প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল সন্তানদের করুণ আর্তনাদ
রাজস্ব খাত থেকে বেতন ভাতা দেয়ার দাবি

হীরা, বরিশাল প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ডিজিটাল সন্তানরা ভাল নেই। আর্থিক অনটনে ইউনিয়ন এবং পৌরসভার তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তারা এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই ইউডিসি উদ্যোক্তারা বিশ্ব মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাছে ডিজিটাল সেন্টারগুলোকে স্থায়ীকরনসহ উদ্যোক্তাদের রাজস্ব খাত থেকে বেতন ভাতার আওতায় নিয়ে আসার জন্য জোর দাবি করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে গতিশীল ও প্রযুক্তি নির্ভর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভায় তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে ইউডিসি (ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার) ও পিডিসি (পৌরসভা ডিজিটাল সেন্টার) চালু করেন। এতে করে একজন করে পুরুষ ও একজন করে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করার সুযোগ পায়। পরবর্তীতে ওই সব উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন সময় সরকারীভাবে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা হয়। ফলে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তারা প্রত্যন্ত এলাকার জনসাধারনের মাঝে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী সেবা প্রদান করে বেশ সুনাম অর্জন করে বর্হিবিশ্বে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জল করেন।

ফলশ্রুতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় প্যারেড স্কোয়ারে ২০১৪ সালের ১১ নভেম্বর ডিজিটাল সেন্টারের চতুর্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল সন্তান হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদেরকে সরকারীভাবে পরিচয়পত্র প্রদান করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উদ্যোক্তারা ২০১০ সাল থেকে নামমূল্য ফি নিয়ে ইউনিয়নের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সরকারী-বেসরকারী সেবা দিয়ে আসছেন। বর্তমান সরকারের বিগত মেয়াদে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেয়া হলে আন্দোলনে নামেন উদ্যোক্তারা। পরবর্তীতে হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগের জন্য পৃথকভাবে উচ্চ আদালতে কয়েকটি রিট করেন উদ্যোক্তারা। রিটের শুনানীতে উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে একটি রিট নিস্পত্তি করা হলেও নিয়োগের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে। এনিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলাও করা হয়েছে।

উদ্যোক্তারা আরও জানান, যেসব জেলায় হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেয়া হয়েছে সেসব ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের কাজের পরিধি কমে গেছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের কাজগুলো বিনামূল্যে না করলে ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবদের রোষানলে পরতে হচ্ছে তাদের। ফলে এসব উদ্যোক্তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মানববেতর জীবনযাপন করছেন। এনিয়ে অনেক উদ্যোক্তারা ডিজিটাল সেন্টারে কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার পরিচালক ফোরামের সভাপতি মাইনুল ইসলাম অপু বলেন, উদ্যোক্তারা নিজেদের স্বপ্ন বির্সজন দিয়ে বিশ্ব মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবানে সারাদিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ কর্মক্ষেত্রেই এসব উদ্যোক্তারা নানান বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছেন। যা উদ্যোক্তাদের ব্যথিত করছে। এক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনায় উদ্যোক্তাদের স্থায়ীকরনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তারা জোর দাবি করেন।

ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এম. আবুল হাসনাত বলেন, অনেক উদ্যোক্তা ডিজিটাল সেন্টারে কর্মরত থাকার ফলে ইতোমধ্যে চাকরির বয়স পার করে দিয়েছেন। ফলে এসব উদ্যোক্তারা অন্যত্র চাকরি করার সুযোগ হারিয়ে ফেলেছেন। এমনকি উদ্যোক্তাদের চাকরি স্থায়ীকরনের জন্য রিট পিটিশন করে অনেক উদ্যোক্তারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। তাই তারা ডিজিটাল সেন্টারকে স্থায়ীকরনসহ উদ্যোক্তাদের রাজস্বখাত থেকে বেতনভাতা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত