প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাতিসংঘ কনভেশনে স্বাক্ষর করেনি বাংলাদেশ, তাই রোহিঙ্গারা শরণার্থী নয়

আসিফুজ্জামান পৃথিল : শরণার্থীদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে ১৯৫১ সালে জাতিসংঘ একটি কনভেনশন গ্রহণ করে, যা ১৯৬৭ সালের প্রটোকল হিসাবে সংশোধিত হয়েছিলো। বাংলাদেশ ঐ কনভেনশনে কখনই স্বাক্ষর করেনি। ফলে বিশ্বব্যাপী শরণার্থীদের জন্য যেসব অধিকার বা সুবিধা নিশ্চিত করতে হয়, সেগুলো করার জন্য বাংলাদেশের সরকারের ওপর বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। জনবহুল এই দেশটিতেই গড়ে উঠেছে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির। কিন্তু বাংলাদেশ কখনই শরণার্থী স্ট্যাটাস দেয়নি রোহিঙ্গাদের। সে হিসেবে রোহিঙ্গাদের বড়জোড় শরণপ্রত্যাসী বলা যেতে পারে বা আশ্রিতও বলা যেতে পারে। কিন্তু তাদের কোনোভাবেই শরণার্থী বলার সুযোগ নেই। বিবিসি।

বাংলাদেশে শরণার্থী বিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুসারে। বাংলাদেশে শরণার্থীদের ব্যাপারে কোনো আইন নেই। শরণার্থীদের ব্যাপারে নির্দিষ্ট আইন ও বিধিবিধান জারির আবেদন জানিয়ে ২০১৭ সালে সেপ্টেম্বর মাসে হাইকোর্টে নিদের্শনা চেয়ে রিট পিটিশন করেছিলেন একজন আইনজীবী। তবে সেই রিটের এখনো রায় হয়নি। কর্মকর্তারা বলছেন, বিহারী জনগোষ্ঠী আর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ঘটনা ছাড়া বাংলাদেশে শরণার্থী হিসাবে আবেদনের খুব একটা নজীর নেই। জাতিসংঘের সহায়তায় একসময় আটকে পড়া পাকিস্তানীদের ক্ষেত্রে শরণার্থী মর্যাদা দেয়া হযয়েছিলো। পরবর্তীতে অবশ্য তাদের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়া হয়।তবে সনদে স্বাক্ষর না করলেও ১৯৯২ সালে যে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসেছিলেন, প্রথম দফার তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে শরণার্থী মর্যাদা দেয়া হয়েছিলো। এই কার্যক্রমে সহায়তা করে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা। এদেরকে কক্সবাজারের দুটি শিবিরে রাখা হয়। তবে এর কিছুদিন পরেই আরো দুই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়, কিন্তু তাদেরকে আর শরণার্থী মর্যাদা দেয়া হয়নি।

২০১৭ সালের আগস্টে পর যে প্রায় আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে তাদেরকে ‘বলপ‚র্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক’’ বলে বর্ণনা করছে সরকার। তাদের শরণার্থী মর্যাদা দেয়া হয়নি। তবে গণমাধ্যম ও দেশি বিদেশি বেসরকারি সংস্থাগুলো এদের শরণার্থী বলেই বর্ণনা করে থাকে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান কিন্তু বিদেশী নাগরিকদের দায়িত্ব নেয়ার কথা বলে না। তিনি বলেন, ‘আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এই দশ লাখের বেশি মানুষকে আমরা দেশের মেইনস্ট্রিমে মিশিয়ে নিতে চাই কিনা, নাকি তাদের মিয়ানমারে, তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে চাই। এখন যদি তাদের এখানে পড়াশোনার সব ব্যবস্থা করে দেয়া হয়, নাগরিকদের মতো সব সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তারা আর নিজেদের দেশে ফেরত যেতে চাইবেন না।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত