শিরোনাম
◈ অনলাইন ঝড় থেকে রাজপথে: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, থাকছেন সোনম ওয়াংচুক-ও ◈ ১১ দলীয় জোটে আবার ভাঙনের গুঞ্জন, বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ১০ জুন আসতে পারে ঘোষণা ◈ পোষা বিড়াল কি বাড়ায় মানসিক রোগের ঝুঁকি? নতুন গবেষণায় আলোচনার ঝড়! ◈ দেশের বাজারে টানা দুই দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে ভরিপ্রতি ৮ হাজার ৭৪৮ টাকা ◈ প্রথম সফরে মালয়েশিয়া কেন বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান? : ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন ◈ শত্রু দেশ যুক্তরা‌স্ট্রে খেলা ইরা‌নের, দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটা‌তে মনপ্রাণ উজাড় ক‌রে খেল‌বেন ইরানি ফুটবলাররা ◈ বিদেশি ফ্রাঞ্চাইজি লি‌গে খেলার জন‌্য অবসর নেয়া বন্ধ কর‌তে কড়া নিয়ম আনার পথে বিসিসিআই ◈ গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের ১০০ দিন: স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও প্রবৃদ্ধির নতুন সমীকরণ ◈ ভূমি কর্মকর্তাদের ২৫ জুনের মধ্যে সম্পদের হিসাব দেওয়ার নির্দেশ ভূমি মন্ত্রণালয়ের ◈ দ. এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য বাংলাদেশ ‘কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ’ দেশ: তুরস্ক

প্রকাশিত : ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ০৪:৫৬ সকাল
আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ০৪:৫৬ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সাবেক ফুটবলার গণি মিয়া দিনে শ্রমিক, রাতে স্বেচ্ছাসেবী

চন্দন কুমার সরকার : মোহাম্মদ আব্দুল গণি মিয়া (৬০) সাবেক ফুটবলার, কুড়িগ্রামের উলিপুর দোকান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালত করছেন প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। সকলের পরিচিত এই গণি ভাই দিনে কাজ করেন কাপড়ের দোকানে আর রাতে হয়ে যান মসজিদের পরিচ্ছন্নতা কর্মী। সূত্র : বাংলা
অনেকদিন থেকেই দেখে আসছি তিনি প্রায় প্রতিদিনই রাতের বেলা উলিপুরের বড় মসজিদ বলে পরিচিত উলিপুর মসজিদুল হুদার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। হঠাৎ করেই সেদিন জানতে চেয়েছিলাম গণি ভাই... এই যে আপনার নিয়মিত দোকানের কাজ শেষ করে মসজিদ পরিষ্কার করার কাজ করেন প্রতিদিন, এটা তো আপনার কাজ না, কেন করেন? উত্তরে বললেন, ‘আল্লাহর ঘরের কাজ করে আনন্দ পাই।’ প্রায় প্রতিদিনই রাতের বেলা মসজিদ ভবনের পুরোটাসহ বাথরুম পর্যন্ত পরিষ্কার করে তারপর বাড়ি যান তিনি।
উলিপুর পৌরসভার তিন নং ওয়ার্ডের কাজীরচক গ্রামের মৃত আব্দুল জলিল মিয়ার পুত্র আব্দুল গণি মিয়া ব্যক্তিগত জীবনে ছয় সন্তানের জনক। তিন ছেলে ও তিন মেয়ে সকলের বিয়ে হয়েছে, সবাই যার যার মতো করে প্রতিষ্ঠিত। তিনি এক সময় খুব ভালো ফুটবল খেলতেন, খেলায় অংশ নিতে ভারতেও গিয়েছিলেন। এখনো প্রতি বছর জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে বছরে একবার ভাতাও পেয়ে থাকেন।
দিনের বেলায় কেপি সাহা অ্যান্ড বস্ত্রালয় নামে যে কাপড়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন তার মালিক অকুল কৃষ্ণ সাহা বলেন, ‘গণি ভাই আমাদের অনেক পুরোনো ও খুবই বিশ্বস্ত একজন কর্মী। তিনি আমাদের দোকানের কাজ শেষ করে রাতে মসজিদ পরিষ্কার করার যে কাজটা করেন এটা নিয়ে বলার কিছু নেই, এটা তার মহত্বের পরিচয়।’
উলিপুর মসজিদুল হুদার সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জানান, গণি ভাই যে কাজটা করেন এটা তো মেথর বা সুইপারের করার কথা। কিন্তু তিনি নিজে থেকেই কাজটা খুব আনন্দের সহিত করেন, তিনি কখনোই এর পারিশ্রমিক চাননি। তবে আমরা খুব সামান্য কিছু তাকে দিই। উলিপুর বণিক সমিতির সভাপতি সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে গবা বলেন, ‘গণি মিয়া ব্যক্তিগত জীবনে খুব ভালো মানুষ। প্রায় দিনই তাকে দেখি আপন মনে মসজিদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করে যাচ্ছেন।’
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি উলিপুর উপজেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড দেলোয়ার হোসেন জানান, গণি ভাই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে সর্বদা বলিষ্ঠ কণ্ঠ। দীর্ঘদিন ধরে উলিপুর দোকান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রয়েছেন। নিজের দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি উনি প্রতিদিন রাতে মসজিদে যে কাজটা করেন এটার জন্য তাকে লাল সালাম ও শুভেচ্ছা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়