প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তরুণদের জ্ঞান বিকাশে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের বিরামহীন পথ চলা

মঈন মোশাররফ : গ্রামে প্রচলিত কথা আছে ভিক্ষুকের পায়ে লক্ষ্মী । ভিক্ষা পেতে হলে হাঁটতে হয়। যে যত হাঁটবে তার ততো ভিক্ষা। আমি হাঁটতে ছিলাম বোকার মতো, নির্বোধের মতো। অধিকাংশ জায়গায় থেকে প্রত্যাখ্যান হয়েছি। স্কুলের শিক্ষকেরা আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন, তারা বলতেন ‘পইড়া পড়া নষ্ট’। অর্থাৎ পাঠ্য বইয়ে বাহিরে কোনো বই পড়া যাবে না । আমি তাদের কাছে বার বার গিয়েছি। তখন আমি শিক্ষক। আমি মানুষের যোগ্যতা বলতে বুঝি মানুষের চেতনার যোগ্যতা, মানুষের রুচির যোগ্যতা, মানুষের স্বপ্নের যোগ্যতা এবং মানুষের আনন্দের যোগ্যতা । আমি সেই পথে কাজ করতে শুরু করলাম। যদি সারা দেশকে আমরা একটা বড় স্বপ্নের মধ্যে জাগিয়ে তুলতে পারি তবে তারা যেদিন এই দেশের দায়িত্ব পালন করবেন তখন বাংলাদেশকে আমরা বড় বাংলাদেশ হিসেবে দেখতে পাবো। সম্প্রতি দ্য ডেইলিস্টার বাংলার সঙ্গে একান্ত সক্ষাৎকারে এসব কথা বলছিলেন, মানুষ গড়ার কারিগর অধ্যাপক আব্দুল্লা আবু সায়ীদ।

মানুষ ছোট এবং জাতি বড় এটা কখনো হতে পারে না। কাজেই মানুষকে বড় করতে হবে। এখন কোথায় যাবো কার কাছে গেলে তরুণদের পাবো। বৃদ্ধদের জ্ঞানের কাছে নিয়ে এসে আমি কি করবো। তারা দুদিন পর মারা যাবে। তাদের মাথা শুকিয়ে গেছে, তারা নতুন কিছুকে আর নিতে পারে না। আমি তাজা টাটকা তরুণদের কাছে গেলাম। তরুণদের খুজতে লাগলাম স্কুলে স্কুলে। দশ বছর একটানা এবং আরো পাঁচ বছর আমি সারা দেশের স্কুলে স্কুলে গিয়েছি। এবং তরুণদের খুঁজে ফিরেছি। তাদের বুঝিয়েছি। কারণ জ্ঞানের বিকাশ ছাড়া জতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ একজন কীর্তিমান বাঙালী। তিনি বাংলাদেশের বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন সমাজ সংস্কারক। তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক এবং ষাটের দশকের প্রতিশ্রুতিশীর কবি। তার জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, যা বাংলাদেশে আলোকিত মানুষ তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ‘তরুণদের জ্ঞানের বিকাশ ঘটলে দেশ ও জাতির উন্নয়ন হবে’ এই ব্রত নিয়ে বিরামহীন পথ চলছেন,অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ।

তবে শিক্ষক হবার ইচ্ছেটা জেগেছিলো তার বাবার কাছথেকেই। তার বাবা এবজন শিক্ষক ছিলেন। তাদের বাড়ির দুতালা একটি ঘর ছিলো । তার বাবা একদিন তাকে ডেকে পাঠালেন। ঘরে গিয়ে তিনি দেখলেনে শুধু বই আর বই যেন বইয়ের রাজ্য। সেদিন তার বাবা তাকে বলেছিলেন ‘নলেজ ইজ পাওয়ার’

বর্তমানে অনেক মেধাবী লেখক তার হাতধরে উঠে আসছে, তার মধ্যে আছেন, আব্দুল মান্নান সৈয়দ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, নির্মলেন্দু গুন, আবুল হাসান, মহাদেব সাহা আরো অনেকে । জ্ঞানের বিকাশ ঘটাতে তিনি অনলাইন লাইব্রেরি তৈরি করেছেন । আছে ভ্রাম্যমান লাইব্রেরি। ২৫০ উপজেলার ১৪ হাজার স্কুলে তার প্রতিষ্ঠান। তাদের লক্ষ্য ৫০০ উপজেলার ৩০০০০ হাজার স্কুলে যাতে এটা চলে । সব মিলিয়ে ২৮ লাখ ছেলে মেয়ে পড়াশুনা করে। তাদের লক্ষ্য তারা এটা কে ৫০ থেকে ৫৫ লখে পৌঁছাবেন । লক্ষ্য বাস্তবায়ন হলে, শিক্ষা , আলো, মানবিক মূল্যবোধ, বড় দৃষ্টি ভঙ্গি নিয়ে নুতন প্রজন্ম আসবে। মানুষকে বড় করতে হবে এটার নামই আলোকিত মানুষ। এই লক্ষ্য নিয়েই বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়। আবদুল্লাহ আবু সাঈদ এভাবেই তরুণদের মাঝে জ্ঞানের বিকাশ ঘটিয়ে দেশ জাতির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত