প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাতে হঠাৎই স্বপ্ন দেখি নুসরাত ঘরে হাঁটছে, তার মায়ের সঙ্গে কাজ করছে

আক্তারুজ্জামান : বহমান সময়ের সঙ্গে চলতে গিয়ে মানুষ ভুলে যায় অতি আলোচিত ঘটনাও। যে ঘটনায় একসময় কেঁদে কেঁদে চোখ ভিজিয়ে ফেলতো মানুষ একসময় সে আবেগ আর থাকে না। এমনকি স্মৃতির মণি কোঠা থেকেও হারিয়ে যায়। কিন্তু কিছু আপনজনের মাঝে থেকে যায় তাজা স্মৃতি। যেমন ফেনীর নুসরাত মেয়েটির কথা। আমরা তাকে ভুলে গেছি।

সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে গত ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে হাত–পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে ঢাকায় চিকিৎ​সাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত। আলিম পরীক্ষার্থী​ নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে অধ্যক্ষ ও তাঁর অনুসারীদের এই নৃশংসতার শিকার হন। আমরা তাকে ভুলে গেলেও ভোলেননি তার বাবা-মা। পবিত্র ঈদুল আযহা সামনে রেখে নুসরাতদের বাড়িতে নেই কোন আয়োজন, নেই কোন প্রস্তুতি। আছে শোক আর বেদনা। সেই সঙ্গে ভেসে উঠছে পুরোনো স্মৃতি।

নুসরাত জাহানের বাবা মাওলানা এ কে এম মুসা মিয়া। দুই দশক ধরে তিনি ঈদের নামাজ পড়িয়ে আসছেন। একমাত্র মেয়েকে হারানোর পর তার ও পরিবারের ঈদের আনন্দও হারিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘গত চার মাস একটি রাতও শান্তিতে ঘুমাতে পারিনি। কিছুই ভালো লাগে না। বাসার সবকিছু এলোমেলোভাবে পড়ে আছে। তার (নুসরাতের) মায়ের শরীর ভালো নেই। সব সময় কেবল মেয়ের জন্য কাঁদছে।’

এ কে এম মুসা মিয়া বলেন, ‘মাঝেমধ্যে ঘুমের ঘোরে স্বপ্নে দেখি নুসরাত ঘরে হাঁটছে, তার মায়ের সঙ্গে কাজ করছে, হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখি মেয়ে নাই। তখন আর ঘুম আসে না।’ গতকাল নুসরাতের বাড়িতে গেলে তার মা শিরিনা আক্তার মেয়ের কথা বলতে গিয়ে মূর্ছা যান। তার আগে তিনি বলেন, খুনিদের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত শান্তি পাবেন না তিনি। খবর : প্রথম আলো।

নুসরাতকে হত্যার নির্দেশদাতা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামির বিচার চলছে ফেনীর আদালতে। ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৮৪ জনের সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়েছে। নুসরাতের পরিবারের আশা হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।

নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রতি কোরবানির ঈদে বাজার থেকে গরু কিনে বাড়িতে আনার পর নুসরাত খুব আনন্দ করতেন। গরুর যত্ন নিতেন।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত