প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঐক্যফ্রন্ট জোট বাড়াতে চায় ২০ দলের শরিকদের নিয়ে

ডেস্ক রিপোর্ট : জোটের পরিধি বাড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে চায় বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তাই শক্তি বাড়াতে জামায়াতকে বাদ দিয়ে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে নিতে চায় ফ্রন্টের নেতারা। এছাড়াও বামপন্থী জোট বা দলের একটি অংশকে কাছে টানারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর বাইরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ছোট ছোট যে কোন রাজনৈতিক দল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জোটে ভেড়াতে আপত্তি না থাকার কথা বলছেন নেতারা। এর বাইরে সুশীল সমাজ, শিক্ষাবিদ, মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবীসহ বিভিন্ন সেক্টরের সমাজে প্রতিনিধিত্ব করে আসা ব্যক্তিদেরও জোটে টানার চিন্তা করা হচ্ছে ফ্রন্টের পক্ষ থেকে। জনকন্ঠ

ঐক্যফ্রন্টের নেতারা জানিয়েছেন, নতুন এই রাজনৈতিক মোর্চার বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থায় সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, বিএনপির অনেক নেতাই কারাগারে। অনেকে ভয়ে চুপ হয়ে আছেন। নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মামলায় দেয়া হয়েছে। তাই সরকারবিরোধী আন্দোলনে সফলতার মুখ দেখতে হবে আরও দল ও ব্যক্তিদের জোটে নেয়ার বিকল্প নেই। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে সময় সুযোগ বোঝে আন্দোলনে মাঠে নামতে চান ফ্রন্টের নেতারা। তারা জানিয়েছেন, আ স ম রবের বাসায় জোটের সর্বশেষ বৈঠকেও জোটের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ফ্রন্টের আহ্বায়ক কামাল হোসেন অসুস্থতাজনিত কারণে সেখানে যোগ দিতে পারেননি। চলতি সপ্তাহে ফের ফ্রন্টের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। সেখানে কামাল হোসেন উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে ফ্রন্টের পরিধি বাড়াতে একটি কমিটি গঠন হতে পারে। ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ফ্রন্টের নেতারা। বৈঠকে বাম দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের বিষয়ে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে আ স ম আব্দুর রবকে। ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে কথা বলবেন কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ জাফরউল্লাহ চৌধুরীসহ একাধিক ব্যক্তি। তবে জামায়াত ছাড়া ২০ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে আরও অন্তত দুটি উগ্রবাদী রাজনৈতিক দলকে ফ্রন্টে আনার বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন ফ্রন্টের নেতাদের অনেকে।

নির্বাচনে অংশগ্রহণ, ফলাফল প্রত্যাখ্যান, বিজয়ীদের শপথ, আন্দোলনসহ রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে নাকীয়তার মধ্যে চলছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কার্যক্রম। আন্দোলনের বিষয়ে সঠিকপথে না চলায় ফ্রন্টের কার্যক্রমে অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে শরিক দলগুলোর মধ্যে দুটি। এর মধ্যে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী ফ্রন্ট ছাড়ার আল্টিমেটাম দিয়েও শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছেন। নিজেদের মধ্যে মতবিরোধের কথা মাহামুদুর রহমান মান্নার বক্তব্যে স্পষ্ট হলেও তিনিও ফ্রন্টে এখনও আছেন। নিজেজের মধ্যে ঐক্য ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের মধ্যে যখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কাতরাচ্ছিল ঠিক তখন আন্দোলনের বার্তা নিয়ে সামনে হাজির হন কামাল হোসেন। ঈদের দিন এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলতে চান তিনি। এজন্য জোটের কলেবর বাড়ানোর প্রস্তাব দেন।

কর্মসূচী ঠিক না করেই আন্দোলনের কথা বলায় অনেকেই কামাল হোসেনের ওপর অসন্তুষ্ট হন। তাই ঈদ পরবর্তী রবের বাসায় বৈঠকে জোটের পরিধি বাড়ানো, কাদের জোটে রাখা যেতে পারে এসব বিষয় আলোচনায় ওঠে আসে। তাছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আন্দোলন ইস্যুতে বিএনপির ভূমিকা নিয়েও শরিক নেতারা প্রশ্ন তোলেন। এ নিয়ে বৈঠকে অনেকটা তোপের মুখে পড়তে হয় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে। বৈঠকে অনেকে মতামত দেন, বিএনপিকে নতুন এই মোর্চার সঙ্গে যুক্ত রাখায় নির্বাচনের আগে জামায়াত ইস্যুতে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কারণ বিএনপি ২০ দলীয় জোট ছেড়ে আসেনি। সামনের দিনে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হলে যে কোন মূল্যে জামায়াতকে বাদ দিতে হবে। আন্দোলনে বিতর্কিত কোন ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল রাখা যাবে না। তাহলে উদ্দেশ্য সফল করা সম্ভব হবে না।

জোটের পরিধি বাড়ানো ও আন্দোলন ইস্যুতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, যত পরিধি বাড়বে তত শক্তি বাড়বে। এই সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলতে হলে বিশাল কর্মী বাহিনী প্রয়োজন। আমরা সবার সঙ্গে ঐক্যের মধ্য দিয়ে আন্দোলনে জানান দিতে চাই সরকারকে দেশের মানুষ আর চায় না। তাই মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই।

অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের প্রসঙ্গে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমরা চিন্তা করে দেখেছি দেশের স্বার্থে বৃহত্তর একটি রাজনৈতিক জোট অন্যায় অত্যাচার সহ্য করে চলতে পারে না। সরকার প্রতিনিয়ত নানা রকম অন্যায় করে যাচ্ছে। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকসহ নানামুখী সঙ্কটের মুখে দেশ চলছে। এই বাস্তবতায় আমরা চিন্তা করেছি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে। আন্দোলনের মুখে সরকার এক সময় পদত্যাগে বাধ্য হবে।

তিনি বলেন, আন্দোলন শুরুর আগে নিজেদের ভীত মজবুত করার ধারাবাহিকতায় জোটের পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত রাজনৈতিক দল জামায়াত বাদে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোকে নেয়ার চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। এর বাইরে বাম দল ও জোটগুলোর সঙ্গে আমাদের আলাপ আলোচনা হবে। সব মিলিয়ে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফরম গতে তুলতে চাই। এজন্য চলতি মাস থেকেই কাজ শুরু হবে। আশাকরি আমাদের ডাকে সবাই সাড়া দেবে।

ঈদের দিন এক অনুষ্ঠানে কামাল হোসেন বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে আরও দলকে জোটে ভেড়ানো দরকার। আমাদের লক্ষ্য জনগণের ঐক্য গড়ে তোলা, আর সকল দল যারা সমমনা, তাদের সঙ্গে নেয়া। সেই কাজটা আমাদের অব্যাহত আছে এবং আরও জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের একটা স্বৈরতান্ত্রিক অবস্থা থেকে মুক্ত হতে হলে জনগণের ঐক্য প্রয়োজন এবং সচেতন রাজনৈতিক দলগুলো যারা আছে, তাদের ঐক্য অপরিহার্য।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে গণফোরাম সভাপতি কামালের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ঐক্যফ্রন্টে বিএনপি ও গণফোরাম ছাড়াও রয়েছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য। ওই নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যানের পর ফের সংসদে যোগ দেয়ায় বিএনপির আগের জোটে যেমন ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে, তেমনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা গেছে। আন্দোলন প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, আমাদের কথা হল, আমরা বসে পুরো কৌশলটা ঠিক করে মাঠে নেমে যাই, ঐক্য আরও সুসংহত করি।

ঐক্যফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারবিরোধী আন্দোলনের কোন কর্মসূচী এখন পর্যন্ত ঠিক হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে কিছু প্রস্তাব রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে হলো, জোটের কলেবর বৃদ্ধির পর হত্যা, ধর্ষণ, মাদক, ক্রসফায়ার, পণ্যের দাম, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিসহ সামাজিক নানা ইস্যুতে ঢাকাসহ বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মসূচী পালন করা। ঢাকার বাইরের কর্মসূচীতে যোগ দেবেন ফ্রন্টের শরিক নেতারা। এসব কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বাধার সম্মুখীন হবেন ফ্রন্টের নেতারা। গ্রেফতার হবেন নেতাকর্মীরা। এর প্রেক্ষিতে আন্দোলনের কৌশল পাল্টাবে। এক পর্যায়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ফুসে উঠবে সারাদেশের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। তীব্র গণআন্দোলনের মুখে সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হবে।

এসব বিষয়ে জানাতে চাইলে গণফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফুল বারি হামিম বলেন, আন্দোলনের কর্মসূচী এখন চূড়ান্ত না হলেও জোটের পরিধি বাড়ানো নিয়ে তৎপরতা রয়েছে। এজন্য চলতি সপ্তাহেই ফ্রন্টের আরেকটি বৈঠক হতে পারে বলে জানান তিনি। সামাজিক নানা ইস্যুতে আন্দোলনের প্রাথমিক কথা বার্তা চলছে বলে জানান এই নেতা।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত