প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কেন্দ্রীয় সন্মেলনকে ঘিরে আওয়ামী লীগে বইছে উৎসবের আমেজ

ইয়াসিন আরাফাত : আর মাত্র ১৩ দিন পর ২০ ও ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আসন্ন কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে ঘিরে দেশব্যাপী নেতা-কর্মীরা রয়েছেন উৎসবের আমেজে। ধারণা করা হচ্ছে, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সম্মেলনে নেতৃত্বের যে পরিবর্তন হয়েছে সেই ধারাবাহিকতা থাকবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনেও।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ রূপরেখা হচ্ছে, বিতর্কিত ও অভিযুক্তরা আওয়ামী লীগে থাকতে পারবে না। গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও গবেষণায় দেখা যায়, যারা ত্যাগী, আদর্শিক, সৎ ও দুঃসময়ের সঙ্গী তারা দলে কোণঠাসা হয়ে গেছেন। অন্যদিকে যারা টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস করেন এবং বৈধ ও অবৈধ পন্থায় টাকা-পয়সা বানিয়েছেন তাদের অনেকেই দলের নেতৃত্বের সামনে চলে এসেছেন। এ অবস্থা এবার পাল্টে ফেলা হবে। রাজনীতি করতে গেলেই যে সন্ত্রাস লাগবে, টাকা-পয়সা লাগবে এ ধারণা এর মধ্যে পাল্টে ফেলছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সেই পাল্টে ফেলার অংশ হিসেবেই দলে ও সরকারে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যার প্রতিফলন আগামী কমিটির নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

এবারের সম্মেলনের মাধ্যমে ৮১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আসতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে দলের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সূত্র থেকে। সভাপতি পদে শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি আওয়ামী লীগে। ফলে তিনিই যে সভাপতি থাকছেন, এটা অনেকটা নিশ্চিত। তবে দলের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন, এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসছে কি না, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল থাকলেও আওয়ামী লীগ সভাপতি এ বিষয়ে এখনো দলের নেতাদের কাছে কোনো মনোভাব ব্যক্ত করেননি। যদি এই পদে পরিবর্তন হয় তবে কে হবেন পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক এমন প্রশ্নে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণ সম্পাদক পদে ৭জনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, আব্দুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

এদিকে দলের যুগ্ম ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বড় ধরনের রদবদল হবে বলেও জানিয়েছেন তারা। এছাড়া পরিবর্তন আসবে প্রেসিডিয়ামেও। সম্পাদকমণ্ডলীতেও দেখা যাবে নতুন মুখ। সম্মেলনে বর্তমান কমিটির অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নেতা বাদ পড়তে পারেন। নিষ্ক্রিয়, বিতর্কিত নেতাদের বাদ দিয়ে তরুণ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের কমিটিতে স্থান দেয়া হবে। এছাড়া এবারের সম্মেলনে দলের গঠনতন্ত্রে তেমন কোনো পরিবর্তন আসছে না। সব মিলিয়ে বড় ধরনের রদবদল ঘটতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে।

ইতোমধ্যে আসন্ন সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসতে নিয়মিত দলীয় সভানেত্রীর ধানমন্ডি কার্যালয়ে সমাগম বেড়েছে সাবেক ছাত্রনেতা, জেলার প্রবীণ নেতা থেকে শুরু করে দলীয় এমপিদের। গণভবনেও নিয়মিত যাওয়া-আসা করছেন পদপ্রত্যাশীরা। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে জেলা-মহানগর ও উপজেলা সম্মেলন শেষ করতে ছুটে বেড়াচ্ছেন দলের সিনিয়র নেতারা। সম্মেলন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১১টি উপকমিটি রাতদিন কাজ করে চলেছে সমানতালে। এবারের সম্মেলনে ৬ হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। থাকছেন না বিদেশি অতিথি। বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

সম্মেলন সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। আসন্ন সম্মেলনের মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপকমিটি সূত্রে জানা গেছে, দলের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন আয়োজনের মঞ্চ নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। যেহেতু ২০২১ সালের ১৭ মার্চ থেকে পালিত হবে মুজিববর্ষ। এর আগে ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে মুজিববর্ষের কাউন্টডাউন। আর মুজিববর্ষের আগে আওয়ামী লীগের এই সম্মেলনের সভামঞ্চে থাকবে নজরকাড়া সাজসজ্জা ও আলোর ঝলকানি।

ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের সভামঞ্চের একটি ছবি পাওয়া গেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, প্রমত্ত পদ্মার বুকে ৪০টি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে পদ্মাসেতু। সেটি সম্পূর্ণ দৃশ্যমান। পদ্মাসেতুর সামনের বিশাল জলরাশিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে ছোট ছোট নৌকা। একপাশে চরে জেগে আছে কাশবন। এমনই একটি আবহের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে বিশালাকার এক পাল তোলা নৌকা। তাতে আবার জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি। এর পেছনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধুকন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বিশাল ছবি। এ ছাড়াও সম্মেলনস্থলে সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের বিশাল ফেস্টুন, তাতে ছবি ছাড়াও থাকবে বিবরণ।

গতকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘুরে দেখা যায়, নৌকার আদলে মঞ্চ বানানোর জন্য শেষ মুহূর্তে কাঠ, পেরেকের কাজ করছেন কারিগররা। শত শিল্পী ও কলাকুশলীর নিরলস প্রচেষ্টায় এগিয়ে চলেছে সম্মেলনস্থল প্রস্তুত করার যাবতীয় কাজ।

দলীয় সুত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে রাজধানীজুড়ে যে সাজসজ্জা করা হয় এবার তা করা হচ্ছে না। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাড়া অন্য কোথাও তেমন সাজানো হবে না। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, যেহেতু আগামী বছর মুজিববর্ষ শুরু হচ্ছে। তাই আওয়ামী লীগের মূল ফোকাস থাকছে মুজিববর্ষকে ঘিরে।

সূত্রে আরও জানা গেছে, একশ চিকিৎসক নিয়ে ১২টির মতো প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র প্রস্তুত করছে স্বাস্থ্য উপকমিটি। এছাড়া প্রিয়াংকা কমিউনিটি সেন্টারসহ বেশ কয়েকটি খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে খাদ্য উপকমিটি ।

দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, ২০ ডিসেম্বর সম্মেলনের সূচনা হলেও ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে যাবে সম্মেলনের জন্য। এরপর ১৬ থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪দিন সম্মেলনস্থল থাকবে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। তারা এই সময়ের মধ্যে সম্মেলনস্থলটি ঘুরেফিরে দেখতে পারবেন। সম্পাদনা : মাজহারুল ইসলাম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত