শিরোনাম
◈ বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নতুন নির্দেশ: খেলাপি ঋণ ও ঝুঁকি শনাক্তে তদারকি জোরদার ◈ দুই যুদ্ধ এক সুতোয়: ইউক্রেন-ইরান সংঘাতে বাড়ছে বৈশ্বিক ঝুঁকি—গার্ডিয়ান ◈ চাই‌নিজ তাই‌পে‌কে হা‌রি‌য়ে এশিয়ান গেমস হকির বাছাইপর্ব শুরু কর‌লো বাংলাদেশ ◈ সরকারি-বেসরকারি অফিস চলবে অফিস ৯টা–৪টা, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ দোকানপাট- শপিংমল: মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ◈ মার্চ মাসে রপ্তানি ঘাটতি ২০ শতাংশ ◈ ফুটপাত হকারমুক্ত করতে ঢাকায় ৮ নৈশ মার্কেট চালুর পরিকল্পনা ডিএসসিসির ◈ বিসিবি থে‌কে আরও এক পরিচালক পদত্যাগ করলেন ◈ হরমুজ সংকটে তেল-গ্যাস বাজার অস্থির, বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে: জাতিসংঘ ◈ মূল্যস্ফীতির চাপ, বিনিয়োগে স্থবিরতা—কঠিন বাস্তবতায় আসছে নতুন বাজেট ◈ বিকল্প রুটে জ্বালানি আমদানি, সৌদি আরব থেকে আসছে ১ লাখ টন তেল

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ, ২০১৯, ০৩:৪৭ রাত
আপডেট : ২৪ মার্চ, ২০১৯, ০৩:৪৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তারেক রহমান নেতৃত্বে থাকলে বিএনপির চাকা ঘুরবে না

বিভুরঞ্জন সরকার : বিএনপিতে বিকল্প নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখন কারাগারে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বাইরে। ‘পলাতক’ হিসেবে লন্ডনে থেকে তিনি দল পরিচালনা করছেন। কিন্তু এভাবে প্রবাসী নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপির মতো একটি বড় দল পরিচালনা করা কঠিন। বিএনপির সিনিয়ার নেতারা বিষয়টি উপলব্ধি করলেও প্রকাশ্যে বলতে পারেন না। দল পুনর্গঠনের কথা বলা হলেও তা করা হয় না। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির পাঁচটি পদ শূন্য রয়েছে। বিভিন্ন টানাপড়েনের কারণে এই শূন্যস্থান পূরণ করা যাচ্ছে না।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সহসা কারামুক্তির সম্ভাবনা কেউ দেখছেন না। কোনোভাবে তিনি যদি জেল থেকে বাইরেও আসেন তাহলেও তার পক্ষে দলের নেতৃত্ব দেয়া কতোটুকু সম্ভব হবে সে প্রশ্নও আছে। তার বয়সে হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা তিনি অসুস্থ। তার ইচ্ছা এবং দলীয় কর্মী-সমর্থক-শুভাকাক্সক্ষীদের প্রবল আগ্রহ থাকলেও শারীরিক অবস্থা বেগম জিয়ার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

তারেক রহমান দলের অনেকের কাছেই জনপ্রিয়। যদিও তাকে অপছন্দ করেন এমন লোকের সংখ্যাও বিএনপিতে কম নেই। তবে তারা প্রকাশ্যে তারেকের বিরুদ্ধে কিছু বলেন না। তারেকের সমালোচনা বা বিরোধিতা করে কারো পক্ষে বিএনপি করা সম্ভব নয়। লন্ডনে থেকে তারেক যেভাবে দল পরিচালনা করেন সেটাও অনেকের কাছে অপছন্দ। মুখ ফুটে কেউ কিছু না বললেও তাকে নিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়তে শুরু করেছে। তার হাত ধরে যে বিএনপি বেশিদূর যেতে পারবে না, এটাও অনেকেই বুঝতে পারছেন। আবার এটাও ঠিক যে, তারেকের নির্দেশ অমান্য করার অবস্থাও বিএনপির মধ্যে তৈরি হতে শুরু করেছে। প্রায় সবার কাছেই এটা পরিষ্কার যে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকতে তারেক রহমানের পক্ষে দেশে ফেরা সম্ভব না। তারেক নিজেও সেটা জানেন এবং বোঝেন। সে জন্য যেকোনো উপায়ে সরকার পতনের চেষ্টা করেছে বিএনপি। এখন বিএনপির অনেকেই এটা বুঝছেন যে, যেকোনো উপায়ে সরকার পতন ঘটানো যাবে না। আবার সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল গণআন্দোলন গড়ে তোলার বাস্তব অবস্থাও দেশে বিরাজ করছে না। খুব দ্রুত অবস্থা বদল হবে বলেও মনে হয় না।

দিন দিন বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ফলাফল খুবই হতাশাজনক। নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু হলেও বিএনপির পক্ষে সরকার গঠন সম্ভব হতো বলে মনে হয় না। ডাকসু নির্বাচনেও বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্র দলের ফলাফল লজ্জাজনক। বিএনপি ক্ষমতার বাইরে থেকে এরমধ্যেই ‘ক্লান্ত’ এবং ‘অবসন্ন’। আরো কতো বছর বিএনপিকে ক্ষমতার বাইরে থাকতে হবে সেটাও অনিশ্চিত।

সব মিলিয়ে বিএনপি একটি নাজুক সময় পার করছে। দলটি কবে, কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, তা কেউ বলতে পারেন না। চরম হতাশা নিয়ে বিএনপি নেতারা এখন সুদিন ফেরার আশায় বসে আছেন। তবে কীভাবে সুদিনের দেখা মিলবে তার কোনো পথনির্দেশনা তাদের সামনে নেই। তারেক রহমান যে এখন বিএনপির জন্য বোঝাস্বরূপ সেটা বুঝলেও কেউ বলতে পারছেন না। দেশের ভেতরে যেমন তারেকের নেতিবাচক ভাবমূর্তি, তেমনি দেশের বাইরেও তাকে সন্দেহের চোখেই দেখা হয়। লন্ডনে বসে তিনি নানা ‘মন্দ কানেকশন’ রাখেন বলে মনে করা হয়। তারেককে নিয়ে প্রতিবেশী ভারতের মনোভাবও নেতিবাচক। সেজন্যই তাকে সামনে রেখে বিএনপি বেশিদূর এগোতে পারবে বলে অনেকেই মনে করছেন না।

বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে জিয়া পরিবারের একটি বিশেষ মর্যাদার অবস্থান রয়েছে। খালেদা এবং তারেক দুই জনই যদি নেতৃত্ব থেকে দূরে থাকেন, তাহলে বিএনপির হাল কে ধরবে, তেমন যোগ্য ‘নেতা’ কই? বিকল্প নেতৃত্ব নিয়ে বিএনপির মধ্যে আলোচনা থাকলেও তা কোনোভাবেই জিয়া পরিবারের বাইরে নয়। তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানকে নিয়ে কারও কারও আগ্রহ আছে। এদের কেউ একজন নেতৃত্বে এলে বিএনপিতে নতুন হাওয়া লাগার সম্ভাবনা আছে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু জোবাইদা ও শর্মিলার রাজনীতিতে আগ্রহ আছে বলে শোনা যায় না। কোনো কোনো অতিউৎসাহী তারেক কন্যা জাইমাকেও রাজনীতিতে আনার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে এসব কিছুই এখনো জল্পনা-কল্পনার মধ্যে আছে।

লেখক : গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক. আমাদের নতুন সময়

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়