শিরোনাম
◈ রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ◈ শেখ হাসিনা আপিলের সুযোগ পাবেন কি না, আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত : আইনমন্ত্রী ◈ চট্টগ্রামে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনকালে দুর্ঘটনায় ২ সেনাসদস্য নিহত, আহত ১ ◈ বিআরটিএর অনুমতি ছাড়া স্লিপার বাস চালানো যাবে না: হাইকোর্ট ◈ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দিতে ইসি প্রস্তুত : সিইসি ◈ পলিথিন-প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ ডেঙ্গুর প্রকোপ সেপ্টেম্বরের শেষে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ◈ দুর্গাপূজায় বাংলাদেশ থেকে ইলিশ চায় ভারত, রপ্তানির বিষয়ে ইতিবাচক সরকার ◈ ১০০ ডলার ছুঁইছুঁই তেলের দাম, বাড়তে পারে আরও ◈ বাঁধনের ওপর হামলার খবর ইতালীয় গণমাধ্যমগুলোতে, তদন্তে বিশেষ পুলিশ

প্রকাশিত : ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১১:৫৯ দুপুর
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১১:৫৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিমান চলাচল বিপদজনক যেসব দেশে

মাজহারুল ইসলাম : বিমানে কোথাও যাওয়াকে সবচেয়ে নিরাপদ ভ্রমণ মনে করা হলেও কিছু দেশ আছে যেখানে বিমানে চলাচল মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এরকম একটি দেশ হচ্ছে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র বা ডিআরসি। স¤প্রতি কঙ্গোতে ২টি দুর্ঘটনার পর বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে বড় রকমের প্রশ্ন উঠেছে। এখানকার পূর্বাঞ্চলীয় শহর গোমায় সবশেষ দুর্ঘটনাটি হয়েছে গত নভেম্বরে। ওই সময় একটি বাড়ির ওপরে যাত্রীবাহি বিমান আছড়ে পড়লে ২৭ জন প্রাণ হারান। বিবিসিবিাংলা

জানা যায়, এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্ক সারাবিশ্বে বিমান চলাচলের ওপর নজর রাখে এবং এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। তাদের তথ্য উপাত্তে দেখা যায়, ১৯৪৫ সালের পর আফ্রিকা মহাদেশের এই দেশটিতেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক যাত্রীবাহী বিমান দুর্ঘটনায় পড়েছে। নর্থ ড্যাকোটা ইউনিভার্সিটির ড্যানিয়েল কাওয়াসি আদজেকুম বলছেন, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে প্রচুর দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে নানা কারণ। এর মধ্যে ভৌগলিক ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় দুর্বলতা অন্যতম। একই সঙ্গে এই দেশটিতে বিমানে চলাচল করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাজধানী কিনশাসা থেকে দেশটির ২৫টি বড় শহরের মাত্র ৪টি ছাড়া আর কোনটিতেই সড়ক পথে যাওয়া যায় না। তাছাড়া দেশটির বিমান বন্দরের অবকাঠামো খুবই সেকেলে ও ভগ্নপ্রায়। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্যে যে ট্রাফিক ব্যবস্থা ও যন্ত্রপাতি আছে, সেসবও কোন রকমে কাজ চালানোর মতো।
তা ছাড়াও সেখানে ফ্লাইট ক্রু এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্যে যারা কাজ করেন, তাদের নিয়েও সমস্যা আছে। তাদের ওপর নজরদারি করার মতো তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। আর কিছু কিছু দুর্ঘটনার জন্যে দায়ী খারাপ আবহাওয়া, প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝড়। ২০১০ সালের পর থেকে সবচেয়ে বেশি বিমান দুর্ঘটনা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। তার পরেই রাশিয়া, ক্যানাডা, মেক্সিকো এবং ইন্দোনেশিয়া।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিকভাবে যেসব রুট ব্যবহৃত হয়, বিশ্বের মধ্যে সেগুলোই সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত। এই পথে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিমান চলাচল করে আর এ কারণে সেখানে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে বেশি। এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে রাশিয়াতে, ৫৩২। তারপরেই ইন্দোনেশিয়া। এখানে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৫২০ জন। এই ২টি দেশে বিমান যাত্রীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের সংখ্যা। গত ১০ বছরে রাশিয়াতে বিমান-যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৩গুণ বেড়েছে। আর ইন্দোনেশিয়াতে বেড়েছে ৪ গুণ। এই একই সময়ে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে দুর্ঘটনায় যতো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে, একই সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে নেপালেও। এই দুটো দেশেই এই ১০ বছরে ১৮০ জনের মতো নিহত হয়েছে।

নেপালেও বিমান দুর্ঘটনার জন্যে এর ভূ-প্রাকৃতিক কারণকে দায়ী করা হয়। বিমান বন্দর এমন একটি জায়গায় যেখানে পাহাড় কাটিয়ে রানওয়েতে অবতরণ করা অনেক সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও দুর্বলতা আছে নেপালে। এসব স্বত্বেও দেশটিতে বিমান-যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। যাত্রীর সংখ্যা গত কয়েক বছরে বেড়েছে। ডিআরসির চাইতেও নেপালে যাত্রীবাহী বিমানের সংখ্যা ৩ গুণ বেশি। সারা বিশ্বে যতো বিমান চলাচল করে, তার মাত্র শূন্য দশমিক এক শতাংশ বিমান চলে ডিআরসিতে। অর্থাৎ বিশ্বে এক হাজার বিমান থাকলে এই দেশে বিমান আছে মাত্র একটি। কিন্তু ২০১০ সালের পর থেকে মোট বিমান দুর্ঘটনার ৪ শতাংশই ঘটেছে এই দেশে। একারণে এই দেশটির বিমান ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক দেশেই আসা নিষিদ্ধ কিম্বা সীমিত। সম্পাদনা : ইয়াসিন আরাফাত

  • সর্বশেষ