প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পশ্চিমবঙ্গে ভোট হচ্ছে, নাকি প্রহসন ভাষ্য জার্মান বেতারের

মৌরী সিদ্দিকা : পশ্চিমবঙ্গ এখন ১৫ বছর আগের বিহার! আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এমন মন্তব্য করলেন রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়।-ডয়চে ভেলে

২৩ এপ্রিল ছিল সারা ভারতের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও তৃতীয় দফার সংসদীয় ভোট। তার ৭২ ঘণ্টা আগে মমতার ঘনিষ্ঠ মালদহ জেলার পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষকে সরিয়ে দিলো নির্বাচন কমিশন। তাঁকে সরানো রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ওপর নির্বাচন কমিশনের গভীর অবিশ্বাসেরই আরো এক নজির।

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক, যিনি এর আগে বিহারে মুখ্য নির্বাচনি অফিসার ছিলেন, সেই অজয় নায়েক রোববার সাংবাদিকদের সামনে ১০-১৫ বছর আগের বিহারের সঙ্গে আজকের পশ্চিমবঙ্গের তুলনা টেনেছেন। মন্তব্য করেছেন, রাজ্য প্রশাসন এবং পুলিশের ওপর আস্থা হারিয়েছে সাধারণ মানুষ। তাই তারা কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাহারায় ভোট করানোর দাবিতে এত সরব হয়েছেন। ঘটনাচক্রে একই দিনে সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়েছে, যেখানে লাঠি হাতে, গামছা বেঁধে মুখ ঢাকা একদল দুষ্কুতিকে দেখা গেছে, যারা একটি পোলিং বুথের পথ আটকে দাঁড়িয়ে লোকজনকে খেদিয়ে দিতে ব্যস্ত।

লোকসভায় মোট আসন সংখ্যা ৫৪৫ হলেও নির্বাচন হয় ৫৪৩টি আসনে। বাকি দুটি আসন ভারতের অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত। তাদের দুই প্রতিনিধি কে হবেন, তা ঠিক করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি।

নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকের মন্তব্যে বিহারের অরাজকতার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের এখনকার পরিস্থিতির তুলনা টানায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি স্বভাবতই ক্ষিপ্ত। মমতার মতে, নির্বাচন কমিশনের দুই অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিককে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ায় সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তাঁরা এই রাজ্য সম্পর্কে কুকথা বলে আসলে রাজ্যবাসীকে অপমান করছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে ভোট করিয়েও ভোটের ফল অন্য কিছু হবে না বলেও মনে করেন তিনি। মমতা মনে করিয়ে দেন, ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটেও পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হয়েছিল, তার পরেও তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে।

তবে রাজ্য পুলিশের ওপর যে ভরসা রাখা যাচ্ছে না, পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের পরই এ নিয়ে একাধিক রিপোর্ট জমা পড়ে নির্বাচন কমিশনে। সেইসব রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী দফায় এই রাজ্যে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বাড়িয়ে তাদের ৯২.৩% বুথ পাহারার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে রবিবার জানিয়েছেন নির্বাচনি পর্যবেক্ষক নায়েক।

সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অবাধ নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সদিচ্ছা এবং আন্তরিকতাও এক বড় হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। যেমন, একটি ঘটনার কথা সর্বশেষ পঞ্চায়েত ভোটের পর জানিয়েছিলেন লেখক ও শিক্ষক সৌরভ মুখোপাধ্যায়। তিনি জগৎবল্লভপুরের একটি বুথের দায়িত্বে ছিলেন। শাসকদলের মদতপুষ্ট গুন্ডারা যখন সৌরভের বুথে এসে একই হাঙ্গামা করার চেষ্টা করে তারা ব্যালট ছিনতাই হতে দেননি। তবে ব্যতিক্রম হয়নি রাজ্য পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার। সৌরভ জানাচ্ছেন, বন্দুকধারী পুলিশ কনস্টেবল নিষ্ক্রিয় দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরে প্রশ্ন করাতে সেই নিরাপত্তা কর্মীর সরল জবাব ছিল, ‘‘আমি কি মরব নাকি!’’ আরেকজন সিভিক পুলিশ গুন্ডাদের তাণ্ডব দেখে ভয়ে জ্ঞান হারান!

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত