প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৯ হাজার কোটি রুপির জালিয়াতি মামলায় অভিযুক্ত বিজয় মাল্যকে ভারতে ফেরত পাঠাতে রাজি হয়েছে ব্রিটেন

সালেহ্ বিপ্লব : তিনি কিংফিশারের কিং, যাকে বলা হতো ভারতের রিচার্ড ব্রনসন। বিলাসবহুল জীবন যাপনের জন্য যাকে বলা হতো কিং অব গুড টাইমস। আসলেই রাজা ছিলেন ছিলেন তিনি। নিজস্ব দ্বীপ ও বিমান, ধনসম্পদ, জীবনযাপন, টাকার লেনদেন- সব কিছুতেই রাজসিক ভাবসাব, খামখেয়ালিপনাতেও রাজকীয় ছিলেন বিজয় মাল্য। ভারতের বিয়ার ইন্ডাস্ট্রির রাজা ছিলেন, প্রতিটি বিজনেস গেমও খেলেছেন বিগ স্টেকের জুয়ার মতো। ব্যক্তিগত জীবনে, প্রেম ও বিয়েতে অনেক কাহিনীর জন্ম দিয়েছেন বিজয় মাল্য। পারিবারিকভাবে বিশাল ব্যবসার উত্তরাধিকার এই মানুষটি রাজনীতিতেও চমক দেখান। রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন দু’বার। বিবিসি

ধনী পিতার সন্তান বিজয় মাল্যের ধনকুবের হিসেবে উত্থান ঘটে কিংফিশার বিয়ারের মাধ্যমে। এরপর ভারতের ক্রিকেট ও মটর ওয়ান রেসিং এ টাকা ঢালেন, লকলকিয়ে ওঠে তার লাভ ও খ্যাতির ডালপালা। ফোর্স ইন্ডিয়া ফরমুলা ওয়ান টিম লিমিটেড-এর অন্যতম পার্টনার ছিলেন অনেক বছর। ২০০৫ সালে বিজয় মাল্য কিংফিশার এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠা করেন। বন্ধ হয়ে যাওয়া এই এয়ারলাইন্সকে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।২০০৮ সালে সারাবিশ্বে এয়ারলাইন্স ব্যবসায় যে ধস নেমেছিলো, সবাই সামাল দিতে পারলেও কিংফিশার ধাক্কা সইতে পারেনি। অনেক টাকার ধারদেনায় পড়ে যান তিনি, কোম্পানীর স্টাফদের বেতন-ভাতা দিতে না পারায় তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন। তা সত্ত্বেও বেপরোয়া গতির রাশ টানেননি, ২০০৮ সালে আইপিএল-এর টিম রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর ফ্র্যাঞ্চাইজি হন।

২০১২ সালে বিজয় মাল্য তার ইউনাইটেড স্পিরিটস গ্রুপের বেশির ভাগ শেয়ার বিক্রি করেন ব্রিটেনের ড্রিংকস জায়ান্ট ডিয়োগোর কাছে। এই সুবাদে অনেকটা হালকা হওয়ার সুযোগ পান বিজয়। ইউনাইটেড স্পিরিটস-এর দেনা পরিশোধ করেন, নতুন করে অর্থ যোগান দেন কিংফিশার এয়ারলাইন্সে। কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানোর সৌভাগ্যকে আর ছুঁতে পারেননি তিনি। সে বছরই এয়ারলাইন্সটি বন্ধ হয়ে যায়। পর পর পাঁচ বছরে লোকসান গুনছিলো কিংফিশার, কেউ আর ঋণ দিতে চাইছিলো না বিজয় মাল্যকে। এক পর্যায়ে রুট পারমিট বাতিল হয়ে যায়, মুখ থুবড়ে পড়ে ‘কিং অব গুড টাইমস’-এর কিংফিশার এয়ারলাইন্স। টালমাটাল অবস্থার মধ্যেও হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে খেলেছেন বিজয় মাল্য, বিমান কোম্পানি মুখ থুবড়ে পড়ে যাওয়ার পর সব মিলিয়ে দারুণ বেকায়দার মুখে পড়েন ভারতের বিতর্কিত এই গত বছর ফোর্স ইন্ডিয়া লিমেটেডের পরিচালক পদ থেকে সরে দাঁড়ান। কর্মীদের বেতন-ভাতা ও প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা খরচসহ বিজয় মাল্যের দেনার পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

সবশেষে ৯ হাজার কোটি রুপির আর্থিক জালিয়াতির মামলা কাঁধে নিয়ে দেশ ছাড়েন বিজয় মাল্য। ব্যাংকের মামলা আর পাওনাদারদের এড়িয়ে ব্রিটেনে ভালোই ছিলেন তিনি। কিন্তু তাকে ফেরত দিতে বার বার অনুরোধ জানিয়ে আসছিলো ভারত। অবশেষে রোববার তাকে ফিরিয়ে দেয়ার প্রস্তাবে সম্মত হয় ব্রিটেন। সেদেশের স্বরাষ্ট্র সচিব সাজিদ জাভেদ এ সংক্রান্ত চিঠি জারি করলে বিজয় মাল্যকে দেশে ফিরিয়ে আনার পথ বাধামুক্ত হয়ে যায় ভারতের জন্য। যদিও ব্রিটিশ সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য ১৪ দিন সময় পাচ্ছেন তিনি। তবে শেষ অবধি কোনো চেষ্টাই বোধহয় সফল হবে না, দেশে ফিরে ৯ হাজার কোটি রুপির জালিয়াতি মামলার বিচারের মুখোমুখি হতে হবে তাকে, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি তেমনই মনে হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত