প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’: ২২ মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল

অনলাইন রিপোর্ট : ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় ২২টি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করেছে সরকার।

শুক্রবার (৮ নভেম্বর) বিকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এনামুর রহমান।এর আগে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর প্রভাব মোকাবেলায় মনিটরিং সেলের সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত যে কোনো সময় ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আঘাত হানতে পারে। তাই এর মোকাবেলায় সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

তিনি জানান, সাতটি জেলাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এজন্য ইতিমধ্যেই সাইক্লোন সেন্টারসহ উপকূলের আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রতিটি সাইক্লোন সেন্টারে দুই হাজার প্যাকেট করে শুকনো খাবারসহ নগদ পাঁচ লাখ করে টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আরো সামান্য উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেতের পরিবর্তে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।আর চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৯০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্দ রয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে যাতে স্বল্প সময়ের নোটিশে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে। সেই সাথে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষ উদ্যোগ করেছে। আজ থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত উপকূলীয় জেলাসমূহের পানি উন্নয়ন বোর্ড সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ব-স্ব কর্মস্থলে অবস্থান করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ঝড়টি আজ সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। এটি আরো ঘণীভূত হয়ে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় আবহাওয়ার পরিস্থিতির অবণতি হতে পারে।- বিবার্তা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত