প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রথমবারের মতো আমন্ত্রিত হয়েও কাবা শরিফ ধোয়ার উৎসবে যেতে পারেনি বাংলাদেশ

ইসলাম ডেস্ক : প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এমন সৌভাগ্যের অধিকারী হলেন। আমন্ত্রণ পেলেন পবিত্র কাবা শরিফ ধৌত করার পবিত্র উৎসবে। সৌদি আরব ও মসজিদুল হারাম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পালিত ঐতিহাসিক রীতি এটি। সৌদি আরবের বাদশাহ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা এ উৎসব অংশ নেন। এ বছর এ উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয় বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শেখ মোহাম্মাদ আবদুল্লাহকে।-আলোকিত বাংলাদেশ

গত সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় পবিত্র কাবাঘর ধোয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। এবারের কাবা শরিফ ধোয়ার উৎসবে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের প্রতিনিধি হিসেবে মক্কার গভর্নর প্রিন্স খালিদ আল ফয়সাল নেতৃত্ব দেন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজে দ্রুত দেশে ফিরে আসেন বলে যথা সময়ে আমন্ত্রণপত্রটি তার হাতে এসে পৌঁছায়নি। দেশে ফেরার পর তিনি আমন্ত্রণপত্রটি হাতে পান। তখন আবার নতুন করে সেখানে গিয়ে কাবা ঘর ধৌত উৎসবে অংশগ্রহণ করার কোনো সুযোগ ছিল না।

আমন্ত্রণপত্রের সঙ্গে ১৪৪১ হিজরি সনের মহররম মাসে অনুষ্ঠিত ধৌত উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য শেখ মোহাম্মাদ আবদুল্লাহর নামে একটি প্রবেশ কার্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া আমন্ত্রণপত্রের সঙ্গে পাঠানো একটি আরবি নির্দেশিকায় ধৌত উৎসবের সময় কাবা ঘরে কোনো ক্যামেরাম্যান প্রবেশ করতে না পারা, কার্ডধারীরাও কেউ মোবাইল সঙ্গে নিতে না পারা এবং কাবা ঘরের ভেতরে প্রবেশের জন্য কার্ডটি সর্বদা সঙ্গে রাখাসহ বিভিন্ন নিয়মরীতির কথা উল্লেখ করা হয়।

এ সম্পর্কে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মাদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে অন্তরের অন্তস্থল থেকে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি, অত্যন্ত পবিত্র একটি কাজে তিনি আমার মতো একজন বান্দার নাম মনোনীত করেছেন। এটা আমার জীবনের অনেক বড় একটি প্রাপ্তি। তবে দুঃখপ্রকাশ করছি, কাবা ঘর ধৌত করার মহতী ও পবিত্র উৎসবে আমি অংশগ্রহণ করতে পারিনি। কারণ ধৌত কার্য সম্পন্ন হওয়ার দিন আমার কাছে আমন্ত্রণপত্রটি এসে পৌঁছেছে। আল্লাহ যেন তার বান্দার এ অক্ষমতাকে ক্ষমা করেন। আমিন।

যুবরাজ খালিদের সঙ্গে এবারের ধৌত উৎসবে উপস্থিত ছিলেন পবিত্র কাবা ঘরের প্রধান ইমাম শায়খ আবদুর রহমান আস-সুদাইস, মক্কার ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স বদর বিন সুলতান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, জরুরি বাহিনীর প্রধান এবং হজ নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডার ও অন্য নিরাপত্তারক্ষীরা। শায়খ আবদুর রহমান আস-সুদাইস বলেন, ‘এটি রাসুল (সা.) এর সুন্নত। মক্কা বিজয়ের পর নির্দিষ্ট দিনে তিনি এ কাজটি করেছেন। এছাড়া পবিত্র কোরআনেও এ ব্যাপারে নির্দেশনা রয়েছে। আল্লাহ মহান পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন, ‘তাওয়াফকারী ও নামাজে দ-ায়মান এবং রুকু-সিজদাকারীদের জন্য আমার গৃহকে পবিত্র রাখ।’ (সূরা হজ : ২৬) সুতরাং আল্লাহ মহানের নির্দেশনা ও রাসুল (সা.) এর সুন্নত অনুযায়ী সৌদি সরকার প্রতি বছর মহতী এ কাজটি আঞ্জাম দেয়।’

প্রসঙ্গটি নিয়ে কথা হয় সৌদি আরবে বাংলাদেশ হজ অফিসের কাউন্সিলর মাকসুদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার জানা মতে বাংলাদেশ থেকে এই প্রথম কোনো মন্ত্রীকে পবিত্র কাবা ঘর ধোয়ার উৎসব সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিন্তু দুঃখ ও আফসোসের বিষয় হলো, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী দেশে ফিরে যাওয়ার পরের দিন রাতে অর্থাৎ পবিত্র কাবা ঘর ধৌত করার দিনের আগের রাতে আমন্ত্রণপত্রটি আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। আমন্ত্রণপত্রটি হাতে পেয়ে আমি থ বনে গেলাম। এটা কী হলো, ভাবতে ভাবতে বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পাঠালাম। তখন আসলে প্রতিমন্ত্রীর আবার এসে এ উৎসবে অংশগ্রহণ করার কোনো সুযোগ ছিলো না। সুখের বিষয় হচ্ছে, একবার যেহেতু পবিত্র এ উৎসবে প্রতিমন্ত্রীর নাম মনোনীত হয়েছে, ভবিষ্যতে এ তালিকায় বাংলাদেশ থাকবে ইনশাআল্লাহ।’

পবিত্র কাবা শরিফ ধৌত কার্যক্রমটি সৌদি আরবে খুবই বরকতময় একটি উৎসব হিসেবে পালিত হয় এবং এ উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পারাকে সবাই নিজের সৌভাগ্য হিসেবে মনে করে থাকেন। আরবি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রতি বছর দুইবার- মহররম ও শাবান মাসে কাবা শরিফের ভেতরে ধোয়া হয় এবং কাবার গায়ে নতুন গিলাফ পরানো হয় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে।

পবিত্র জমজমের পানিতে সুগন্ধি আতর, জাফরান মিশিয়ে কাপড়ের টুকরো এবং খেজুর পাতা ব্যবহার করে পবিত্র কাবা ঘরের মেঝে ও দেয়াল ধৌত করা হয়। কাবা ঘর ধোয়ার জন্য ভেতরে প্রবেশের আগে তাওয়াফ ও দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা হয়। পরিষ্কার করার পর মেঝে এবং দেয়াল সাদা কাপড় এবং উন্নত মানের টিস্যু দিয়ে শুকানো হয়। কাবা শরিফ ধোয়ার সময় দুই ঘণ্টা দরজা খোলা থাকে। এরপর বের হয়ে সবাই ধারাবাহিকভাবে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেন এবং পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ করেন। তাওয়াফ শেষে কেউ কেউ মাকামে ইবরাহিমেও দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ