সুজন কৈরী : বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ভবন মালিক, আবাসন ব্যবসায়ীসহ সবারই কমবেশি অবহেলা আছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. আবদুল বাতেন।
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় দুই জনকে গ্রেফতারের পর রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এফ টাওয়ারে অগ্নিকান্ডে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোক প্রকাশ করে বলেন, এফ আর টাওয়ার ভবনটির নির্মান ত্রুটি, অঅনুমোদিত সম্প্রসারন, জরুরী নির্গমন পথের অভাব, পর্যাপ্ত স্মোক ডিটেক্টর গ্যাস ফায়ার ফাইটিং ম্যাটেরিয়ালস ব্যবস্থা না থাকায় এ বিপুল ক্ষয়ক্ষতির কারণ। অভিযুক্ত ফারুক, তাজভিরুল ইসলাম ও লিয়াকত আলী খান মুকুলগণ পারস্পারিক যোগসাজসে চরম অবহেলা ও উদাসিনাতায় সৃষ্ট অগ্নিকান্ডের মাধ্যমে বহু জীবনের নাশ এবং সম্পদের ধ্বংস সাধন করেছেন। এফ আর টাওয়ারকে তারা শুধু অর্থ উপার্জনের কারখানা হিসেবে বিবেচনা করে এবং নিরাপত্তা, মানবিকতা ও সেবার দিকটি উপেক্ষা কারায় এই বিপুল ক্ষতি সাধিত হয়।
আবদুল বাতেন বলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে ফারুক জায়গার মালিক ও ৪৫% অবকাঠামোর মালিক। তাজভিরুল ইসলাম অবৈধভাবে নির্মিত অংশের মালিক এবং ভবনটির ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা কমিটির সভাপতি। রূপায়ন গ্রুপের কর্ণধার লিয়াকত আলী খান বিধিমালা লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা উপেক্ষা করে ভবনটি তৈরী ও বিক্রয় করেছেন। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
তিনি বলেন, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রকৃত গাফিলতি কোথায়, আগুন লাগলে ভবন থেকে বের হওয়ার নির্গমন পথ, অগ্নিকাণ্ডের পর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র ও অগ্নিকাণ্ডের কর্মীদেরা করনীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ছিল কি না, বিল্ডিং কোড মানা হয়েছে কি না এসব খতিয়ে দেখা হবে। আবদুল বাতেন বলেন, আমরা এই মামলায় রাজউক, জমির মালিক, আবাসন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রূপায়ণ- কার কী দায়িত্ব, অবহেলা ছিল, তা খতিয়ে দেখব। এটা সত্য যে, যার যার নির্দিষ্ট ভ‚মিকা পালন না করায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে রাজউক ও আবাসন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব বেশি। ফায়ার সার্ভিসেরও ভূমিকা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো ভবন
তৈরি হলে ফায়ার সার্ভিস, রাজউক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সার্টিফিকেট পাওয়ার পর তা ব্যবহারের উপযোগী হয়। আমরা দেখব, এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ছিল কি না। বিল্ডিং কোড অনুযায়ী, ভবনে যে ধরনের ব্যবস্থা থাকার কথা, তা ছিল কি না।
আব্দুল বাতেন বলেন, ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু হওয়া থেকে ব্যবহার পর্যন্ত যার যা দায়িত্ব ছিল তারা সেগুলো সঠিকভাবে পালন করেছে কিনা আমরা তা নিরূপণ করব। তারা যদি সঠিকভাবে তাদের দায়িত্বগুলো পালন করতো তাহলে এই দুর্ঘটনা হতো না। আমরা সেটাই তদন্তে তুলে ধরব। তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে আমরা দুই জনকে গ্রেফতার করেছি। এর মধ্যে ফারুক ভবনের ৪৫ শতাংশ জমির, তাসভির উল ইসলাম ১৮ থেকে ২৩ তলার মালিক। আমরা তদন্ত প্রতিবেদনে জমির মালিক, ডেভেলপার কোম্পানির ভূমিকা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কেমন ছিল- সেগুলো তুলে ধরব। এছাড়াও রাজউকের পরিদর্শন, ভবন তৈরির শর্তাবলি পূরণ করা হয়েছিল কি-না, ফায়ার সার্ভিসের সার্টিফিকেট দেয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা কেমন ছিল- সেগুলোও দেখা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভবনটির ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান রূপায়ন গ্রুপের অবশ্যই দায় রয়েছে। যারা ফ্লোরগুলো কিনেছে তাদেরকে এখনো ক্রয়ের রেজিস্ট্রেশন কাগজ বুঝিয়ে দেয়নি রূপায়ন। তাই রেজিস্ট্রেশন বুঝিয়ে দেয়ার আগে কিছু ঘটলে তার অবশ্যই দায় রূপায়নের। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রূপায়ণ তাসভিরুল ইসলামকে ফ্লোরগুলো নিবন্ধন করে দেয়নি। তিনি দখলস্বত্বে আছেন। এ কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।