প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি বিএনপি

শিমুল মাহমুদ : গত মঙ্গলবার দিনভর বিক্ষোভ শেষে রাত ৯টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দেন ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতারা। তবে এখন পর্যন্ত ছাত্র সংগঠনটির নতুন কমিটির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি দলের হাইকমান্ড।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে অসুস্থ সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে দেখতে যান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তৃতীয় তলায় শয্যশায়ী রিজভীর কক্ষে গিয়ে তার স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেন এবং ছাত্রদলে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

দলের প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, হাসান জাফির তুহিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

৩ জুন রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। এতে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের কথা বলা হয়। নতুন কমিটিতে নেতা হওয়ার যোগ্যতা হিসেবে ২০০০ সাল থেকে পরবর্তী যেকোনো বছরে এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে বলে জানানো হয়।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের অক্টোবরে রাজীব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই বছরের জন্য ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি করা হয়। ২০১৬ সালের অক্টোবরে এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। এরপরও প্রায় আড়াই বছর এই কমিটি বহাল ছিল।

শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘মঙ্গলবার আমরা ছাত্রদের দাবি গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বিষয়গুলো জানিয়েছি। আশা করি, খুব শিগগিরই তিনি সিদ্ধান্ত জানাবেন।’ মঙ্গলবারের ওই বৈঠক সর্ম্পকে এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বুধবার রাতে কোনো সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে আশা করছি।’

টানা এক বছর ধরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে থাকা রিজভী গত তিনদিন ধরে অসুস্থ। সেখানেই তাকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। দলের চিকিৎসকরা তাকে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

কমিটি ভেঙে দেওয়া নিয়ে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ অংশের নেতাকর্মীরা মঙ্গলবার বিএনপি কার্যালয়ে দিনভর বিক্ষোভ দেখালে তার মধ্যে দুর্বিষহ সময় কাটে রিজভীর। তবে দলীয় কার্যালয় ছেড়ে তিনি হাসপাতালে যাননি।

ভেঙে দেওয়া কমিটির সহ সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট বলেন, ‘বিএনপির সিনিয়র নেতারা আমাদের দলের চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডেকেছিলেন। তারা সেখানে আমাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেছেন এবং দাবিগুলো শুনেছেন। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তারা আমাদের বলেছেন, মঙ্গলবার রাতে তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর তারা আবার আমাদের সঙ্গে বসবেন।’

কতোদিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত করলেন- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা তো আন্দোলন শব্দটা বলিনি। আমরা বিক্ষুব্ধ ছিলাম। সেটাই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। আর এই কর্মসূচি স্থগিতের কোনো নির্দিষ্ট দিন ও তারিখ নেই। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তীতে আমরা বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো কি কর্মসূচি দেওয়া যায়।’

সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত