প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নদী দখলকারীর তালিকায় ৪৬ হাজার ৭৪২ জন

মো. তৌহিদ এলাহী : জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন কমিশনের ওয়েবসাইটে বিভাগওয়ারি এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। ৬১ জেলায় দখলদারের সংখ্যা ৪৬ হাজার ৭৪২ জন, আর এর মধ্যে ঢাকাসহ এর আশপাশের এলাকায় নদী দখলদারের সংখ্যা ৯৫৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

দেশে প্রথমবারের মত নদীকে জীবন্ত সত্ত্বা ঘোষণা করে গেলো ফেব্রুয়ারিতে রায় প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। যেখানে দখলদারদের তালিকা তৈরি করে তা প্রকাশ করার নির্দেশনা দেন উচ্চ আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় দখলদারদের তালিকা চেয়ে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেয় নদী রক্ষা কমিশন।  তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রকাশ করা হল দখলকারীদের তালিকা।

যে নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একের পর এক জনপদ সেই নদী দখল করে সরু খাল বানিয়ে ফেলা হয়েছে দেশের অধিকাংশ জায়গায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে দেশে প্রবাহমান নদী ৪০৩টি। কিন্তু দখলদারদের পাল্লায় পড়ে অনেক নদীই এখন সংকুচিত।  তালিকায় নোয়াখালী জেলায় সর্বোচ্চ তিন হাজার ৫৮৩ জন দখলদারের নাম রয়েছে। সর্বনিম্ন দখলদারের সংখ্যা লালমনিরহাটে, ১৪ জন।

এ ব্যাপারে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য আলাউদ্দিন বলেন, চিহ্নিত অবৈধ নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে সব জেলার জেলা প্রশাসকের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তারাই এসব দখলদারের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।

নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, জেলাভিত্তিক যে নদ নদী আছে সেই দখলদার কাছ থেকেই এ সংখ্যা পাওয়া।

নদী রক্ষায় হাইকোর্টে রিটকারী আইনজীবী বলছেন, এ তালিকা দ্রুতই পাঠানো হবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালসহ নির্বাচন কমিশন ও বাংলাদেশ ব্যাংকে। এরপরই শুরু করতে হবে উচ্ছেদের কাজ।

বিভাগওয়ারি তালিকা : ঢাকা বিভাগের গাজীপুর জেলায় ৫১ জন, মুন্সীগঞ্জ জেলায় ৫০, ফরিদপুরে ১১৪, কিশোরগঞ্জে ১০৩, রাজবাড়ীতে ২৬, নরসিংদীতে ৩৯৬, মাদারীপুরে ২৭৩, গোপালগঞ্জে ৩৯৬ ও শরীয়তপুরে ৬৫ নদী দখলদার রয়েছেন। এ বিভাগের তালিকায় নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার তালিকাসংবলিত পিডিএফ ফাইলটি ‘ডিলিটেড’ বা মুছে দেওয়া অবস্থায় ওয়েবসাইটে পাওয়া গেছে।

রাজশাহী বিভাগের পাবনা জেলায় ৩৬০ জন, বগুড়ায় ৪০, রাজশাহীতে ২০৩, নওগাঁয় ২২০, জয়পুরহাটে ৮০, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৪৫, নাটোরে ৯১৭ ও সিরাজগঞ্জ জেলায় ২২৫ জনের নাম তালিকায় আছে।

খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলায় ৪২৭ জন, নড়াইলে ৯৮, মেহেরপুরে ১১৫, মাগুরায় ৮৪, কুষ্টিয়ায় দুই হাজার ৩৬২, খুলনায় ১৭৬, ঝিনাইদহে ১৬৯ ও যশোর জেলার ৫৭৮ জন নদী দখলদারের নাম তালিকায় রয়েছে। এ বিভাগের চুয়াডাঙ্গা জেলার নাম ‘ডিলিটেড’ বা মুছে ফেলা অবস্থায় ওয়েবসাইটে পাওয়া গেছে।

বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলায় ৪২৮ জন, পিরোজপুরে ১০৭, পটুয়াখালীতে ৬০৩, ঝালকাঠিতে ২০৩, বরিশালে এক হাজার ৩০৮ ও বরগুনার এক হাজার ৩৮২ জন দখলদারের নাম তালিকায় রয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনায় ৫১২ জন, শেরপুরে ৬৮ ও জামালপুরে ৬৮৭ জনের নাম তালিকায় রয়েছে।

সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জে ৬৯৬ জন, মৌলভীবাজারে ৪৬৮, সিলেটে ২৪৪ ও হবিগঞ্জে ৬০০ জনের নাম তালিকায় আছে।

রংপুর বিভাগের নীলফামারী জেলায় ৯৮০ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ৩০৩, কুড়িগ্রামে ৫৪, রংপুরে ১৬, লালমনিরহাটে ১৪ ও দিনাজপুর জেলায় এক হাজার ৪৭ জনের নাম তালিকায় আছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালী জেলায় তিন হাজার ৫৮৩ জন, কুমিল্লা জেলায় দুই হাজার ৯৮৯, চট্টগ্রামে এক হাজার ৭৫৬, রাঙামাটিতে ৫১, লক্ষ্মীপুরে ৮০৫, খাগড়াছড়িতে ২৬, ফেনীতে ২৭৯, কক্সবাজারে ২৭৩, চাঁদপুরে ৫৩৩, বান্দরবানে ৩৭০ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬৪৭ জনের নাম তালিকায় রয়েছে।

টিই/এসবি

সর্বাধিক পঠিত