প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশনের ঘোষণা পদবঞ্চিতদের

মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, ঢাবি প্রতিনিধি : ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিতর্কিতদের বহিষ্কার না করে তাদের নিয়ে ধানমন্ডি ৩২ এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে যাওয়ায় অনশনে বসেছে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা। ২৭ মে সোমবার তারা ফের এই অনশনে বসেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা তাদের। এর আগে ১৯মে ভোররাতে অনশনে বসেছিলেন তারা।

অনশনকারী-পদবঞ্চিত ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক জহিরুল কবির জহির বলেন, ‘ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা পালন করেননি। আজ আবার বিতর্কিতদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে গেছেন যা আমাদের ছাত্রলীগের জন্য লজ্জার।’

আপনাদের অনশন কর্মসূচি কতক্ষণ চলবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আমাদের সময়.কম কে জানান, ‘যতক্ষণ না আমাদের দাবি পূরণ হবে ততক্ষণ আমাদের অনশন কর্মসূচি চলবে।’

গতবছরের ৩১ জুলাই ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ ঘোষণার প্রায় একবছর পর ১৩মে ২০১৯ ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হলে পদবঞ্চিতরা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবির) মধুরে ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে তারা পদপ্রাপ্ত অযোগ্যদের বাদ দিয়ে যোগ্যদের মূল্যায়ন করার দাবিতে ৪৮ ঘন্টার আলটিমেটাম দেন। এসময় তাদের উপর হামলা হয়। হামলায় প্রায় ১৫ জন আহত হয়। হামলার তদন্তের জন্য ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। পরে হামলার সাথে যুক্ত ৫জনকে বহিষ্কার করা হয়। এর মধ্যে সাময়িক বহিষ্কার হওয়া পদবঞ্চিত জারিন দিয়া আত্মহত্যা করতে যাওয়া এবং তার প্যারালাইসড হয়ে মুখ বেঁকে যাওয়ার খবর শুনার পর তাকে হাসপতালে দেখতে গিয়ে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেন ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।

এর দুদিন পরে ১৫মে মধ্যরাতে ধানমন্ডিতে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ১৭জন পদপ্রাপ্ত বিতর্কিত ১৭জনের নাম প্রকাশ করেন এবং ২৪ঘন্টার মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের জবাব দিতে বলেন নইলে পদ শূণ্য করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। তবে ২৭মে সোমবার ২৪ঘন্টার বদলে ১২দিন হতে চললেও বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে কোনো ধরণের ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানা যায়নি।

সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সংবাদ সম্মেলনের পরে ১৬মে পদবঞ্চিত এবং প্রত্যাশিত পদ না পেয়ে অসন্তুষ্টরা মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে পদপ্রাপ্ত বিতর্কিত ৯৯ জন নেতার নাম প্রকাশ করেন। একই সাথে তারা এই বিতর্কিতদের কার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ রয়েছে তা তুলে ধরেন এবং তাদের কমিটি থেকে বাদ দিয়ে দিয়ে যোগ্য ও ত্যাগিদের কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানান।

১৮ মে দিবাগত রাতে পদবঞ্চিতরা মধুর ক্যান্টিনে হামলা এবং কমিটিতে পদপ্রাপ্ত বিতর্কিতদের বিষয়ে কথা বলতে শোভন-রাব্বানীর সাথে ঢাবির ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে বসেন। এইসময় কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে তাদের উপর হামলার অভিযোগ উঠে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। এর প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এর ২২ ঘন্টা পরে আওয়ামীলীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আশ্বাসে অনশন কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা। সে সময়ে অনশনকারীদের দাবি মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক।
তবে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী জানান, ‘আমরা বিতর্কিতদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি। ঈদের আগেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত