প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লাল শাপলার রাজ্যে পর্যটকদের ভিড়

মো. তৌহিদ এলাহী : বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলার বিল ছেয়ে গেছে হাজার হাজার লাল শাপলায়। প্রায় ১০ হাজার একরের এ জলাভমির যে অংশেই চোখ পড়ে সেখানেই দেখা যাচ্ছে শত-সহস্র শাপলা। বর্ষার শুরুতেই বিলটিতে ফুঠতে শুরু করে শাপলা। মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এ বিলজুড়ে শাপলার ছড়াছড়ি। সময়ের আলো

বিশাল এই বিলে ফুটে থাকা শাপলার সৌন্দর্য যেমন মনোমুগ্ধকর, তেমনি চিত্তাকর্সক। আর তাই পর্যটকদের আনাগোনায় দিনদিন মুখরিত হচ্ছে শাপলার রাজ্য খ্যাত সাতলা এলাকা। জলাভ‚মির এসব শাপলা এক নজর দেখার জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা বয়সের হাজারও মানুষের ভিড় লেগে থাকে সেখানে। লাল শাপলার এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পর্যটকরা আসছেন দূর-দূরান্ত থেকে। এ বিলে ভ্রমণের জন্য রয়েছে ছোট আকারের নৌকা। টাকার বিনিময়ে বিল ঘুরিয়ে দেখায় ওই নৌকার মাঝিরা। সকালে সূর্য উদয়ের মুহূর্তে মন পাগল করা এক সৌন্দর্যের লীলাভ‚মিতে পরিণত হয় সাতলার বিল। গোধূলি বেলায় বিলটির সৌন্দর্য যেন আরও বেড়ে যায়। সাতলার বিলের লাল শাপলার এহেন মন কেড়ে নেওয়া দৃশ্য রেখে কারোরই মন চায় না আর ফিরে যেতে।

সাতক্ষীরা থেকে আসা আজাদ রহমান জানান, ছোটবেলা থেকে শাপলা ফুল দেখেছি ঠিকই; তবে একসঙ্গে লাখ লাখ রং-বেরঙের শাপলা দেখা হলো এই প্রথম। ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক সুমান্ত দাস জানান, তিনি শাপলার অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে এতদূর ছুঁটে এসেছেন। বরগুনার আমতলীর সুমন জানান, শাপলা বিলের এমন সৌন্দর্য না দেখলে বিশ্বাসই করতে পারতেন না।

এ শাপলা বিলকে পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ১৭ আগস্ট উজিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ সিকদার বাচ্চু সাতলার শাপলা বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের জন্য কালবিলা এলাকায় একটি ছোট পরিসরে আবাসন নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করেছেন। তিনি জানান, সাতলার এ শাপলা বিলকে পর্যটকবান্ধব করতে নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে ওই এলাকার গ্রামাঞ্চলের সহজ-সরল মানুষগুলো সকালে সূর্যের আলো ফোটার আগেই ছোট ছোট নৌকা নিয়ে নেমে পড়ে শাপলা বিলে। বিলটি থেকে শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে শতশত পরিবার। প্রায় ২০০ বছর ধরে সাতলার বিলগুলোতে শাপলার জন্ম হচ্ছে। তাই ওই এলাকার প্রায় ৫০ ভাগ অধিবাসী শাপলার চাষ ও বিপণন কাজের সঙ্গে জড়িত।

সাতলার ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল খালেক আজাদ জানান, এক সময় শাপলার তেমন কোনো চাহিদা না থাকায় পানিতে জন্মে পানিতেই মরে পচে যেত। দিনে দিনে শাপলার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তা বাজারে বিক্রি করতে শুরু করে দিনমজুররা। শাপলা তোলার কাজে জড়িত দিনমজুর বেলায়েত হোসেন জানান, শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করে চলছে তার সংসার। প্রতিদিন ৩০০-৪০০ টাকা আয় হয় তার। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিনোদন ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের কাছে নানা সামগ্রী বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন অনেকেই।

গত বছর তৎকালীন বরিশাল জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান সাতলার এ শাপলা বিলের অপার সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে এখানে পর্যটনকেন্দ্র করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম বলেন, পর্যটকরা যাতে প্রকৃতির এ অপার সৌন্দর্য অবলিলায় উপভোগ করতে পারে সে জন্য সাতলার এ শাপলা বিলাঞ্চলকে পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত