প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মোবাইল যোগাযোগের উপর বিধিনিষেধ রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে আরও গভীর সংকটে ফেলবে: আর্টিকেল নাইনটিন

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মোবাইল টেলিযোগাযোগ সেবা ব্যবহার সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি মত প্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্য ও সমতার অধিকার লঙ্ঘন করেছে। আর্টিকেল নাইনটিন মনে করে, মোবাইল নেটওয়ার্ক সীমাবদ্ধ করার ক্ষেত্রে মিয়ানমার সরকারের উদ্যোগ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে মোবাইল ও ইন্টারনেট বন্ধ করার ক্ষেত্রে উৎসাহী করেছে, যা এ অঞ্চলকে প্রভাবিত করেছে।

আর্টিকেল নাইনটিন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের এই আদেশটি রোহিঙ্গা শরণার্থী জনগোষ্ঠীর উপর মারাত্মক ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলবে, কেননা ভয়াাবহ সহিংসতা ও নিপীড়নের শিকার এ সম্প্রদায় মানসিকভাবে আরও দুর্বলতা এবং বিচ্ছিন্ন বোধ করবে। জাতীয় সুরক্ষা এবং জনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এ জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে দাবি করছে ; কিন্তু এ ব্যাপারে কোনও সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।”

বাংলাদেশ টেলিযোগযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) টেলিযোগাযোগ অপারেটরদের কাছে ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ এক চিঠিতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, ‘সুরক্ষা , আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে মোবাইল যোগাযোগের সুবিধা ও সিমকার্ড বিক্রি না করতে আদেশ দিয়েছিল। ৩ সেপ্টেম্বর, বিটিআরসি টেলিযোগাযোগ অপারেটরদের কক্সবাজারের নিকটবর্তী শরণার্থী শিবিরগুলিতে সন্ধ্যা ৫ টা থেকে ৬ টার মধ্যে হাই-স্পিড মোবাইল ইন্টারনেট প্রবেশ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল এবং এই আদেশগুলি কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সাত দিনের সময়ও বেধে দেয়া হয়েছে।

এই আদেশের কারণ হিসাবে বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলিতে হিংসাত্মক অপরাধের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এ ব্যাপারে তারা বিস্তারিত তথ্য প্রমাণ ও যৌক্তিকতা তুলে ধরতে সমর্থ হয়নি। পাশাপাশি শিবিরগুলির নিকটে বসবাসকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সদস্যরাও মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মিয়ানমারে তীব্র নির্যাতন ও নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানে সহস্রাধিক রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয় এবং সেখান থেকে ৭০০,০০০ এর ও বেশি লোক পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন শিবিরে এবং আশেপাশে বসতি স্থাপন করে। মূলত: ১৯৭০ এর দশকের গোড়ার দিকে এ অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের আবাসস্থল গড়ে ওঠে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল কর্তৃক গঠিত একটি ‘তথ্য উদঘাটন কমিটি’ মিয়ানমার সেনাবাহিনী নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে মর্মে তথ্য পেয়েছে। এ গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের ব্যাপারে তদন্ত ও বিচারের সুপারিশ করেছে ঐ কমিটি। বার বার উদ্যোগ নেয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার সরকার ব্যর্থ হয়েছে। কেননা, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তাসহ মৌলিক মানবাধিকার ও নাগরিকত্বের বিষয়টি এখনও ঝুলে আছে ।

বাংলাদেশ ‘সিভিল অ্যান্ড পলিটিকাল রাইটস সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির’ (আইসিসিপিআর) অংশীদার, যা মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং তথ্যের অধিকারকে সুরক্ষা দেয়। আইসিসিপিআর-এর অধীনে, এই অধিকারগুলির সীমাবদ্ধতা কেবলমাত্র বৈধ লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং যা আইন অনুসারে প্রয়োগ করা যায় । একইসঙ্গে আনুপাতিকভাবে আইসিসিপিআর এ উল্লেখিত অধিকারগুলি কোনও বৈষম্য ছাড়াই ঐ অঞ্চলগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইতিপূর্বে বাংলাদেশ সরকার ইন্টারনেটের গতি নিয়ন্ত্রণ,ওয়েবসাইট বন্ধ এবং বিভিন্ন এ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধের পদক্ষেপ গ্রহণ করে নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছিল ।

আর্টিকেল নাইনটিন বিটিআরসিকে তার সাম্প্রতিক আদেশ প্রত্যাহার করে রোহিঙ্গা শরণার্থী গোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় টেলিযোগযোগ পরিষেবা নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে। আর্টিকেল নাইনটিন মোবাইল এবং ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী কোম্পানীগুলোকে সরকারের গৃহীত আদেশের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আপত্তি উপস্থাাপনের আহবান জানায়, কেননা এ আদেশ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার লঙ্ঘন করে।

ফারুখ ফয়সল বলেন, ‘‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়, কারন এ জনগোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের পরিবার, পরিজন বন্ধু-বান্ধব ও মাতৃভূমি থেকে দূরে রয়েছে। মানুষ হিসেবে তাদের টিকে থাকার জন্য যোগাযোগ প্রযুক্তিতে প্রবেশগম্যতা থাকা দরকার ।”

মিয়ানমারে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মোবাইল ব্যবহার সীমাবদ্ধ করার বাংলাদেশী প্রচেষ্টা মূলত: মিয়ানমার সরকার তাদের পশ্চিমাঞ্চলে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করার কার্যক্রম থেকে উৎসাহিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ