প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পিরিয়ড বিষয়টা যে মেয়েদের জন্য প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার মতোই সাধারণ ব্যাপার, তা আপনার ছেলে বা ভাইকে বুঝতে দিন

ডা. হিমেল বিশ্বাস : সামনেই রোজা, পিরিয়ডের কারণে খুব স্বাভাবিকভাবেই আপনার কয়েকটা রোজা মিস হবে, ব্যাপারটা কি আনকমন? না মোটেই না। আপনি লুকালুকি করেন বলেই অনেকে এটাকে নিয়ে মজা নেয়, ঠাট্টা করে। তাহলে আর কি জানিয়ে দিন, আর লুকালকি করবে না।
আপনার উঠতি বয়সের ভাই বা ছেলেকে আপনার পিরিয়ডের ব্যাপারটা খোলসা করে বুঝিয়ে বলুন। এমনভাবে বলুন যাতে সে বুঝতে পারে, আপনি তার উপর পূর্ণ আস্থা আর বিশ্বাস রেখে বলছেন। যদি আস্থার ব্যাপারটা না বুঝতে পারে, সেটাও বলে দিন তাকে যে, তার উপর আপনার আস্থা আছে বিধায় তাকে ব্যাপারটা বলছেন।

মাসিক ব্যাপারটা যে মেয়েদের জন্য প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার মতোই নরমাল ব্যাপার, তা আপনার ছেলে বা ভাইকে বুঝতে দিন, তাহলে সে এটা নিয়ে হাসিঠাট্টাও করবে না, আবার রোজার মধ্যে বাসায় বসে আপনাকে লুকিয়ে লুকিয়েও খেতে হবে না, হয়তো সেই আপনার খাবারটা এনে দিবে। ছেলেটা ইউনিক হবে, স্মার্ট হবে, স্মার্টলি বড় হবে আরো এক হাজারটা ছেলের থেকে। এ ছেলে আর যাই হোক, বাঁকা চোখে কোনোদিন কোনো বান্ধবীকে বা মেয়ে কলিগকে জিজ্ঞাসা করবে না যে ‘সে রোজা আছে কিনা?’ তাহলে ব্যাপারটা কি হলো বলেন তো? শিক্ষার শুরুটা ঘর থেকেই হলো, সমস্যার সমাধানটা ঘর থেকেই হলো।

অতীব স্বাভাবিক ব্যাপারটাকে আমরা বিশাল এক রহস্যময়ী চাদরে আড়াল করে রাখতে চাই বলেই ওদের কুশিক্ষাটা আড়চোখে তাকানো কোনো বন্ধুর কাছ থেকে হয়। আর সেজন্য সেও আড়চোখে তাকানো শেখে। আরে বাবা, আমি-আপনিই যদি ওদের না শেখাই তাও কি ওদের শেখাটা বন্ধ থাকবে? অবশ্যই না। শিখবে তো অবশ্যই, কিন্তু সেটা হবে ভুল পথে ভুল উপায়ে, হয়ে যাবে কুশিক্ষা। কিন্তু শিক্ষাটা যদি আপনার থেকে হয়, সেটা হবে ওর জীবনের শ্রেষ্ঠা শিক্ষার একটা। এই ভালো জিনিসিটা ওকে এমনভাবে বুঝান যেন প্রশ্ন করে ‘ছেলেদের হয় না কেন মা? কেন আপু?’ যাতে সে আফসোস করে এতো ভালো জিনিসটা সৃষ্টিকর্তা শুধু মেয়েদেরই কেন দিয়েছেন? পরিচিত কেউ বা বন্ধুদের কেউ পিরিয়ড নিয়ে খোঁচা দিলে তাকে সরাসরি প্রশ্ন করুন, সেখানেই সবার সামনেই ‘আপনার বা তোমার মায়ের হতো না?

জানেন তো মা ব্যাপারটা কতোটা সেন্সিটিভ।’ রোজা তো, তার বাসায় নিজেরা খরচ করে ইফতারের আয়োজন করুন, তার মা, বউ সবার মধ্যে পিরিয়ডের ব্যাপারটা আলোচনায় নিয়ে আসুন, সমাধান হবেই।

কর্মস্থলে, রাস্তাঘাটে কথা শুনে এসে তাকে ঝগড়া গালি দিলে কোনোদিন সমাধান হবে না, কোনো জিনিসেরই তা হয়নি। কারণ সমস্যার শুরুটা ঘর থেকেই। ব্যাপারটা যতো রহস্যময় করবেন, ততো ঝামেলা বাড়বে, জটিল হবে। আর দিন শেষে গালির ঝড় উঠাবেন আমাদের এই পুরুষ জাতটার উপর… পুরুষকে বুঝতে দিন… ‘যে নারীর যে কারণ থেকে তোমার জন্ম, সেই কারণে কোনো নারীকে যেন চুপসে থাকতে না হয়। শ্রদ্ধেয় মা, স্নেহধন্য বোন বা প্রিয়তমা স্ত্রী সবাই এই একই লাইনের মানুষ, তাদের সবার পিরিয়ড হয়, আর তা হয় বলেই আমি-আপনি সবাই পৃথিবীর মুখ দেখতে পেরেছি।’ আর ভেবে দেখুন তাহলে আমরা কতোবড় গর্ধব যে, যেখান থেকে জন্ম, শিক্ষার অভাবে, কুশিক্ষার প্রভাবে তা নিয়ে টিটকারি করি, হাসিঠাট্টা করি! লজ্জা লজ্জা! এগিয়ে আসুন, লম্বা একটা দম দিন, এরপর বলা শুরু করুন… জানেন তো, পারিবারিক শিক্ষার ফল কখনো বৃথা হয়নি, ইতিহাস তাই বলেছে, জন্মও তাই বলবে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত