প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মূলহোতা ব্ল্যাক শাহীনসহ গ্রেপ্তার ৩, ছিনতাইয়ে বাধা দিয়ে খুন হন দোকান কর্মচারী সাকিব

মাসুদ আলম : ছিনতাইকারীদের হাতে নিহত হন দোকান কর্মচারী মো. সাকিব হোসেন (২০), আহত হন তার বন্ধু অন্য দোকান কর্মচারী শিপন। গত ১৫ জুন ছুটি থাকায় রাজধানীর উত্তরখানের বাটুলিয়ায় নদীর পাড়ে ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন তারা। ৭/৮ জন ছিনতাইকারী তাদের গতিরোধ করে মোবাইল ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালান। বাধা দিতে গেলে ছিনতাইকারীরা ধারালো ছোরা নিয়ে তাদের আঘাত করে পালিয়ে যান।

পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাকিব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। শিপন এখনো চিকিৎসাধীন।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল হোতা শাহীন মিয়া ওরফে ব্ল্যাক শাহীনসহ (২৪) তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের প্রাথমিক স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব-১। অন্য দুইজন হলেন- মো. মঞ্জুরুল ইসলাম মিজু ও ফরহাদ হোসেন।

সোমবার রাতে বাটুলিয়া এলাকা থেকেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান আটিপাড়ার পাশের কাঠালতলা এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার ধারালো ছোরা এবং তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার কারওয়ানবাজারে সংস্থার মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

সিও বলেন, সাকিব দুই ভাই-বোনের মধ্যে বড়। ছোটবেলায় তার মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আর বিয়ে করেননি। সাকিব হোসেন এসএসসি পাসের পর অর্থাভাবে পড়ালেখা বন্ধ করে উত্তরার ৭নং সেক্টরে ‘ফড়িং’ নামক পোশাক শো-রুমের কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। বার্ধক্য ও শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায় এখন তিনি বেকার। সাকিব পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার উপার্জনে পুরো পরিবার চলতো। অন্যদিকে শিপন পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে ২য়। তার বড় এক ভাই ও ছোট তিন বোন আছে। তার বাবা সুলতান মিয়াও রাজমিস্ত্রি। এতো বড় পরিবারের খরচ তার বাবার একার পক্ষে সংকূলান সম্ভব না হওয়ায় তিনি উত্তরা ৩নং সেক্টরের ‘সাইনটেক্স’ নামক পোশাকের শো-রুমে চাকরি করছিলেন।

লে. কর্নেল সারওয়ার আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত শাহীন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তিনি ২০১৫ সালে টঙ্গী সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন থেকে এসএসসি পাসের পর পড়ালেখা বন্ধ করে দিয়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও গাঁজা সেবনের পাশাপাশি তিনি ইয়াবা ও গাঁজা ব্যবসায়ও জড়িত। তার বিরুদ্ধে উত্তরখান ও দক্ষিণখান থানায় একাধিক ছিনতাই, মারামারি ও মাদক মামলা রয়েছে। ঘটনার দিন তিনি এবং গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি মিজু ও ফরহাদ, জিয়া, তানভীর, রুবেল, মিঠু, সবুজসহ ৭/৮ জন ঘটনাস্থলে ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করছিলেন। এ সময় মিঠু সাকিব ও শিপনকে দেখে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সবাইকে নিয়ে তাদের কাছে গিয়ে গায়েপড়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হন। দুই পক্ষের হাতাহাতির মধ্যেই রুবেল তার কাছে থাকা একটি সুইচ গিয়ার ছোরা বের করেন। এ সময় শাহীন মিয়া রুবেলের থেকে ছোরাটি নিয়ে সাকিব ও শিপনকে আঘাত করেন।

গ্রেপ্তারকৃত মঞ্জুরুল ইসলাম সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতনে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। তিনি পেশায় বাইপাইল-সায়দাবাদ রুটে দোয়েল পরিবহনের হেল্পার। দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার পাশাপাশি নিজেও ইয়াবা সেবন করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রয়েছে। ফরহাদ পেশায় একজন টিউবওয়েল মিস্ত্রি। তিনি এই চক্রের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। তার বিরুদ্ধে পাঁচটির বেশি মাদক মামলা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. কামরুজ্জামান।
সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত