ করে চমক দেখিয়েছেন এক শিক্ষার্থী। আফজলাবাদ ইউনিয়নের বাগইন গ্রামের ওই শিক্ষার্থীর নাম হাদিউর রহমান। গ্রামের পাশে বটের নদীর পাড়ে ৫ বিঘা জমিতে মাঁচা পদ্ধতিতে ‘সুইস ব্লাক-২’ ও ‘ব্লাক বক্স’ জাতের তরমুজ চাষ করেন তিনি। রোপন করার ২ মাসের মধ্যেই মাঁচায় ঝুঁলছে কাঁচাপাকা তরমুজ। এমন ব্যতিক্রমী চাষাবাদে অনুপ্রাণিত হয়েছে এলাকার সকল শ্রেণি পেশার মানুষ।
আর তাই তার তরমুজ ক্ষেত দেখতে প্রতিদিন সেখানে লোকজন জড়ো হচ্ছেন। গত সপ্তাহে ওই তরমুজ ক্ষেত পরিদর্শন করে হাদিউরের ভূয়সী প্রশংসা করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম কবিরসহ বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে হাদিউর জানান, সিলেট এমসি কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে মাস্টার্স ও সোবহানীঘাট আলিয়া মাদরাসায় কামিল দ্বিতীয় বর্ষে লেখাপড়া করছেন। টেলিভিশনে ছবিসহ কৃষি ক্ষেতের বিভিন্ন খবর দেখে তিনি এমন উদ্যোগী হয়েছেন।

হাদিউর জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর হাদিউর নিজের গ্রামের বটের নদীর উত্তর পাড়ে ৫ বিঘা জমিতে মাঁচা পদ্ধতিতে আগাম জাতের তরমুজ চাষের উদ্যোগ নেন। এর জন্যে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় জমি। এরপর কুষ্টিয়া থেকে বীজ সংগ্রহ করে চারা রোপন করেন। প্রতি বিঘায় এক হাজার ২০০টি করে গাছ রোপনের পর ৫ বিঘা জমিতে ৬ হাজার চারা গজায়। চারাগুলোর ওপর বাঁশ ও জাল দিয়ে তৈরি নৌকার ছৈয়ার আদলে মাঁচানে লতা-পাতা বিস্তার করতে শুরু করে। ক’দিন পর মাঁচানে ঝুলতে থাকে তরমুজ। বর্তমানে ওই জমিতে ১২ হাজার তরমুজের ফলন হয়। সুমিষ্টি তরমুজগুলো এখন বিক্রিও করছেন পার্শ্ববর্তী গোবিন্দগঞ্জ বাজারে। এখন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি লাভের আশা করছেন তিনি।

তিনি আরো জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ব্যয় হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। আগাম জাতের তরমুজের সেখানে তিনি শসা লাগাবেন। শসার ফলন তুলে আগামী রমজানের আগে আবারও ওই জমিতে তিনি আগাম জাতের তরমুজ রোপন করবেন। তাছাড়া পাশের আরেও ১০ বিঘা জমিতে দেশীয় পদ্ধতিতে ‘ক্যামেলিয়া’ ও ‘বিগ ফ্যামেলি’ জাতের তরমুজের চারা রোপন করা হয়েছে। যা আগামী ২ মাস পর ফলন উঠতে শুরু করবে।
এ প্রসঙ্গে ওই তরমুজ ক্ষেতের শ্রমিক আজাদ মিয়া বলেন, এখানে শ্রমিকের কাজ করে তিনি বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান জানিয়েছেন, মাস্টার্সের ছাত্র হাদিউর রহমানের মতো যারা কৃষি কাজে এগিয়ে আসবে তাদেরকে সহায়তা করা হবে।
অনুলিখন : মাজহারুল ইসলাম / সম্পাদনা : ইযাসিন আরাফাত

সর্বাধিক পঠিত