প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কমান্ডো অভিযানে বিমান ছিনতাইকারী নিহত(ভিডিও)

সারোয়ার জাহান : চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ময়ূরপঙ্খী  উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী ওই অস্ত্রধারীর যুবক কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়েছেন। সেনাবাহিনীর বিশেষ কমান্ডো দলের সঙ্গে র‌্যাব, পুলিশের সম্মিলিত অভিযানে ওই অস্ত্রধারী নিহত হন।

রোববার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং এরিয়া কমান্ডার (চট্টগ্রাম) মেজর জেনারেল এস এম মতিউর রহমান।

মেজর জেনারেল মতিউর রহমান বলেন, ছিনতাইকারী একজন ছিলেন। তার বয়স অনুমানিক ২৫-২৬ বছর। ছিনতাইকারীকে নিবৃত করার জন্য আমাদের কমান্ড বাহিনী প্রথমে তাকে গ্রেপ্তার করার বা স্যারেন্ডার করার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলো। কিন্তু সে এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করলে তার ওপর স্বাভাবিক অ্যাকশন যেটা সেটাই হয়েছে। আমাদের সাথে গোলাগুলিতে ছিনতাইকারী প্রথমে আহত এবং পরবর্তীতে নিহত হয়।’

কমান্ডো অভিযানে হলি আর্টিজান রেস্তোঁরায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানের নেতৃত্বে থাকা লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরুল ছিলেন বলে জানান মেজর জেনারেল মতিউর রহমান।

মতিউর রহমান বলেন, ‘আজ বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিটে আমাদের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিমানবাহিনী প্রথম জানতে পারে যে, বিমানটি হাইজ্যাক হয়েছে। বিমানটি ৫টা ৪১ মিনিটে এখানে অবতরণ করে। অবতরণ করার পরে এখানে উপস্থিত বিমানবাহিনী, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে ইমারজেন্সি সিসুয়েশন ম্যানেজম্যান্ট করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৬টা দিকে এখানে আমাদের অ্যাপ প্যারাকমান্ড ব্যাটালিয়নের সিইও এবং তার দলবলসহ বিএন ঈসা খান অনেক আগে থেকেই অন্য কাজে এখানে মোতায়েন ছিল। সেখান থেকে সন্ধ্যা ৬টায় জানানোর পরে তারা দ্রুততম সময়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয় এবং অত্যন্ত সফল একটা অভিযান পরিচালনার মধ্যদিয়ে এই ছিনতাইয়ের অবসান হয়।’

এর আগে, বাংলাদেশ বিমানের নতুন উড়োজাহাজ ময়ূরপঙ্খী ১৪২ জন যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু নিয়ে ঢাকা থেকে দুবাইয়ে রওনা দেয় আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায় উড়োজাহাজটি। চট্টগ্রাম হয়ে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজটি বিজি-১৪৭ ফ্লাইট হিসেবে দুবাই যাচ্ছিল।

উড়োজাহাজটিতে থাকা একাধিক ক্রু ও যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকাশে ওড়ার পরপরই উড়োজাহাজটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়। পুরো কাজটি করেন অস্ত্রধারী এক ব্যক্তি।

একজন ক্রু জানান, সাড়ে চারটায় কিছু সময় পর ময়ূরপঙ্খী আকাশে প্রায় ১৫ হাজার ফুট ওপরে দিকে উড়ে যাচ্ছিল। তখন উড়োজাহাজের ভেতরে যাত্রীদের আসনে থাকা এক ব্যক্তি উঠে ককপিটের দিকে আসেন। এ সময় ওই ব্যক্তি এক ক্রুর কাছে যান। কাছে গিয়ে তিনি ওই ক্রুকে ধাক্কা দেন এবং সঙ্গে সঙ্গে একটি পিস্তল ও বোমাসদৃশ একটি বস্তু বের করে বলেন, ‘আমি বিমানটি ছিনতাই করব। আমার কাছে পিস্তল ও বোমা আছে। ককপিট না খুললে আমি বিমান উড়িয়ে দেব।’ এর মধ্যে অন্য কেবিন ক্রুরা ককপিটে থাকা পাইলট ও সহকারী পাইলটকে গোপনে সাংকেতিক বার্তা দেন যে উড়োজাহাজে অস্ত্রধারী আছে, উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা হচ্ছে। ঠিক এ সময় উড়োজাহাজটি চট্টগ্রাম ও ঢাকার মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থান করছিল।

ওই ক্রু বলেন, এর মধ্যে পাইলট মো. শফি ও সহকারী পাইলট মো. জাহাঙ্গীর চট্টগ্রামগামী উড়োজাহাজটির ককপিটের দরজা বন্ধ করে দেন এবং কৌশলে জরুরি অবতরণের জন্য চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে বার্তা পাঠান। উড়োজাহাজে থাকা একটি সূত্র জানিয়েছে, ককপিটের দরজা না খোলায় অস্ত্রধারী ব্যক্তিটি চিৎকার করছিলেন। একপর্যায়ে ওই অস্ত্রধারী উড়োজাহাজের ভেতরে ‘বিস্ফোরণের’ মতো ঘটান। ততক্ষণে উড়োজাহাজটি চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করে। উড়োজাহাজ অবতরণের পর কৌশলে উড়োজাহাজের ডানার পাশের চারটি ইমারজেন্সি গেট দিয়ে যাত্রীরা নেমে পড়েন।

ময়ূরপঙ্খী উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটি ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, আর্মড পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উড়োজাহাজের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে ওই অস্ত্রধারীকে বের করে আনে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ওই উড়োজাহাজ থেকে একজন অস্ত্রধারীকে বের করে আনা হয়। তাঁকে রানওয়েতে রাখা হয়।

যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে বলে শুরুতেই জানান বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মিরাজ।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র সন্ধ্যা সাতটার দিকে বলেন, উড়োজাহাজটি থেকে যাত্রী ও ক্রুরা বেরিয়ে গেছেন। কথিত অস্ত্রধারী উড়োজাহাজের ভেতরেই ছিলেন। তাঁর কাছে কী ধরনের অস্ত্র আছে কিংবা গোলাবারুদ আছে কিনা, সেটা স্পষ্ট নয়। নতুন উড়োজাহাজটিকে রক্ষা করাই প্রধান কাজ। উড়োজাহাজটিকে অক্ষত রেখে অস্ত্রধারীকে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। শেষ খবরে জানা যায়, উদ্ধার কৌশল সফল হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই অস্ত্রধারী একজনকে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশ বিমানের একটি সূত্র জানিয়েছে, ১৬২ আসনের ময়ূরপঙ্খী উড়োজাহাজে ইকোনমি ক্লাসে ১৩৩ জন ও বিজনেস ক্লাসে নয়জন যাত্রী ছিলেন। এ ছাড়া পাঁচজন ক্রু, এর মধ্যে দুজন নারী ছিলেন। ককপিটে দুজন পাইলট ছিলেন। উড়োজাহাজটি ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিমানের বহরে যুক্ত করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত