প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুখোমুখি অবস্থানে আওয়ামী লীগ

যুগান্তর : আসন্ন ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি এবং উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাই পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়াচ্ছেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট এতে অংশ নিচ্ছে না।

ফলে এসব নির্বাচনে দলীয় এবং স্বতন্ত্র অধিকাংশ প্রার্থীই শাসক দল আওয়ামী লীগের নেতা বা কর্মী। উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান দুই সিটির ৩৮টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর- সব ক্ষেত্রে প্রায় একই অবস্থা। কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না।

এসব ক্ষেত্রে দলের ঐক্য সংহত রাখা নিয়ে হাইকমান্ড কিছুটা চিন্তিত। প্রার্থিতা নিয়ে বা ভোটে জয় নিশ্চিত করতে গিয়ে নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়ায় কি না সে বিষয়ে আগে থেকেই সাবধানতা অবলম্বন করছেন শীর্ষ নেতারা।

মনোনয়ন পেলেই জয় নিশ্চিত- এমন ধারণা থেকেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির ৩৮টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে শাসক দলের ৮ জন করে প্রার্থী হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে দলের সমর্থন পাওয়ার কথা একজন। বাকিরা দলীয় নেতাকর্মী হলেও স্বতন্ত্রভাবে মাঠে থাকছেন।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শাসক দলের নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। উপজেলায়ও একই অবস্থা। চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ নেতা। প্রতি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে গড়ে দলের ৫ জন নেতা মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।

একজন পাবেন দলীয় প্রতীক। বাকিরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন এমন নয়। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করার জন্য আওয়ামী লীগের অন্য নেতাকর্মীরাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন- এমন কৌশল নিতে যাচ্ছেন দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। ফলে এ পদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে থাকবেন দলের অন্য নেতা ও তার কর্মী-সমর্থকরা।

ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও একই অবস্থা। দলীয় নেতারাই মনোনয়ন নিশ্চিতের চেষ্টা করছেন আগ্রহী প্রার্থীরা। উভয় পদে ঘুরেফিরে প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই প্রার্থী হবেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

একই দলের নেতা বলে কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না। নিজের প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। এতে কে বাদ পড়ছেন বা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেদিকে কেউ খেয়াল করছেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দলটির স্থানীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, প্রতিটি পদে দলের একাধিক প্রার্থী আছেন। আমরা চেষ্টা করছি একক প্রার্থী নির্ধারণে। এ নিয়ে আমরা একাধিক বৈঠকও করেছি। শুক্রবার দলীয় সভানেত্রীর (শেখ হাসিনা) নেতৃত্বে দলের স্থানীয় মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বৈঠকে নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নবগঠিত ৩৬টি ওয়ার্ডে নির্বাচন এবং দুটি ওয়ার্ডে উপনির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন আগামীকাল শনিবার।

প্রতি ওয়ার্ডে কমপক্ষে ৮ জন দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ভোটের মাঠে থাকলেও একক প্রার্থী নির্ধারণে সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন সোমবার।

এ ছাড়া প্রথম পর্বের ৮৭টি উপজেলা নির্বাচনে প্রতি পদে গড়ে ৫ জন করে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে জানা যায়, দলীয় কোন্দল এড়াতে ঢাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদ উন্মুক্ত রাখার কৌশল নিতে পারে দলটি।

আজ শুক্রবার দলের স্থানীয় মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের মুখোমুখি হবে আওয়ামী লীগ। উন্মুক্ত না হলেও ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের নেতাই হবেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এদিকে আগামীকাল শনিবার উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্তে আওয়ামী লীগের স্থানীয় মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নির্বাচন অর্থবহ ও উৎসবমুখর করতে দলের অন্য প্রার্থীদের ভোটের মাঠে রাখা যায় কিনা সেটি নিয়ে আলোচনা হবে বৈঠকে। সিদ্ধান্ত হলে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও আওয়ামী লীগের মুখোমুখি হবে আওয়ামী লীগ।

এ ছাড়া একক প্রার্থী নির্ধারণে কঠোরতা দেখালে বিদ্রোহী হয়েও দলীয় প্রার্থীর মুখোমুুখি হতে পারে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৩৮টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের সমর্থনপ্রত্যাশী তিন শতাধিক। প্রতি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন থানার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, বিলুপ্ত ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, দল সমর্থক বর্তমান চেয়ারম্যান, মেম্বার, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের বিভিন্ন ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্তরা এসব ওয়ার্ডের দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশী।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য- এমন একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৩৮টি ওয়ার্ডে বিএনপির কোনো প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থীকে দলীয় সমর্থন না দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এমন একটি ইঙ্গিত প্রত্যেক প্রার্থীই জেনে গেছেন। এ নির্বাচনে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও উৎসবমুখর করতেই এ সিদ্ধান্ত। শুক্রবার (আজ) চূড়ান্তও হতে পারে।

নেতারা জানান, উপজেলা নির্বাচনে তৃণমূলের পাঠানো তালিকার বাইরেও দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করায় প্রার্থীর হিড়িক পড়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতার সংখ্যাধিক্যে জটিলতায় পড়েছে আওয়ামী লীগ। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় তিন পদেই একজন করে দলীয় প্রার্থী দিতে হবে। কিন্তু আগ্রহী প্রার্থী বেশি হওয়ায় তৃণমূল আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্বের আভাস লক্ষ করছে হাইকমান্ড। অপরদিকে বিএনপি ও বাম গণতান্ত্রিক জোট ঘোষণা দিয়ে এ নির্বাচন বর্জন করেছে।

বিএনপিবিহীন নির্বাচনে জয় নিশ্চিতে দলীয় মনোনয়ন দিলে বঞ্চিতরা ক্ষোভ ও হতাশায় বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারেন, দলে বিশৃঙ্খলার শঙ্কা সৃষ্টি হতে পারে। সব মিলিয়ে নির্বাচন অর্থবহ করতে উন্মুক্ত কিংবা বিকল্প কোনো চিন্তা করা যায় কিনা তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে আওয়ামী লীগ।

২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাবেক মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর পদটি শূন্য হয়। এ পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলাম। এ পদে দলের একমাত্র প্রার্থী শক্তিশালী হওয়ায় জয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে না আওয়ামী লীগকে। একই দিন উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নবগঠিত ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

গত রোববার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রথম ধাপের নির্বাচনে ৮৭টি উপজেলায় ভোট হবে ১০ মার্চ। এ জন্য চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন আগামী সোমবার। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে পরদিন মঙ্গলবার এবং প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৯ ফেব্রুয়ারি। এবার ৪৮১টি উপজেলায় মোট পাঁচ ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ধাপে ১২৯টি উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুসারে এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৮ ফেব্রুয়ারি। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিন ২০ ফেব্রুয়ারি।

আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি। ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের তফসিল ঘোষণা করা হলেও বাকি তিন ধাপের খসড়া তফসিল প্রস্তুত করেছে কমিশন সচিবালয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত