প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বানভাসি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট, ৩ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ

মাজহারুল ইসলাম : বন্যার পানিতে ভেসে গেছে বাড়িঘর। গবাদিপশু ও সহায়-সম্বল নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে অসংখ্য পরিবার। বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন আরও লাখ লাখ মানুষ। সারা দেশে পানিবন্দি ৩ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

কয়েকটি স্থানে সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বানভাসি মানুষ গরু-ছাগল নিয়ে উঁচু সড়ক ও বাঁধে আশ্রয় নিলেও শুকনো খাবারের জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে।

সরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ হলেও তা অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। ফলে ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগবালাই ছাড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা বন্যাকবলিত। ইতিমধ্যে তা ভয়াবহ আগ্রাসী রূপ নিয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, বানের পানি ও দেশের ভেতরের বৃষ্টির কারণে এলাকাভেদে ১০ দিন ধরে চলছে এ বন্যা।

বন্যায় জামালপুর জেলার ১০১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় দেড়লাখ শিক্ষার্থীর পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে পডেছে। জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, নার্সারী-কেজি ওয়ান থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৫৯টি। তার মধ্যে গতকাল পর্যন্ত বন্যাপ্লাবিত হয়ে বন্ধ রয়েছে ৭০২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মোট ৬৬৯টি। তার মধ্যে বন্ধ রয়েছে ৩১০টি।

মাঠে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় গাইবান্ধা জেলার ৭ উপজেলার ৩৬৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৮১টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৮৪টি ও কলেজ ৪টি। আবার ৪টি সরকারি প্রাথমিক এবং একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন ইতোমধ্যে ভাঙনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

বন্যাজনিত কারণে সিলেট বিভাগের ৪ জেলায় ৬ শতাধিক মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিক ও প্রাইমারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৪৬৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়। শুধুমাত্র জগন্নাথপুর উপজেলায় ৫৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সিলেট জেলায় ১৯৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, এবার বন্যায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় মোট ৫ হাজার ৪৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮১৯ টি বিদ্যালয় প্লাবিত হয়।

ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর পানি সামান্যহারে কমতে শুরু করলেও তীব্র ভাঙনের মুখে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত২৮৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাশ রুমে, মাঠে ও চলাচলের রাস্তায় পানি ওঠায় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। ১৩২টি মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজে পানি উঠেছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ ৫ থেকে ৭ ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে। পানির তীব্র সে াতের মুখে ভেঙে গেছে নাগেশ্বরী উপজেলার শংকর মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নাগেশ্বরী এলাহীর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন।

যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে জেলার নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলে মোট ২১৫ টি প্রাথমিক ও ৬৭ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছে। এছাড়া ৬ টি স্কুল যমুনা গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এগুলো হলো: চৌহালি উপজেলার এ্যাওয়াজী কাঠালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিদাশুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চৌবারিয়া পূর্ব পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিলজলহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেলকুচি উপজেলার রতনকান্দি সোহাগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বেতুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বন্যার কারণে বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার ৬১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আরো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত