শিরোনাম
◈ এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ইতালি, বাংলাদেশে গড়তে চায় এমআরও হাব ◈ রাশিয়ার পর বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের নজর ◈ বুক কাঁপছে আতঙ্কে, তবু থামছে না জীবিকার লড়াই : জীবিকার টানে সৌদি ফিরছেন প্রবাসীরা ◈ রাত গভীর হলেই বাড়ে বিদ্যুতের চাহিদা, ৩ হাজার মেগাওয়াট যাচ্ছে কোথায়? ◈ ঢাকা-কক্সবাজার রুটে নতুন ট্রেন মহানগর এক্সপ্রেস, ওঠা যাবে যেসব স্টেশন থেকে ◈ ওয়ান‌ডে সি‌রি‌জে অ‌স্ট্রেলিয়ার কা‌ছে হোয়াইট ওয়াশ বাংলাদেশ নারী দল  ◈ দেশের আট বিভাগে হচ্ছে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, বাড়বে সাইবার অপরাধ দমনের সক্ষমতা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ ভারতের আন্দোলনে পথ দেখিয়েছে বাংলাদেশের তরুণরা: নেহা বোরা (ভিডিও) ◈ যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে বড় পরিবর্তন, মেয়াদ শেষ হলেই বন্ধ কাজের সুযোগ ◈ আগামী ৯ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন

প্রকাশিত : ১৯ মে, ২০১৯, ০৬:০০ সকাল
আপডেট : ১৯ মে, ২০১৯, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশে দলে দলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী একদা গ্রামে গিয়েছিলো

আলতাফ পারভেজ : এ বছর অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক গ্রামে যাচ্ছেন ধান কাটতে। শহুরে প্রচার মাধ্যমে এটা বেশ নজর কেড়েছে অনেকের। আমারও। কিন্তু এভাবে কেবল ধান কাটতে নয়... বাংলাদেশে দলে দলে শিক্ষক-শিক্ষর্থী একদা গ্রামে গিয়েছিলো ‘একটি নতুন দেশ গড়ে তুলতে’... আরও বহু কাজে অংশ নিতে।  ডাকসু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের অন্যান্য অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তরুণ-তরুণীরাই ১৯৭২ থেকে ‘অন্যরকম’ একটা দেশ গঠনে স্বাধীনতা-উত্তর সমাজে পড়ালেখার পাশাপাশি কাজে নেমে পড়েছিলো।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি পরিবার তো সেসময় পুরো বিভাগসহ স্বেচ্ছাশ্রমে যোগ দিয়েছিলো... ধান রোপা, নিড়ানি ও কাটা পর্যন্ত সব স্তরের কাজে।  এরূপ উদ্যোগ নিয়ে সেসময় পত্রিকায় বিস্তর লেখা হয়েছে। ১৯৭৩-এর জুনে পূর্বদেশে এ রকম একটা বড় সংবাদের শিরোনাম ছিলো ‘চাষিদের সাথে ক্ষেত নিড়াচ্ছে ছাত্ররা।’ সেসময়কার দৈনিক বাংলায় ১৯৭৩-৭৪ জুড়ে এ রকম বহু সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কৃষকের বাড়িতেই ‘কামলা’ হিসেবে এসব স্বেচ্ছাসেবীরা থাকতো, খেতো। সেসময় অন্তত নয়টি কলেজও এ রকম উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে শামিল হয়েছিলো। জাহাঙ্গীরনগরের ভূগোল বিভাগ একপর্যায়ে ষাট একর জমি আবাদের আওতায় এনেছিলো।

কেবল আবাদে যুক্ত হওয়া নয়। অনেক কলেজ সেসময় আশপাশের গ্রাম থেকে নিরক্ষরতা দূর করতে নেমে পড়েছিলো। বগুড়ার আজিজুল হক কলেজে শিক্ষার্থীরা সেসময় শিক্ষার খরচ জোগাতে ও দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হতে কলেজের জমিতে চাষ দিয়েছিলো এবং পুকুরে মাছ ছেড়েছিলো। ১৯৭৩-এ ঢাকার কাছের কাঞ্চন এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী পুরো ছুটিতে শিল্প-কারখানায় শিক্ষানবিশ হিসেবে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে গিয়েছিলো।

সেসময় এমনও দাবি উঠেছিলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটি দেশের চাষাবাদের সঙ্গে সমন্বয় করে করা হোক... যাতে শিক্ষার্থীরা সরাসরি ছুটির সময় কৃষি আবাদে যুক্ত হতে পারে। আমলাতন্ত্র অবশ্য সেটা হতে দেয়নি। ইতিহাসের সেই অসাধারণ মুহূর্তটি বাংলাদেশ দ্রুতই হারিয়ে ফেলে এবং দ্রুতই শিক্ষা ও উন্নয়নের পুরানো উপনিবেশিক পথে ফিরে যায় স্বাধীন দেশটি। কিন্তু ইতিহাস বোধহয় সব পরিবর্তনের দিকচিহ্ন কোথাও জমা  রেখে যায়। পরিবর্তনবাদী তারুণ্য সেই বীজ থেকে প্রাণ জাগায়। অন্তত জাগাতে চেষ্টায় নামে। পুনঃপুন। আজকের ছোট ছোট অনেক তরুণ দলকে দেখে তাই মনে হচ্ছে। পুনশ্চ : আমি উপরে যা লিখেছি, সেসব বিশাল এক কর্মযজ্ঞের চুম্বক কথা মাত্র। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে শিক্ষাঙ্গনের তরুণ-তরুণীদের এ রকম পরিবর্তনবাদী কাজকর্ম নিয়ে অর্থনীতিবিদ আনিসুর রহমানের একটা বইও আছে : ‘যে আগুন জ্বলেছিলো’ নামে। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ