প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৩ মাসে খেলাপিঋণ কমছে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা

রমজান আলী : ২০১৮ সালের খেলাপি ঋণ বাড়লেও। গত সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর (৩ মাস) খেলাপি ঋণ কমে দাঁড়িয়ে ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। গত সেপ্টেম্বর খেলাপি ঋণ ছিলো ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। সেই হিসেবে গত সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ৫ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা।

তবে এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে সাড়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা। ২০১৭-এর ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা, যা ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ।

গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ব্যাংক খাতে বিতরণ করা ঋণ ছিল ৯ লাখ ১১ হাজার ৪৩০ কোটি ২২ লাখ টাকা। গত সেপ্টেম্বরে বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশ ছিল খেলাপি ঋণ। সেই দিক দিয়ে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার কমে এসেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে খেলাপি ঋণ তুলনামূলকভাবে ‘ভালো’ অবস্থানে রয়েছে সোনালী ব্যাংক।

সূত্র জানা যায়, গত ডিসেম্বর শেষে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমেছে ১ হাজার ৫৭৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এ সময় ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৬০০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর আগে গত সেপ্টেম্বর শেষে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ১৭৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

প্রসঙ্গত: তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছর শেষে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা। পরের অর্থবছরে (২০১৬-১৭) ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। গত বছর (২০১৮) জুন শেষে এটি আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে, ছয় মাসে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমেছে ২ হাজার ৭৩৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এছাড়া খেলাপি ঋণ কমেছে কৃষি ব্যাংক, রুপালি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংকের।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, খেলাপি ঋণের অর্ধেকের বেশিই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয় ব্যাংকে (সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএল)। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ৪৮ হাজার ৬৯৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। ওই সময় পর্যন্ত এই ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ছিল এক লাখ ৬২ হাজার ৫২০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ সেই হিসাবে এ খাতের ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের ২৯ দশমিক ৯৬ শতাংশই খেলাপি।

এছাড়া গত ডিসেম্বর শেষে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ৩৮ হাজার ১৩৯ কোটি ৮৫ কোটি টাকা; যা ওই সময় পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পাঁচ দশমিক ৫৪ শতাংশ। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ছিল ছয় লাখ ৮৮ হাজার ৯৩৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

আলোচ্য সময়ে বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৮৮ কোটি তিন লাখ টাকা, যা এ খাতের ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের ছয় দশমিক ৪৭ শতাংশ। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে কাযর্রত বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ছিল ৩৫ হাজার ৩৬৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

এছাড়া বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৭৮৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যা এই দুটি ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের ১৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এই দুটি ব্যাংকের বিতরণ করা ঋণের স্থিতি ছিল ২৪ হাজার ৬০১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

সব মিলিয়ে গত ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ৯৩ লাখ ৯১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর সঙ্গে অবলোপন করা খেলাপি ঋণ যোগ করা হলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ৩৩ হাজার ২৩২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্তঅবলোপন করা খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ৩৯ হাজার ৩২১ কোটি টাকা।

বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের ৩ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা, ফারমার্স ব্যাংকের (নতুন নাম পদ্মা) ৩ হাজার ৭০ কোটি টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংকের ২ হাজার ১৮ কোটি, ইউসিবির ১ হাজার ৯০৪ কোটি, এবি ব্যাংকের ১ হাজার ৬৬৫ কোটি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের দেড় হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়েছে। খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে খেলাপি ঋণ নবায়ন বা পুনঃতফসিলের চাপ ছিল লক্ষ্য করার মতো। তাছাড়া ব্যাংকগুলোও বছর শেষে যাতে স্থিতিপত্রের অবস্থা ভালো হয়, সে লক্ষ্যে ডিসেম্বরের আগে ঋণ আদায় জোরদার করে। সে কারণেই গত সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ কমে এসেছে বলে আমরা মনে করি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত